নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হল অ্যাকটিভ সিটিজেনস রিজিওনাল অ্যাচিভারস সামিট-২০১৮

This slideshow requires JavaScript.

গত বুধবার ২৮ মার্চ নগরীর নন্দন কাননস্থ চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিউিটটে (টিআইসি) দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ও ব্রিটিশ কাউন্সিল চট্টগ্রাম অঞ্চলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সামিটে প্রায় পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাব্রতী তরুণ অংশ নিয়েছেন। সামিটে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়িতে পরিচালিত প্রায় ১৫টি সামাজিক উদ্যোগ প্রদর্শন করা হয়।

দি হাঙ্গার প্রজেক্টের গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদারের সভাপতিত্বে দিনব্যাপী সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের চট্টগ্রাম সেন্টারের প্রধান এম. জহির উদ্দিন, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) নাজিমুদ্দিন শ্যামল, ফোরাম ফর পিপলস ভয়েস এর সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের (চবি) সিনেট সদস্য ড. মনজুর-উল-আমিন চৌধুরী। এছাড়াও অনুষ্ঠানের শুরু স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাকটিভ সিটিজেনসের ফ্যাসিলিটেটর সুব্রত পান্থ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘নারী ও শিশুদের পিছিয়ে পড়াটাই দেশের প্রধান সমস্যা। তরুণরা তাদের নেতৃত্বের মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন। শিক্ষত তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা যেভাবে অ্যাকটিভ সিটিজেনসের নেতৃত্বের মাধ্যমে জাতির জনকের সোনার বাংলা অর্জন সম্ভব হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্রিটিশ কাউন্সিলের চট্টগ্রাম সেন্টারের প্রধান এম. জহির উদ্দিন বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে অ্যাকটিভ সিটিজেনসের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে অ্যাকটিভ সিটিজেনসের সাফল্য, লক্ষ্য এবং নেতৃত্ব গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের ৫৪ জেলায় প্রায় দু’হাজারের বেশি সামাজিক উদ্যোগ পরিচালনা করে যাচ্ছে অ্যাকটিভ সিটিজেনসরা।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজি) সভাপতি নাজিমুদ্দিন শ্যামল তরুণদের প্রতি দেশের বাস্তব অবস্থা বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘দেশের প্রকৃত ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে তা মোকাবেলার জন্য তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। তরুণরা সকাল বেলার পাখি। তাদের জেগে উছতে হবে সকল সমস্যা সমাধানে।’

সভাপতির বক্তব্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রফেসর ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নেতৃত্ব হতে হবে নৈতিকতা ও মানবিকগুণ সম্পন্ন। এই নৈতিক ও মানবিকগুণ সম্পন্ন তরুণরাই একটি আত্ম নির্ভরশীল ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তারাই হবে বাংলাদেশের ভবিষৎ।’

তরুণদের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা মাথায় রেখে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। টেকশই উন্নয়ন লক্ষমাত্রার (এসডিজি) ১৭টি উপাদানের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সুশাসন। এই সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সামিটে ‘টেকশই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র অর্জনে তরুণদের ভূমিকা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ড. বদিউল আলম মজুমদারের সভাপতিত্বে আলোচনা অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের (চবি) সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদ, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এবিএম আবু নোমান। এতে উপস্থিত তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আলোচকরা। মধ্যাহ্নভোজের পর বিকালে ব্রিটিশ কাউন্সিল, জিআরএইএই থিয়েটার ইউকে ও ঢাকা থিয়েটারের যৌথ উদ্যোগে ‘এ ডিফরেন্ট রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ নামে একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করা হয়। এটি প্রতিবন্ধীদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। এরপর চট্টগ্রামের স্বেচ্ছাব্রতী তরুণদের পরিবেশনায় ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

প্রসঙ্গত, ব্রিটিশ কাউন্সিল ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর যৌথ অংশীদারিত্বে ২০০৯ সাল থেকে সারাদেশে অ্যাকটিভ সিটিজেনস কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। যার মাধ্যমে একটি শান্তি ও সোহার্দ্যরে পৃথিবী তৈরিতে একদল তরুণ-তরুণীর মাঝে আস্থা ও বোঝা-পড়া সৃষ্টি হয়েছে, যা তাদেরকে ইয়ুথ লিডার হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রাণিত, সংগঠিত ও ক্ষমতায়িত করছে। ফলে তারা নাগরিকত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্থানীয় সম্পৃক্তি ও বৈশ্বিক সংযুক্তির মাধ্যমে স্থায়িত্বশীল উন্নয়নে অবদান রাখতে পারছে। এরই ধারাবাহিকতায় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর উদ্যোগে এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় এই সামিট অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।