ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার-এর ষষ্ঠদশ জাতীয় সম্মেলন-২০১৫ ‘আমাদের আগামী, আমাদের পথ, তারুণ্যের কন্ঠে দৃপ্ত শপথ’

_DSC0902 _DSC0955 _DSC1015 _DSC0994 _DSC1024 _DSC0909 _DSC0003 _DSC1021 _DSC0911 _DSC0935 _DSC0020 _DSC0915সফলতা উদ্যাপন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, দেশের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার দৃপ্ত শপথ ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার-এর ষষ্ঠদশ জাতীয় সম্মেলন-২০১৫। ‘আমাদের আগামী, আমাদের পথ, তারুণ্যের কণ্ঠে দৃপ্ত শপথ’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ২৫-২৬ ডিসেম্বর, ২০১৫ সাভার (ঢাকা) গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র মিলনায়তনে এক উৎসবমুখর পরিবেশে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে এক হাজার শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাব্রতী সংগঠক অংশগ্রহণ করে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শিক্ষক ও অভিভাবকগণও সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল: (ক) আত্মমর্যাদা ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত গণজাগরণের প্রচেষ্টায় ছাত্র-ছাত্রীদের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাব্রতী বিভিন্ন উদ্যোগ ও অর্জনের গঠনমূলক পর্যালোচনা করা; (খ) গণজাগরণ থেকে অর্জিত উল্লেখযোগ্য শিক্ষণীয় দিক চিহ্নিত ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা এবং (গ) ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি সমবেত প্রত্যাশা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের জন্যে একটি নতুন ভবিষ্যতের দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলা।

সম্মেলনের প্রথম দিন
সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় ২৫ ডিসেম্বর সন্ধা ছয়টায়। সম্মেলনের শুরুতে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশের জাতীয় ফোরাম কো-অর্ডিনেটর শামীম আহমেদ এবং ষষ্ঠদশ জাতীয় সম্মেলন কমিটির আহ্বায়ক আবু সাইদ উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানান। এরপর ইয়ুথ একটিভিস্ট রানা ও লিপির পরিচালনায় ঢাকা সিটি ইউনিটের সদস্যরা দেশাত্মবোধক গানের সাথে মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন করেন।এরপরই ইয়ুথ লিডাররা পরিচিত হন সংগঠনের পূর্বতন ও কালজয়ী ইয়ুথ লিডার ও সংগঠকদের সাথে, যাদের ছিল অনবদ্য অর্জন – নিজেদের বিকশিত করা ও সংগঠনকে সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে। ইয়ুথদের সাথে একে একে পরিচিত হন বিধান চন্দ্র পাল, মাজেদুল ইসলাম, তহিরুল ইসলাম টুটুল, মাহমুদ হাসান গুরু, শাহিন মাহমুদ, জামিল শরিফ রফিক, জাহাঙ্গীর যুবরাজ-সহ আরও অনেকে। এরপর সম্মেলনের আহ্বায়ক আবু সাইদ প্রোডাকশন টিমের পরিচয় ও দ্বায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন

বিতর্ক বিষয়ক কর্মশালা
সন্ধা ৭:৪৫-৮:৩০ পর্যন্ত উপস্থাপক ও সংবাদ পাঠক এম এ আলমগীরের পরিচালনায় ছাত্র-ছাত্রীদের মেধাবিকাশের লক্ষ্যে বিতর্ক বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় বিতর্কের প্রয়োজনীয়তা, বিতর্ক কীভাবে আমাদের জীবনকে শাণিত করে এবং ব্যক্তিত্বকে চমকপ্রদ করে তা আলোচনা করা হয়। বিতর্কের মাধ্যমেই মানুষের ব্যক্তিত্বকে প্রাণবন্ত, যুক্তিবহুল ও উপস্থাপনাকে কীভাবে আরও দীপ্তিময় করা যায় তার উপরও আলোচনা করা হয়। এম এ আলমগীর বলেন, ‘গৌরবকে অর্জন করতে হয় ত্যাগ ও শ্রমের মধ্য দিয়ে, যা ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ পর্যায়ে ব্যক্তিত্বকে নিয়ে যায়।’

এরপর ৮:৩০টায় তরুণদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন সকলের উৎসাহ-উদ্দীপনার কেন্দ্রবিন্দু, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আজকের এই মিলনমেলা আমার জন্যও আনন্দের, গর্বের। আমি এর মাধ্যমে অনুপ্রাণিত ও ক্ষমতায়িত হই। কারণ তোমরা শুধু সম্মেলনের আয়োজকই নয়, পূর্ণ মালিকানা নিয়ে তোমরা এ সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছ। আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি, ইতিমধ্যে দেশের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ করে তৃণমূলে তোমরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছ। আমার বিশ্বাস, খুব শীঘ্রই আরও অনেক ছাত্র-ছাত্রী তোমাদের এ কাফেলায় শামিল হবে। তোমাদের মতো একদল নিবেদিত সংগঠকের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি গর্ব বোধ করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সম্মুখে দুটো পথ খোলা আছে। একটি হলো তারুণ্যের আলোয় বিকশিত হওয়া, আর দ্বিতীয়টি হলো পৃথিবী গড়ায় নিজেকে নিয়োজিত করা। এর জন্য আমাদের হতে হবে দৃঢ় প্রতিজ্ঞবদ্ধ। আমি মনে করি, এ সম্মেলনের মাধ্যমে ২০১৬ সালের জন্য একটি যুগান্তকারী সমন্বিত প্রত্যাশা ও কর্ম-পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব হবে, যার মাধ্যমে ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য যে জাগরণ শুরু হয়েছে, তা নতুন মাত্রা পাবে।’

এরপর তাঁর উপস্থিতিতেই শুরু হয় আঞ্চলিক পর্যায়ে মতবিনিময় অধিবেশন। প্রতিটি অঞ্চল থেকে এক জন করে বিগত সময়ে তাদের অঞ্চলে অর্জিত সফলতা ও অভিজ্ঞতাগুলো বিনিময় করে। ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে আবদুল্লাহ আল মামুন, খুলনা থেকে তুহিন, কুমিল্লা থেকে সাদিয়া রহমান ঐশী, সিলেট থেকে মুস্তাক, রাজশাহী থেকে জান্নাত, যশোর থেকে অমিত বিশ্বাস, ঢাকা থেকে আরেফিন হিমেল, বরিশাল থেকে সাইফুল ইসলাম।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন
জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কবুতর উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. বদিউল আলম মজুমদার- গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, ভাষা সৈনিক জনাব শরীফা খাতুন, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য- সম্মানিত ফেলো, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), ড. তোফায়েল আহমেদ- স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ, জনাব মুনীর হাসান- সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি, ড. এ কে এম শাহনেওয়াজ- অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যারিস্টার সারা হোসেন- নির্বাহী পরিচালক, ব্লাস্ট, জনাব খুরশীদা বেগম সাঈদ- তথ্য কমিশনার, তথ্য কমিশন এবং ড মাহবুব মজুমদার- জাতীয় কোচ, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি, নজরুল ইসলাম খান- সাবেক শিক্ষা সচিব, হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ- প্রেসিডেন্ট, ডিবেট ফর ডেমাক্রেসি, বিশিষ্ট উদ্যোক্তা ও সংগঠক তাজিমা হোসেন মজুমদার, জনাব নাছিমা আক্তার জলি- উপ-পরিচালক (কর্মসূচি), দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, স্বপন সাহা- উপ-পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন), দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এবং ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার-এর ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর শামীম আহমেদ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ষষ্ঠদশ জাতীয় সম্মেলন কমিটির আহক্ষায়ক আবু সাইদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘মোরা ঝঞ্জার মত উদ্যম…’ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করে ঢাকা সিটি ইউনিটের সদস্য রানা ও লিপির দল। এরপর সারাদেশে ইয়ুথ লিডারদের কার্যক্রম ও সফলতার চিত্রের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা একটি  স্লাইড শো ও ডকুমেন্টরী ফিল্ম প্রদর্শন করা হয়।

প্রধান অতিথি আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘নেতৃত্বের স্বপ্ন তোমাদের তরুণদের সকলের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু শুধু পরিশ্রম করেই নেতা হয়ে যায় না। কারো দুঃখ দেখলে যে কেঁদে উঠে সেই নেতা হতে পারে। তাই তোমাদের তরুণদের মধ্যেও মানুষের দুঃখবোধ দেখে কেঁদে ওঠার অনুভূতি থাকতে হবে।’

বারডেমের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ ইব্রাহিম-এর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘ডায়াবেটিকস রোগীর দুঃখ দেখে তিনি ডায়াবেটিকস হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেন, যে হাসপাতাল থেকে অসংখ্য মানুষ আজ উপকৃত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সাফল্য ও সার্থকতা এ দুটো আলাদা বিষয়। সাফল্য বৈষয়িক, সার্থকতা আত্মিক বিষয়। সার্থক মানুষ প্রতিনিয়ত মানুষের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে। যে প্রতিনিয়ত মানুষের কল্যাণে কাজ করে ইতিহাস তাকেই মনে রাখে। তোমরা তরুণরা তোমাদের কাজ দিয়ে সার্থকতা অর্জন করবে এবং ত্যাগ স্বীকার করবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকে পরিবেশ না থাকায় আমাদের দেশে নেতা জন্মাচ্ছে না। তোমরা তরুণরা বিভিন্ন কাজের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করছো, তা দেখে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি।’

আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘আমরা অতীতে কখনোই পরিপূর্ণভাবে স্বাধীন ছিলাম না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের এটি পূর্ণতা লাভ করে। ৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছি বহিঃশক্তির বিরুদ্ধে, কিন্তু বর্তমানের যুদ্ধ আমাদের নিজেদের সঙ্গে। নিজেদের লোভ-লালসা, দুর্নীতি নির্মুল করে দেশকে সমৃদ্ধ করার জন্য এ যুদ্ধ। এ যুদ্ধে তোমাদের তরুণদেরকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। তোমাদের যাত্রা নিঃসঙ্গ হতে পারে, কিন্তু সাহস ও শক্তি নিয়ে সবসময় এগিয়ে যেতে হবে।’

ড. বদিউল আলম মজুমদার  বলেন, ‘ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার তরুণের একটি স্বেচ্ছাব্রতী সংগঠন। সারাদেশের লক্ষাধিক তরুণ এ সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে নিজেদের বিকশিত করার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সমাজ উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে নেতৃত্ব বিকশিত হচ্ছে। বর্তমানে ইয়ুথরা তৃণমূলে ইউনিয়ন পরিষদের সাথে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা এমডিজি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আমি আশা করি, তরুণরা ভবিষ্যতের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এসডিজি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তরুণদের অনুধাবন করতে হবে যে, দেশ ভাল থাকলে তারা ভাল থাকবে এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম ভাল থাকবে।’

ভাষা সৈনিক অধ্যাপক শরীফা খাতুন বলেন ‘স্বাধীনতা অর্জনে বাংলাদেশের মানুষ অমানুসিক কষ্ট সহ্য করেছে। এ স্বাধীনতা রক্ষায় এবং মানুষের অধিকার আদায়ে আমাদের তরুণদের সোচ্চার থাকতে হবে।’ উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমরা ইয়ুথ লিডাররা সমাজ উন্নয়নে যে অবদান রেখে চলেছো তা দেখে আমি অনুপ্রাণিত। তরুণদের মধ্যে রয়েছে সাহস ও শক্তি। তারা বিশ্বায়নের এ যুগে অনেক কিছু ধারণ করতে পারে, নিত্য নতুন জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করতে পারে এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় অবদান রাখতে পারে। এ অবস্থায় আমাদের উচিত হবে তাদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়া।’

ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘আপনারা তরুণরা বিভিন্নভাবে সমাজ উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন। আপনারা নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন আছেন, কিন্তু কীভাবে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায় সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। আপনারা আইনি অধিকার আদায়ে বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হবেন, এমনটা আশা করি। মানুষের কথা বলার অধিকার, সভা-সমাবেশ করার অধিকার এবং তথ্য জানার অধিকার যাতে কখনো ক্ষুন্ন না হয়, সেজন্য আপনারা তরুণরা সোচ্চার থাকবেন। এক্ষেত্রে আপনারা সামাজিক গণযোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমেও সোচ্চার থাকতে পারেন।’

সভাপতির বক্তব্যে সম্মেলনের আহ্বায়ক আবু সাইদ বলেন, ‘আজকের এই মিলনমেলা আয়োজনের প্রস্তুতি পর্ব থেকে আমি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলাম৷ এই সম্মেলনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পেরে আমি বিশেষভাবে সম্মানিত বোধ করছি৷ আপনারা আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এখানে উপস্থিত হয়েছেন৷ এজন্য্যআপনাদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা এখন স্বয়ংক্রিয়৷ সম্মেলনের সকল ব্যবস্থাপনা চলছে আমাদের নেতৃত্বে, আমাদের মালিকানায়৷ এটি একটি অনুপম দৃষ্টান্ত এবং যোগ্যতার পরিচায়ক। আশা করি, নিজেদের বিকশিত করা এবং সংগঠনকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আমরা আরও বেশি সক্রিয় হবো।’

অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব : গণিত উৎসব (প্রথম সেশন)
‘গণিত নিয়ে খেলা কর, বিশ্বটাকে জয় কর’ এই মূলমন্ত্র ধারণ করে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সহযোগিতায় তৃণমূল পর্যায় থেকে জেলা শহর পর্যন্ত ২০১৫ সালে মোট ৪০টি গণিত উৎসবের আয়োজন করা হয়। এ বিষয়ে সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাথে একটি অংশগ্রহণমূলক অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন জনাব মুনীর হাসান- সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি এবং ড. মাহবুব মজুমদার- দলনেতা ও কোচ, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে এ পর্বে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৫ সালে স্বেচ্ছাব্রতীদের নেতৃত্বে তৃণমূল পর্যায়ে যে সমস্ত গণিত উৎসবগুলো স¤পন্ন হয়েছে, সেগুলোর অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আলোচনার সূত্রপাত ঘটে। ভবিষ্যতে গণিত উৎসবকে কীভাবে আরও গুণগতভাবে এবং সারাদেশে সম্প্রসারিত করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং এ বিষয়ে সাংগঠনিক দক্ষতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আলোচনাটি এগিয়ে নেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনাব মুনির হাসান এবং বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির দলনেতা ও কোচ ড. মাহবুব মজুমদার।

আলোচনায় জনাব মুনির হাসান বলেন, ‘আমরা অনেকেই আমাদের নিজেদের শক্তি সম্পর্কে অবগত জানি না। সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পিউটার হচ্ছে আমাদের মাথা। আমরা যেহেতু সর্বোচ্চ ঘনবসতির দেশ তাই আমাদের উদ্ভাবনী শক্তিও বেশি হবার কথা। কিন্তু কেন আমরা পিছিয়ে আছি। ইউরোপের কয়েকটি দেশ বাদ দিলে তাদের জনসংখ্যা বাংলাদেশের থেকে অনেক কম। এরপরও আমরা পিছিয়ে। কারণ আমরা নেতা হতে চাই না, অনুগামী হতে চাই। বাংলাদেশকে পরিবর্তন করতে হলে মেধাবী তরুণদের সক্রিয় করতে হবে। নেতৃত্ব দেয়ার জন্যে নিজেদের প্রস্তুুত করতে হবে। এর জন্য নেটওয়ার্ক বাড়াতে হবে। বলা হয় . আমাদের জনসংখ্যায় আমাদের মূল সম্ভাবনা। কিন্তু আমরা পিছিয়ে, কারণ আমরা সংগঠিত না। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো মেধাবীদের রাজনীতিতে আসতে নিরুৎসাহিত করেন। এ অবস্থায় বাংলাদেশকে বদলাতে হলে শিক্ষা ও প্রযুক্তিকে ভালভাবে দখলে নিতে হবে।’
গণিত অলিম্পিয়াডের অসাধারণ বিজয়ের কথা উল্লেখ করে ড. মাহবুব হোসেন মজুমদার বলেন, ‘৫৬তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দলগতভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করে। আমাদের চেয়ে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ভাল হওয়া সত্ত্বেও আমরা তাদের পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছি। এর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, আমরা চাইলেই সব জয় করতে পারি। আর এর জন্য দরকার জয় করার অদম্য ইচ্ছা ও লেগে থাকার প্রবণতা।’

‘তথ্য অধিকার কেন তরুণদের জন্য দরকার’ বিষয়ক প্যানেল ডিসকাশন
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ‘তথ্য অধিকার কেন তরুণদের জন্য দরকার’ বিষয়ক প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রাণবন্ত এবং অংশগ্রহণমূলক এ প্যানেল ডিসকাশন পরিচারিত হয় ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং বাংলাদেশ তথ্য কমিশনের তথ্য কমিশনার জনাব খুরশীদা বেগম সাঈদ- এর নেতৃত্বে।

খুরশীদা বেগম সাইদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘গণতন্ত্র যেমন প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার, তেমনি তথ্য জানার ও বাস্তবায়নের অধিকার রয়েছে প্রতিটি নাগরিকের। তথ্য মানুষকে সচেতন ও ক্ষমতায়িত করে। যথাযথ তথ্য পেলে নাগরিকরা তাদের প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নিতে পারে।’ তথ্য কমিশনারের সাথে একমত পোষণ করে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সার্বজনীন তথ্য অধিকার জরুরি। এজন্য তথ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন গড়ে তোলা এবং গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে।’

প্যানেল ডিসকাসন: ‘এসডিজি এবং বাংলাদেশের তারুণ্য’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস (এসডিজি) নিয়ে একটি প্যানেল ডিসকাসন অনুষ্ঠিত হয়। ‘এসডিজি এবং বাংলাদেশের তারুণ্য’ শীর্ষক এ আলোচনায় অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার- গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য- সম্মানিত ফেলো, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), জনাব নজরুল ইসলাম খান- সাবেক শিক্ষা সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

আলোচনায় উঠে আসে যে, ১৯৩টি দেশের রাষ্ট্র/সরকার প্রধানেরা ‘ট্রান্সফরমিং আওয়ার ওয়ার্ল্ড: দ্যা ২০৩০ এজেন্ডা ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শিরোনামের একটি কর্মসূচি অনুমোদন করেছেন, যা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস (এসডিজি) নামে পরিচিত। বিশ্বমানবতার সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে এটি একটি কর্মপরিকল্পনা, যা বিশ্বব্যাপী শান্তি, স্বাধীনতা ও কার্যকর অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত করবে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রত্যাশা, ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাবে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এবং অর্জিত হবে পরিবেশের ভারসাম্য।

আলোচকগণ বলেন, ‘এসডিজি’র ৪, ৫ এবং ৮নং লক্ষ্যে স্পষ্টভাবে তরুণদের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এসডিজি (৪): সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা; এসডিজি (৫): নারীদের সম-অধিকার এবং তাদের ও কন্যাশিশুদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা; এসডিজি (৮): সবার জন্য স্থায়ী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক কার্যক্রম উৎসাহিত, পরিপূর্ণ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান এবং উপযুক্ত কর্মের নিশ্চয়তা প্রদান করা।’

তাঁরা আরও বলেন, ‘এসডিজি প্রণীত হয়েছে জাতিসংঘের উদ্যোগে। বিভিন্ন রাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ এতে স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক উদ্যোগ বা সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সরকারের নির্দেশে এসডিজি বাস্তবায়ন হবে না। এর বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে প্রধানত স্থানীয় উদ্যোগ, যদিও এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সহযোগিতা, বিশেষত জাতীয় অঙ্গীকারের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। বিশেষ করে এর স্থানীয়করণ করে তথা স্থানীয় জনসাধারণকে উজ্জীবিত, অনুপ্রাণিত ও সম্পৃক্ত করে ‘কমিউনিটি-লেড ডেভেলপমেন্ট’ এপ্রোচের মাধ্যমে এসডিজি অর্জন করতে হবে।

তাঁরা বলেন, ‘এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে আমাদের তরুণ প্রজন্ম। তাই স্থানীয় উন্নয়নে স্বেচ্ছাব্রতী মানসিকতা সৃষ্টি করে তরুণদের সম্পৃক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। এদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে গঠনমূলক কাজে নিয়মিত অংশগ্রহণের জন্য উজ্জীবিত করা গেলে সারাদেশে একটি বিরাট কর্মযজ্ঞ সৃষ্টি হতে পারে। আর এ ধরনের কর্মযজ্ঞ বাংলাদেশের জন্য একটি অমিত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। বাংলাদেশে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার অর্ধেক। এ বিরাট সংখ্যক জনগোষ্ঠী আমাদের জন্য বিশাল সম্পদ, যাকে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপায়িত করতে হলে তরুণ প্রজন্মকে মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে, তাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে, তাদের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে এবং তারা যাতে ইতিবাচক কাজে নিয়োজিত হতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তাদের মেধা ও সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ বিকাশ নিশ্চিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশ’-এর লক্ষাধিক সদস্য তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নানামুখী উন্নয়ন, দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রশিক্ষিত এ তরুণরা প্রতিনিয়ত হাতে নিচ্ছে নানামুখী উন্নয়নমূলক সামাজিক উদ্যোগ।’

‘‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সামাজিক উন্নয়কাজে প্রধানতম বাধা’’ বিষয়ক বির্তক প্রতিযোগিতা
নতুনের জয়গান সর্বত্র। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও নতুনদের জয়গান করেছেন। তিনি নতুনদের পরামর্শ দিয়েছেন, আধমরাদের ঘা মেরে বাঁচাতে। কারণ সকল সম্ভাবনার দ্বার নতুনেই উন্মুক্ত। ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার গণিতের পাশাপাশি বিতর্ককেও তৃণমূলে পৌঁছে দিতে নিয়েছে নান্দনিক উদ্যোগ। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের পরিচালনায় ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সামাজিক উন্নয়কাজে প্রধানতম বাধা’’ এ বিষয়ে সংসদীয় পদ্ধতিতে একটি জাতীয় বির্তক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বির্তক প্রতিযোগিতায় ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার-এর দশ অঞ্চল থেকে দশজন প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর উপ-পরিচালক জনাব নাছিমা আক্তার জলি। পুরো বির্তক প্রতিযোগিতাটি ছিল টান টান উত্তেজনায় পূর্ণ। ফলাফল তৈরির ফাঁকে ছিল উন্মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময় পর্ব। এ পর্বে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছিল বিশেষ লক্ষণীয়। বির্তক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় সরকারি দল।

সামাজিক উদ্যোগ প্রদর্শন
সম্মেলনে আলাদা আলাদা স্টলের মাধ্যমে অত্যন্ত সৃজনশীলভাবে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার-এর দশটি অঞ্চলের সামাজিক উদ্যোগ, অর্জন এবং পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। মূলত স্টলগুলোতে বিভিন্ন বোর্ডের মাধ্যমে সংগঠনের অঞ্চলগত তথ্য-উপাত্ত, গৃহীত কার্যক্রমের চিত্র ও পরিসংখ্যানগত চিত্র তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে সবাই জানতে পারেন কোন অঞ্চলে কী ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। অনুষ্ঠানের অতিথিগণ স্টলগুলো পরিদর্শন করেন এবং সেরা স্টল নির্বাচনে বিচারকের দ্বায়িত্ব পালন করেন। অতিথিদের বিবেচনায় সেরা স্টল নির্বাচিত হয় যশোর এবং রাজশাহী অঞ্চলের স্টল। সমাপনী অনুষ্ঠানে এ অঞ্চলকে পুরস্কার হিসেবে সম্মাননা স্বারক প্রদান করা হয়।

কুইজ প্রতিযোগিতা ও র‌্যাফেল ড্র
সম্মেলনের শেষ বিকেলের ইভেন্ট হিসেবে জমজমাট কুইজ প্রতিযোগিতা ও র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। আকর্ষণীয় এ পর্বটি পরিচালনা করেন বরিশালের ইয়ুথ লিডার সাইফি জয়। র‌্যাফেল ড্রতেও উপস্থিত সবাই অংশগ্রহণ করে। এ পর্বটি পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের ইয়ুথ লিডার কলিমুল্লা মাসুক।

ঘোষণাপত্র পাঠ
সম্মেলনে একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়, যাতে উপস্থিত সকল ইয়ুথ লিডার স্বাক্ষর করে। ঘোষণাপত্রে বলা হয়,
আমরা, ইয়ূূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশের সদস্যরা ষষ্ঠদশ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষ্যে ২৫-২৬ ডিসেম্বর, ২০১৫ এই দুই দিন গণস্বাস্থ্য কে›™্র, সাভার ঢাকায় সমবেত হয়েছি। আমরা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্ম, মুক্তিযোদ্ধাদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ক্ষুধামুক্ত আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়েছি। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২০১৬ সালের জন্য আমাদের সমবেত প্রত্যাশা হলো দেশের জন্যে একটি নতুন ভবিষ্যতের দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলা, যেখানে নারী, পুরুষ, শিশু নির্বিশেষে সকলেই একটি সুন্দর, সুস্থ এবং বিকশিত জীবন সৃষ্টিতে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পাবে। আমরা উপলব্ধি করতে পেরেছি যে – আমাদের, বিশেষ করে তরুণদের সুপ্ত সৃজনশীল শক্তিকে বিকশিত করে এবং তাদেরকে সংগঠিত করে আমাদের প্রত্যাশিত ভবিষ্যত অর্জন করা সম্ভব। আর এ উপলব্ধির ভিত্তিতে আমরা এই মুহূর্তেই ঘোষণা করছি যে: আমরা-
১. মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে আতœনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তরুণ সমাজের সৃজনশীলতা ও অন্তর্নিহিত শক্তির বিকাশ ঘটাবো, যাতে তারা এ কাজে পূর্ণ নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয়ে ওঠে।
২. স্বেচ্ছাব্রতী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশজুড়ে গণজাগরণ সৃষ্টি করব। এ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য তরুণদের সংগঠিত ও উৎসাহিত করব।
৩. ‘শিক্ষাই উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার’ Ñ এ বিশ্বাসকে ধারণ করে নিরক্ষরতা দূরীকরণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গণমূখী ও উৎপাদনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সমাজের সকল অংশকে স¤পৃক্ত করতে উদ্যোগী হব।
৪. তারুণ্য ও সভ্যতাবিনাশী মাদকের সর্বনাশা ছোবল থেকে সমাজকে মুক্ত রাখার লক্ষ্যে তরুণ সমাজকে সচেতন ও সংগঠিত করে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবো।
৫. কুসংস্কার, পশ্চাদপদতা ও সহিংস চরমপন্থা প্রতিরোধ এবং বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী হিসেবে তরুণ সমাজকে গড়ে তুলতে গণিত উৎসব, যুক্তির উৎসব সহ প্রতিটি ইউনিটে বিজ্ঞান ক্লাব গড়ে তুলব।
৬. সম্প্রীতিহীনতা যে কোনও সমাজব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার মূখ্য কারণ। একটি সুস্থ, সুন্দর, উদার ও বহুত্ববাদী সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করে যাবো।
৭. দূর্নীতিকে ‘না’, এবং দূর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবো।
৮. দেশের সকল নাগরিক, বিশেষ করে নারী এবং সুবিধা ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বাল্যবিবাহ ও যৌতুক নিরোধ সহ সুশাসন ও অন্যান্য সামাজিক বিষয় সম্পর্কে প্রচারাভিযান পরিচালনা করব।
৯. বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ পরিছন্নতাসহ আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়ার জন্যে আমরা স্থানীয়ভাবে স¤পৃক্ত হবো এবং বৈশ্বিক পর্যায়েও সংযুক্ত থাকবো।
১০. সমমনা বিভিন্ন তরুণ-যুব সংগঠনের সাথে অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারকে ধাপে ধাপে দেশের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ সামাজিক ছাত্র সংগঠনে পরিণত করব।

এই সম্মেলনে আমরা আমাদের ক্ষুধামুক্ত ও আতœনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে পুনর্ব্যক্ত করছি। আমরা অঙ্গীকার করছি যে, আমাদের প্রত্যাশা বা¯তবায়নে যে কোন বাধাকেই আমরা তারুণ্যের দূর্বার শক্তিতে অতিক্রম করে যাবো।

সম্মাননা স্মারক প্রদান
সম্মেলনের শেষভাগে বিগত সময়ে জাতীয় সম্মেলনের আহ্বায়কদের হাতে শুভেচ্ছা স্বারক তুলে দেয় ড. বদিউল আলম মজুমদার- কান্ট্রি ডিরেক্টর ও গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট। এছাড়াও সামাজিক উদ্যোগ প্রদর্শনীতে বিজয়ী অঞ্চলকে পুরস্কার হিসেবে স্মারক প্রদান করার মাধ্যমে জাতীয় সম্মেলন-২০১৫ এর সমাপ্তি হয়।

—————————————

প্রতিবেদক
আমজাদ হোসেন রাজীব
প্রোগ্রাম অফিসার
দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।