নওগাঁর পত্নীতলায় ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের জেলা সম্মেলন ২০১৩ অনুষ্ঠিত

গত ১১ মে ২০১৩ নওগাঁর পত্নীতলায় ডাকবাংলো মাঠে “ইয়ূথের চেতনা জাগ্রত রবে – নিরক্ষরতার আঁধার দূরীভূত হবে” শ্লোগানকে সামনে রেখে জেলা ইয়ূথ সম্মেলন-২০১৩ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০ টায় জাতীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে জেলা সম্মেলনের যাত্রা শুরু হয়। পত্নীতলা উপজেলা ইয়ূথ কাউন্সিলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জেলা সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইয়ূথ লীডার আজিজুল হক রাজু। সম্মেলনের উদ্বোধণী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব শহীদুজ্জামান সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক এর কেন্দ্রিয় সম্পাদক ড: বদিউল আলম মজুমদার , পত্নীতলা উপজেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল গাফ্ফার, , পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আবুল হায়াত মো: রফিক, পত্নীতলা উপজেলা সুজন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ময়েজ উদ্দিন, পত্নীতলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব এ এস এম শাহীন চৌধুরী ও মরিয়ম বেগম শেফা এবং পত্নীতলা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ।

Youth-3
সম্মেলনের উদ্বোধণী পর্বে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ

শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেলা সম্মেলনের উদযাপন কমিটির আহবায়ক আজিজুল হক রাজু। তিনি তার বক্তব্যে ইয়ূথ এন্ডিং কি, এই সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, কর্ম-পদ্ধতি এবং নওগাঁ জেলার ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের সার্বিক কার্যক্রম, স্বেচ্ছাব্রতী তরুণদের দৃষ্টান্তমূলক অর্জন এর বিষয় তুলে ধরেন।

এরপর সম্মেলনে অনূভূতি ব্যক্ত করে আকবরপুর ইউনিয়নের ইয়ূথ লিডার মোজাহারুল ইসলাম। তার বক্তব্যে তুলে ধরে, ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার সামাজিক দায়ব্ধতার ভিত্তিতে গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান পরিচালনাসহ সুজনশীল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমাদের এই অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে আরোও অনেককে এ প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত করা এখন আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।

পত্নীতলা ইপজেলার ঘোষনগর ইউনিয়নের ইয়ূথ লিডার তানজিলা পারভীন তার অনুভূতিতে বলে- ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের একটি প্রশিক্ষণই আমাকে পাল্টে দিয়েছে। আমি চিনেছি আমাকে এবং আমার সমাজকে।

ইয়ূথ লিডার খায়রুল ইসলাম তার অভিজ্ঞতা এভাবে বর্ণনা করে যে, “ আমি প্রত্যন্ত গ্রামের একটা ছেলে, আমি কখনও ভাবিনি সমাজের জন্য আমার অনেক কিছু করার আছে, ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে সংগঠিত হতে হয়, সামাজিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হয়, এখন আমরা সেরকম কিছু কার্যক্রম করছি যার মাধ্যমে আমাদের নিজেদের বিকাশ ঘটে এবং সমাজেরও উন্নয়ন ঘটে।

ইয়ূথ লিডারদের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পর ই্‌যূথ এন্ডিং হাঙ্গারের কার্যক্রমের ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর শুরুহয় অতিথিদের বক্তব্য প্রথমেই কথা বলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জনাব মরিয়ম বেগম শেফা তিনি বলেন, –“আমি ইয়ূথদের গণশিক্ষা কার্যক্রম দেখে উৎসাহিত হয়েছি এরপর আমি নিজে কয়েকজনের দায়িত্ব নিয়েছি নিরক্ষরমুক্ত করবারজন্য।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এএসএম শাহীন চৌধুরী বলেন –“জ্ঞানই শক্তি, বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে শিক্ষিত ও উন্নত রাষ্ট্র করতে সকলেই সহযোগিতা করছে। পত্নীতলায় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এগিয়ে এসেছে। আমরা আত্মশক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতির উন্নতির পথে এগিয়ে যেতে পারবো হাঙ্গার প্রজেক্টের এই মূলমন্ত্র প্রচারের জন্য সকলকে ধন্যবাদ।“ পত্নীতলা উপজেলা সুজন সভাপতি প্রফেসর ময়েজ উদ্দিন বলেন “যারা ইয়ূথের এই সম্মেলন আয়োজন করেছে তারা অনেক প্রসংশনীয়। আমার বাড়িতে ছাত্ররা যখন আমাকে নিমন্ত্রণ দিতে গিয়েছে তখন তাদের সাথে আমার অনেক আলাপ হয়েছে। আমি জানতে পেরেছি তারা গণিতের ভয় দূর করতে প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে, ইংরেজি চর্চা বাড়াতে ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছে। আমরা যখন তরুণ ছিলাম তখন এমন উদ্যোগ

Youth-4
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ

আমরা নেয়নী কিন্ত এখনকার তরুণরা তা নিচ্ছে আমি তাদের সাধুবাদ জানায় এবং ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের সাথে থাকবার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন ।

পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আবুল হায়াত মো: রফিক বলেন “ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি তারা জন সচেতনতা এবং গণজাগরণের কাজ করে চলেছে। ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত আত্মনির্ভরশীল দেশ গড়তে তারা অঙ্গীকারাবদ্ধ। তারা এখন চিন্তা চেতনায় অনেক এগিয়ে এবং কাঙ্খিত পথেই এগিয়ে চলেছে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চললে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডিজিটাল বাঙলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। একাজে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এগিয়ে এসেছে, আসুন আমরা সবাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই।“

পত্নীতলা উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল গাফ্ফার বলেন “যে সংগঠনের প্রতিটি সদস্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সেখানে আর যা কিছু হোক, কোন অন্যায় হতে পারে না। আজ আমরা যে ভিডিও চিত্র দেখলাম তার মাধ্যমে বুঝতে পারলাম যে, চাইলেই অনেক কিছু সহজেই করা সম্ভব। ইয়ূথরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে কোন সমস্যার মুখোমুখি হয়ে যদি আমার কোন সহায়তা চায় তাহলে, আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ি সহযোগিতা করব।

প্রধান অতিথি জনাব শহীদুজ্জামান সরকার এম পি বলেন “নি:সন্দেহে আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে নিজেকে ধন্য ও ভাগ্যবান মনে করছি।ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের কর্মসূচীকে বাস্তবায়নের জন্য আমি তাদেরকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।সমাজ নিয়ে ভাবার সময় আমাদের একবারে কম।আজ আমরা এখানে এস সমাজ নিয়ে ভাবার অবকাশ পাচ্ছি।আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।

Youth-2
বক্তব্য প্রদান করছেন নওগাঁ-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব শহীদুজ্জামান সরকার

যেভাবে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে তাতে আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের অবস্থার পরিবর্তন হবেই। বর্তমান সরকার শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সর্বস্তরে ঝরেপড়া রোধ করতে উপবৃত্তির সংখ্যা বাড়িয়েছেন। যারা মাঠে কাজ করে তাদেরকে নিয়মিত করনের উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের দুপুরের মিলের কথাও বিবেচনায় এনেছি। শিক্ষার আলোয় আলোকিত জাতি গঠনে আজকের যে আয়োজন তা অব্যাহত থাকলে আমরা পূর্ণ মনোবল নিয়ে জাতীয় সমস্যার অনেকগুলোই সমাধান করে দেশকে উন্নত করতে পারবো। আমাদের মনোবল অটুট থাকুক। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি পর্যায়ে আমরা আমাদের সহযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখি এটাই আমার প্রত্যাশা।“

ড: বদিউল আলম মজুমদার বলেন “আজকের এই অনুষ্ঠান কেন আয়োজন করা হয়েছে? আপনারা সবাই এটিকে একটি ভাল উদ্যোগ বলেছেন। এটি একটি মিলন মেলা। সবার জন্য ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের ছাত্র-ছাত্রীরা কাজ করছে। আমরা নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়ার কাজ করছি। আমি জোর দিয়ে বলতে পারি এখানে আমরা যারা উপস্থিত তারা সবাই যদি এগিয়ে আসি তাহলে মাত্র ৩ মাসেই পত্নীতলা উপজেলাকে নিরক্ষরমুক্ত করা সম্ভব। আমরা সবাই খেলা দেখি। সম্‌প্রতি বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের সাথে জিতেছে। এখানে খেলোয়াড়রা খেলে। কঠিন পরিশ্রম করে দলকে জেতায়। খেলাকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য আম্পায়ার থাকেন। খেলা আয়োজনের জন্য থাকেন কর্তৃপক্ষ এবং খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন দর্শকরা। পত্নীতলা উপজেলার মানুষকে সঠিকভাবে খেলতে হবে এবং খেলার উপকরণ সরকার বহন করলে খেলাটি পূর্ণতা পাবে। মঞ্চে উপবিষ্ট অতিথিদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে ছেলেরা যে উদ্যোগ নিয়েছে তার পাশে থেকে আমরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখি এবং সামাজিক ব্যাধি সমাজ থেকে দূর করে দেই।

Youth-1
আউট সোর্সিং বিষয়ক অরিয়েন্টশন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ

অতিথিদের বক্তব্যের মধ্যদিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধনী সমাপ্ত হয়। দুপুর ২:৩০ মিনিটে আউট সোর্সিং বিষয়ক অরিয়েন্টশনের মাধ্যমে সম্মেলনের ২য় পর্ব শুরু হয়। কর্মশালার মূল বিষয়বস্তু ছিল, তরুণরা কিভাবে তথ্যপ্রযূক্তিকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসে আয় করতে পারে। এছাড়া সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিক ২০১৩- ২০১৪ সালের  কার্যক্রমের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংগীকার ও ঘোষণা স্বাক্ষর সম্মেলনকে নতুন মাত্রা এনে দেয়।  এই সম্মেলনের কয়েকটি বিশেষত ছিল, যেমন, এই সম্মেলনের সমস্ত ব্যায়ভার জোগাড় করেছে ইয়ূথের স্বেচ্ছাসেবকরা। অংশগ্রহনকরা সমস্ত ইয়ূরা সম্মেলনের তিনদিন আগেই তাদের রেজি: সম্পন্ন করেছে। সম্মেলন আয়োজন করতে সকল কাজ ইয়ূথরা নিজেরা ভাগ করে নিয়েছে। সম্মেলনে স্থানীয় প্রশসন ও নির্বাচিত ব্যাক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে একটি বিষয় আরেকবার প্রমানিত হয়েছে তরুণরা সকলে মিলে চাইলে কোন কিছুই আর অসম্ভব থাকেনা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s