আন্তর্জাতিক নারী দিবস- ২০১৩: নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহবান

DSC_0423শত শত নারী ও কন্যাশিশুর কন্ঠে একই সুর, একই  উচ্চারণ-‘এই হোক অঙ্গীকার, নারী নির্যাতন নয় আর’। মনের গভীরে শ্লোগানের মর্মবানী ধারণ আর বলিষ্ঠ কন্ঠের আওয়াজ রাজপথকে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তোলে। এমন উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই এবার উদযাপিত হলো আন-র্জাতিক নারী দিবস-২০১৩।
জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের উদ্যোগে সকাল ৯.৩০ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিতে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার ঢাকা সিটি ইউনিট জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সদস্য, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৬শ’ জন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বেলুন উড়িয়ে র‌্যালির উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স’ায়ী কমিটির সভাপতি জনাব মেহের আফরোজ চুমকী এমপি। র‌্যালিটি বাংলাদেশ শিশু একাডেমী মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।
DSC_0266
সকাল ১০:৩০টায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশেষ আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম’র সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স’ায়ী কমিটির সভাপতি জনাব মেহের আফরোজ চুমকী এমপি। ফোরামের সদস্য সানজিদা হক বিপাশা ও কাজী রাবেয়া এ্যামী’র উপস’াপনায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন ফোরামের সহ-সভাপতি অধ্যাপক লতিফা আকন্দ, ফোরামের নির্বাহী সদস্য জনাব শাহীন আক্তার ডলি এবং ফোরামের সম্পাদক জনাব নাছিমা আক্তার জলি প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্যে ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি বলেন, বাংলাদেশের নারীরা আর পিছিয়ে নেই। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির চাকা ঘুরাচ্ছে নারী। তৈরী পোশাক শিল্পে মোট শ্রমিকের ৮০ শতাংশই নারী। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর ২০-৩০ হাজার নারী কর্মী বিদেশে যাচ্ছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দুই লাখের বেশি নারী কর্মী দেশের বাইরে কাজ করছেন। কিন’ এই নারীরা প্রবাসী-আয় হিসেবে কত টাকা পাঠাচ্ছেন, সে হিসাবটি রাখার উদ্যোগ নেয়া হয় নি। তিনি আরও বলেন, বেশকিছু গবেষণায় আমরা দেখতে পাই, অভিবাসী পুরুষ তার আয়ের মাত্র ২০ শতাংশ দেশে পাঠাতে পারেন। কিন’ নারী শ্রমিকেরা আয়ের ৭০ শতাংশেরও বেশি অর্থ দেশে পাঠান। নাছিমা আক্তার জলি বলেন, আমাদের নারীরা একদিকে অগ্রসর হচ্ছে আরেকদিকে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। গত এক দশকে ১ লাখ ৮২ হাজার নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অথচ এ সব নির্যাতনের ঘটনায় মাত্র ১৪ শতাংশ অপরাধী ধরা পড়েছে বলে জানান তিনি। আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় অপরাধীরা পার যাচ্ছে বলে মনে করেন নাছিমা আক্তার জলি। এজন্য তিনি সরকারকে এ ব্যাপারে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান; যাতে অপরাধীরা শাসি- পায় এবং নারী নির্যাতন রোধ করা যায়।
উপসি’ত সবাইকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেহের আফরোজ চুমকী বলেন, পৃথিবীর সূচনাকাল থেকেই নারীরা বৈষম্যের শিকার। এ অবস’া পরিবর্তনের জন্য যুগে যুগে নারীরা তাদের সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। তাদের প্রচেষ্টার ফলে বিভিন্ন দেশে ইতিবাচক পরিবর্তনও এসেছে। বাংলাদেশেও রাজনীতিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে নারীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। এ জন্য নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের আন্দোলন ও অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, সমাজ উন্নয়নে আমরা পুরুষকে সহযোগিতা করতে চাই। আমরা নারী-পুরুষের অংশগ্রহনে সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তিনি আরও বলেন, সমাজের সব পুরুষ খারাপ নয়। যারা খারাপ, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার ও গণমাধ্যমের পাশাপাশি জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম’র মত অন্যান্য সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক লতিফা আকন্দ বলেন, পুরুষের ন্যায় নারীদেরও শক্তি আছে নিজেকে বিকশিত করার। সুতরাং আমরা শুধুমাত্র কন্যা, তরুণী কিংবা বধু হয়ে থাকতে চাই না। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী হতে হবে আমাদের, বিচরণ করতে হবে সব ক্ষেত্রে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, আমরা নারীরা জানি না, আমাদের ভিতর কি শক্তি নিহিত আছে। আমরা আমাদের দেহে আরেকটা মানুষ বহন করতে পারি এবং মানব সন-ান জন্ম দিতে পারি। এরচেয়ে বড় শক্তি আর কি হতে পারে? তাই আত্নবিশ্বাস নিয়ে কাজ করলে সফলতা আসবে বলে মন-ব্য করেন অধ্যাপক লতিফা আকন্দ। একইসাথে নারীদের অবস’া ও অবস’ানের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বয়স কোন বাধা হতে পারে না বলেও মন-ব্য করেন তিনি।

শাহীন আক্তার ডলি বলেন, বাংলাদেশের নারীরা আজ তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠেছে। এ কারনে তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা নিয়ে এসেছে। নারীরা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে কাজ শিখছে এবং এর মাধ্যমে তারা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের শ্রমশক্তিতে নারীদের অবদান ছিল ২৬ শতাংশ; বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ৩৬ শতাংশে। নারীরা শ্রমশক্তিতে পরিণত হওয়ায় বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রেও ব্যাপক অগ্রগতি এসেছে। বাংলাদেশের নারীরা আজ মন্ত্রীসভা থেকে শুরু করে হিমালয়ের শিখরেও পৌঁছে গেছে।  তিনি বলেন, নারী পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াস ছাড়া সমাজের অগ্রগতি সম্ভব নয়, বিষয়টি অনুধাবন করে পুরুষরাও এগিয়ে আসছে নারীদের সহায়তা করতে। কিন’ এখনও নারীরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন শাহীন আক্তার ডলি । এজন্য অবিলম্বে নারী উন্নয়ন নীতিমালা বাস-বায়ন ও নারী নির্যাতন রোধে কঠোরভাবে এ সংক্রান- আইনের যথাযথ প্রয়োগ করার দাবী জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য টেবিল টেনিস তারকা জনাব জোবেরা রহমান লীনুকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। যিনি দুই যুগ ধরে একটানা টেবিল টেনিস খেলেছেন, ১৯৭৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন- ১৬ বার জাতীয় চ্যামিপয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। যার ফলে ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ তাঁর নাম যুক্ত করেছে। ১৯৭৪ সালে ঢাকা প্রেসক্লাব টেবিল টেনিস উন্মুক্ত টুর্নামেন্টে রানারআপ। বাংলাদেশ গেমস্‌-এ চ্যামিপয়ন ৩ বার। ১৯৮০ সালে এশিয়ান চ্যামিপয়নশিপে পঞ্চম। ভারতে অনুষ্ঠিত পাঁচ জাতি টুর্নামেন্টে দ্বৈত ও দলীয়ভাবে রানারআপ। এছাড়া ১৯৭৮, ৭৯ ও ৮০ সালে জাতীয় সাইক্লিং চ্যামিপয়ন। খেলাময় একটি জীবন মনে হলেও জোবেরা রহমান লিনু মানবতার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন নিরন-র। সামাজিক কল্যাণমূলক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।  ২৮ বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে অনেক পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন জোবেরা রহমান লীনু।

সম্মাননা স্মারক প্রদান করা কৃতি চিত্রনির্মাতা জনাব সারা আফরিনকেও। যিনি সুবিধা বঞ্চিত স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত শিক্ষামূলক ডকুমেন্টারী ফিল্ম প্রদর্শন করে থাকেন। আন-র্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশী নির্মাতাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় নির্মাতা সারা আফরীন ‘শঙ্খধ্বনি’ গোটেবার্গ চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হয়েছেন। কিছুদিন আগে সারা আফরিন তাঁর নতুন চলচ্চিত্র ‘শুনতে কি পাও ’- এর কাজ শেষ করেন। ২০০৯ সালে ঘূর্ণীঝড় আইলা বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সুন্দরবনে আঘাত হানার পর একজন অল্প বয়সী মা এর আইলা পরবর্তী সময়ে জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার ঘটনা তাকে উৎসাহিত করে। এ বছর বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের বিশেষ আসর বার্লিন ট্যালেন্ট ক্যাম্পাসের সম্পাদনা ল্যাবে মাত্র ৯টি ছবির মধ্যে আমন্ত্রিত হয়েছিলো ‘শুনতে কি পাও’। বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের কোনো অংশে এটাই ছিলো কোন বাংলাদেশী ছবির প্রথম অংশগ্রহণ। ইতিমধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম প্রামান্যছবি উৎসব আমস্টারডামের ‘ইডফা’ থেকে চিত্রনাট্য ও প্রযোজনার জন্য দুটি প্রতিযোগীতামূলক পুরষ্কার এবং সুইজারল্যান্ডের ‘ভিশন সুদ ইষ্ট’ থেকে সম্পাদনার জন্য একটি পুরষ্কার জিতেছে ‘শুনতে কি পাও’। গত বছর কলকাতায় অনুষ্ঠিত ‘এশিয়ান ফোরাম ফর ডকুমেন্টারী’তে অন্যতম সেরা ভাবনার জন্য ছবিটি স্বীকৃতি পেয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মেহের আফরোজ চুমকী এ দুই কৃতি নারীর হাতে সম্মাননা তুলে দেন। স্মারক গ্রহণের পর তাঁরা তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করেন ও মতামত তুলে ধরেন।
DSC_0451
জোবেরা রহমান লীনু বলেন, শুধুমাত্র নারী দিবসে নারীদের স্বাধীনতা থাকবে তা হতে পারে না, আমরা বছরের ৩৬৫ দিনেই নারী স্বাধীনতা চাই। আর এ জন্য প্রথমেই দরকার নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। কারন নারী-পুরুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সুন্দর ও সুস’ সমাজ বিনির্মান করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, আমরা যে কাজ করি না কেন, তা ভালবেসেই করবো। তাহলেই সফলতা আমাদের পদচুম্বন করবে।

সারাহ আফরিন তার বক্তব্যের শুরুতে তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করায় জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামকে ধন্যবাদ জানান। ক্রীড়া তারকা জোবেরা রহমান লীনুর সাথে একই অনুষ্ঠানে পুরষ্কার নিতে পেরে তিনি ধন্য ও গর্বিত বলে উল্লেখ করেন সারা আফরিন। এ সময় তিনি সাতক্ষীরার সুন্দরবন ঘেরা উপকুলীয় দুর্গম এলাকায় চলচিত্র নির্মান করতে গিয়ে তার যে সব অভিজ্ঞতা হয় তা তুলে ধরেন। সারাহ আফরিন বলেন, সেখানকার মানুষদেরকে জলে-জঙ্গলে বিরুপ প্রকৃতির সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। নিজের শিকড় টিকিয়ে রাখার জন্য তারা যে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে তাকেই আমরা জাতীয়তাবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারি বলেও মন-ব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানের বিশেষ এক পর্যায়ে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম কর্তৃক প্রকাশিত নারীর কথা-৮ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। আলোচনা সভার ফাঁকে ফাঁকে নারী জাগরণমূলক গান পরিবেশন করেন বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী ইফাত আরা নার্গিস ও ফোরামের সদস্যরা এবং কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট কবি লিলি হক।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নারী দিবসের কর্মসূচীকে সফল করার জন্য উপসি’ত সবাইকে ধন্যবাদ জানান অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, পৃথিবীর সব সমাজেই সবলরা দূর্বলের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। এ অবস’ার মধ্যেও সংগ্রাম করে নারীরা নিজেদের অগ্রসর করেছে; নিজেরা সফল হয়েছে এবং সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, আত্নশক্তিতে বলিয়ান হয়ে তারা যদি নিজেদের অবস’ার পরিবর্তন করতে পারে, তবে আমরা কেন পারবো না? সবশেষে উপসি’ত নারী ও কন্যাশিশুদেরকে নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন হবার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s