প্রাণ ফিরে পেয়েছে রুপম পাঠাগার

“বদলে যাওয়া এবং বদলে দেওয়াই তারুণ্যের প্রকৃতি” তা আবারও প্রমাণ করলো নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলাধীন দিবর ইউনিয়নের এ্যাকটিভ সিটিজেনরা। বরেন্দ্র ভুমির গর্ভে অবস্থিত ইউনিয়নটিকে সুপরিচিত করেছে এখানকার দিবর দিঘী এবং উমরপুর মাজার। উচুঁ নিচু পাহাড়ি টিলার মতো এখানকার ভু-প্রকৃতি। অবস্থানগত কারণে মানুষও বৈচিত্র্যময়তা নিয়েই জন্মেছে এখানে। ইউনিয়নের রুপগ্রামে অবস্থিত স্থবির রুপম পাঠাগারটি এখন প্রাণ চাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে গ্রামবাসীদের পদচারণা এবং যথার্থ উদ্যোগে। ১৩-১৬ নভেম্বর ২০১২ অনুষ্ঠিত ৪৪৬তম এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লীডারশীপ ট্রেনিং এ ড.বদিউল আলম মজুমদার, গোলাম রাব্বানী, আলম হোসেন এবং আপেল মাহমুদ অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের আলোচনায় বদিউল আলম নিজেদের গ্রামের পাঠাগারটিকে সচল করা যায় কিভাবে সে নিয়ে আলোচনা করেন এবং শেষ দিনে পরিকল্পনায় পাঠাগার চালুর ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

গ্রামে ফিরে গিয়ে এ্যাকটিভ সিটিজেনসরা রুপম পাঠাগারের সভাপতি প্রফেসর সুলতান মাহমুদ এর সঙ্গে আলোচনা করে। সভাপতি মহোদয় রুপম পাঠাগারের অচলাবস্থা এবং মানুষের অসহযোগিতার কথা উলেস্নখ করে এ্যাকটিভ সিটিজেনসদের সঙ্গে পরিকল্পনা করে গ্রামে বর্ধিত সভা করার পরিকল্পনা করেন। ২৬/১১/২০১২ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় এ্যাকটিভ সিটিজেনসরা নিজেদের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করে এবং পাঠাগারটিকে সচল করতে নিজেরা উদ্যোগ নেবে বলে আগ্রহ দেখালে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ তাদের সহযোগিতা করার কথা বলে। এমতাবস্থায় সভাপতি প্রফেসর সুলতান মাহমুদ অতীত ভুলে তার ছাত্রদের আগ্রহকে সম্মান দেখিয়ে কমিটি পুনঃর্গঠনের আহবান জানান এবং রুপম পাঠাগার পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়। পাঠাগার পরিচালনা পর্ষদে ৪জন এ্যাকটিভ সিটিজেনকেও অর্ন্তভুক্ত করা হয়।

 

রুপম পাঠাগার পারচালনা পর্ষদ

 

প্রফেসর সুলতান মাহমুদ     সভাপতি

মোঃ রফিকুল ইসলাম              সহঃ সভাপতি

মোঃ মিজানুর রহমান       কোষাদক্ষ

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক        সদস্য

মোঃ আতিকুর রহমান              সদস্য

মোঃ আরিফুল ইসলাম              সদস্য

মোঃ আমিনুল ইসলাম              সদস্য

মোঃ আলমগীর হোসেন             সদস্য

মোঃ আঃ ওহাব           সদস্য

মোঃ বদিউল আলম        সদস্য

মোঃ গোলাম রাব্বানী              সদস্য

মোঃ মেসবাহুল হক         সদস্য

মোঃ আলম হোসেন         সদস্য

মোঃ কামরম্নজ্জামান         সদস্য

মোঃ সোহরাব আলী        সদস্য

মোঃ রাজু আহমেদ         সদস্য

মোঃ রানা হোসেন          সদস্য

মোঃ আপেল মাহমুদ        সদস্য

 

পরিচালনা পর্ষদ গঠন করার পর পুরাতন ঘরটিকে পরিষ্কার করে পুরাতন কাঠের আলমারি এবং পাঠকদের বসার জন্য ২টি বেঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়।  সদস্যদের মাসিক চাঁদা নিধারণ করা হয় ২০/- টাকা। এ্যাকটিভ সিটিজেনরা এবার শুরু করে বই সংগ্রহের কাজ। ২টি স্থানীয় এবং ১টি জাতীয় পত্রিকা সহ প্রায় শতাধিক বই এবং জ্ঞানার্জনের জন্য মাসিক পত্রিকারও ব্যবস্থা করেন তারা। কাজ করতে গিয়ে সবাই সহযোগিতা করেছে এমন নয় অনেকেই তাদের এই কাজকে পন্ডশ্রম বলে তাচ্ছিলস্ন্য করেন। কিন্তু সকল প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে এগিয়ে চলেছে রুপম পাঠাগার। পাঠাগারটি এখন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক. অভিভাবক এবং সমাজ অন্যন্যদের আনাগোনায় সারাক্ষণ মুখরিত থাকে। ৪ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও কখনও এমন প্রাণ পায়নি পাঠাগারটি।। এ্যাকটিভ সিটিজেনসদের উদ্যোগ এলাকার মানুষের তথ্য প্রযুক্তি এবং সংবাদ গ্রহণকে করেছে সহজতর। এখন এখানে প্রায় ২০০ পাঠক নিয়মিত আসছেন এবং যার যা প্রয়োজন নিয়ে যাচ্ছেন পাঠাগার সম্ভার থেকে। পাঠাগার পুনজ্জীবনে সহযোগিতাকারী এবং মেন্টর জয়নাল আবেদীন বলেন “ আমি একজন উজ্জীবক। আমি পাঠগার গঠনের শুরু থেকেই দেখেছি মানুষ এখানে আসেনি। কিন্তু এ্যকটিভ সিটিজেনরা যেভাবে এলাকার মানুষকে সচেতন করে তুললো তাতে এখন আমার নিজের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হয়। রূপগ্রাম রুপম পাঠাগার অত্র এলাকার ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের বিশেষ  উপকারে এসেছে। এক্ষেত্রে সমাজ সেবক বুদ্ধিজীবিসহ সকল শ্রমজীবি মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি এ্যাকটিভ সিটিজেনদের কাজ এবং পাঠাগারের মঙ্গল কামনা করি।”

এ্যাকটিভ সিটিজেনদের কাজে সব সময় ইউনিয়ন পরিষদ সহযোগিতা করে থাকেন। দিবর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব মোঃ নুরুজ্জামান বলেন “৩নং দিবর ইউ পি ৫ নং ওয়ার্ডে রূপগ্রাম গ্রামের রুপম পাঠাগার সম্পর্কে আগে থেকেই জানতাম। এটি ছিল একটি ভুতুড়ে ঘর। আমি দেখেছি এখানকার এ্যাকটিভ সিটিজেনরা যেভাবে আমাকে এবং এলাকার মানুষকে পাঠাগার ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলেছে তাতে অচিরেই এটি একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। আমার ৫নং ওয়ার্ডবাসীর গর্ব করার বিষয় এখন এটি। এলাকার সকল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক এবং যারা দেশ বিদেশের খবর জানতে আগ্রহ বোধ করেন সবার মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে রুপগ্রাম মোড়। পাঠাগার স্থাপনের মধ্যে দিয়ে জনগন ভাল ভাল বই পুস্তক পাঠ করতে পারে এবং বিভিন্ন প্রকার জ্ঞান সঞ্চয় করতে পারে। যা জনগণের উপকারে আসে । আমি মনে করি এরূপ গ্রন্থাগার সকল ওয়ার্ডে স্থাপণ করা দরকার। পাঠাগারের ব্যাপারে আমার দিক থেকে সবধরণের সহায়তা আমি করব। আমি চাই মানুষ বই এবং পত্রিকা পড়ে জ্ঞান অর্জন করুক এবং সবার রাজনৈতিক সচেতনতা  বৃদ্ধি পাক ।”

রুপম পাঠাগারের সভাপতি প্রফেসর সুলতান মাহমুদ বলেন “আমি কয়েকজন সহযোগীদের নিয়ে ২০০৮ সালে রূপগ্রাম রেজিঃ প্রাঃ বিদ্যালয় প্রারঙ্গনে এলাকার সকল বিজ্ঞজনদের সহযোগীতায় অত্র পাঠাগার গঠনের উদ্যোগ নেই। সকল শিক্ষা ধরে রাখা এবং তা দিয়ে সুশিক্ষিত সমাজ গঠন করাই ছিল আমার মূল লক্ষ্য। কিন্তু কিছুদিন পর পাঠাগারটি বন্ধ হয়ে যায়। দি-হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের ট্রেনিংপ্রাপ্ত বেশ কিছু ছাত্র/ছাত্রী নতুন করে উদ্যোগ গ্রহন করে পাঠাগারটিকে বর্তমান চলমান অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসে। আমি চাই কেউ যেন শিক্ষিত সমাজ থেকে ঝরে না পড়ে।”

এ্যাকটিভ সিটিজেনরা মনে করেন প্রচেষ্টা থাকলে এবং তার সাথে আনত্মরিকতা যোগ করলে অনেক ভাল কিছু করা সম্ভব। আমরা শুরু করেছি । এখন সামনে এগিয়ে যাবার পালা।

 

Advertisements

One comment

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s