আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন

টাংগাইল সরকারি সা’দত কলেজ ইউনিটের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন মাতৃভাষা দিবস পালন
সরকারি সা’দত কলেজ ইয়ূথ বন্ধুদের উদ্যোগে ২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপন করা হয়। সকাল ০৬.৩০ মিনিটে অত্র কলেজের অধ্যক্ষ জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম ও অন্যান্য শিক্ষকমন্ডলীসহ ইয়ূথ বন্ধুরা কলেজ চত্বরের শহীদ মিনারে পুষ্পস-বক অর্পণ করেন। পুষ্পস-বক অর্পণ শেষে আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন ইয়ূথ লিডার রত্না ও মাহবুব এবং সর্বশেষে সকল ইয়ূথ বন্ধু কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
রিপোটার- মোঃ মাহবুব আলম।

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন
২১ ফেব্রুয়ারী শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে হাতিবান্দা ইউনিয়নে স্থানীয় ইয়ূথ সদস্যরা বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করে। কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ২০ ফেব্রুয়ারী নর্থ ষ্টার স্কুলে রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অত্র বিদ্যালয়ের অষ্টম-দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। এদিন রাতে ইয়ূথ সদস্যরা আনর্-জাতিক মাতৃভাষা দিবস সংক্রান- নানা ফেস্টুন এলাকার দেওয়াল গুলোতে লাগায় । এরপর ২১ ফেব্রুয়ারী সকাল ৭ টায় নর্থ ষ্টার স্কুলের শিক্ষার্থী এবং হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ইয়ূথ লিডর্সদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য প্রভাতফেরী  এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
প্রভাতফেরী  শেষে স’ানীয় বৌর্ধভূমির স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পন করে। এরপর ছোট ছোট সোনামনিদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সকাল ১১ টায় নর্থ ষ্টার স্কুলে আনর্-জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: শামসুদোহা সহ অন্যান্য শিক্ষকমন্ডলী উপসি্থত ছিলেন। এটি আযোজনে যারা অনবদ্য ভূমিকা রাখেন লিমন,আজাদ, লাকী , নাসিমা এবং মনোয়ার । অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে সমন্বয় করেন মোঃ মোরাদ খান ।
রির্পোট- মোঃ মোরাদ খান।

নতুন প্রজন্মকে একুশের চেতনায় উজ্জীবিত করতে পাবনার  ঈশ্বরদীতে নানা উদ্যোগ
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে গত ২১ ফেব্রুয়ারী পাবনার ঈশ্বরদী ইউনিটের উদ্যোগে মোকারমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়। উল্লেখযোগ্য কর্মসূচীর মধ্যে ছিল চিত্রাঙ্কন, রচনা,সংগীত, বির্তক, নৃত্য,কুইজ,আবৃতি বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় ২ টি প্রাথমিক ও ১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। ২টি ক্যাটাগরীতে মোট ৭টি পর্বে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে ৪২টি পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোকারমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন দামুড়িয়া কলেজের প্রভাষক মো: হাসানুজ্জামান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে সুজন ঈশ্বরদী উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, মাসিক অরুনিমার সম্পাদক নাসরিন নিহার উপসি’ত ছিলেন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা অনুভূতি ব্যক্ত করেন এই প্রথম তারা এধরণের কোন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। তাই আগামীতে আরো বড় পরিসরে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান । অনুষ্ঠানটি আযোজনে সার্বিকভাবে সমন্বয় ও সঞ্চালনা করেন করেন ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-ঈশ্বরদী উপজেলা ইউনিটের কো-অর্ডিনেটর মো: মরিরুজ্জামান মনি এবং যুগ্ম কো-অর্ডিনেটর আলীমুর রেজা রাজন। এছাড়াও এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগিতায় যারা অনবদ্য ভূমিকা রাখেন রিমন,আশরাফুল ও  মেহেদী।
রিপোর্ট: আলীমুর রেজা রাজন

গণশিক্ষা আন্দোলন ফোরামের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন
আমরা বর্ণমালার জন্য রক্ত দিয়েছি এবং এই রক্তের পথ ধরেই দেশকে স্বাধীন করেছি। অথচ দুর্ভাগ্য, ভাষা আন্দোলন এর ৬০ বছর এবং স্বাধীনতার ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা বাংলাভাষার লেখ্য রূপকে সবার কাছে পৌঁছাতে পারিনি। বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী নিরক্ষর। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশের স্বাক্ষরতার হার শতকরা ৫৪.৮ ভাগ। (সূত্র: অথনৈতিক সমীক্ষা ২০১০, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়)। গণশিক্ষার শতকরা হার ৫৮.৩ ভাগ এবং প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ঝরে পরার হার শতকরা ৪৫.১ ভাগ (সূত্র: বাংলাদেশ সরকারের এমডিজি এর কান্ট্রি রিপোর্ট ২০০৯)। এই বিরাট জনগোষ্ঠীকে নিরক্ষর রেখে আমাদের কাঙ্খিত উন্নয়ন কোনদিনই সম্ভব না। প্রয়োজন তাদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়া এবং স্বেচ্ছাব্রতী আন্দোলনের মাধ্যমেই তা সম্ভব। এই বিশ্বাসে উজ্জীবিত হয়ে- “একুশের মিছিলে যোগ দিন, বছরে অন-ত একজনকে নিরক্ষরমুক্ত করার শপথ নিন” শ্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে গত ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১২গণশিক্ষা আন্দোলন ফোরামের উদ্যোগে  কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন  করা হয়। এদিন সকাল সাড়ে ৭ টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে নানা রংয়ের প্লাকাড ও ফেস্টুনে সজ্জ্বিত হয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালী সহকারে অংশগ্রহণকারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। এতে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. বদিউল আলম মজুমদার, দি পিপলস ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ড. আহসানুল হক, সংগঠক তাজিমা হোসেন মজুমদার, গণশিক্ষা আন্দোলন ফোরামের সমন্বয়কারী মাহমুদ হাসান রাসেল, কর্মসূচী সমন্বয়ক মোস-াফিজুর রহমান মুক্তা ইয়ূথ একটিভিষ্ট জিল্লুর রহমান এবং ইয়ূথ মোবিলাইজেশন ইউনিটের অশোক বিশ্বাস সহ নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে নিরক্ষরমুক্ত শতাধিক নারী -পুরুষ অংশগ্রহণ করে। গণশিক্ষা আন্দোলন ফোরামের এই অনন্য উদ্যোগের জন্য অন্যান্য সমমনা সংগঠন, মিডিয়া, শুশীল সমাজ এবং আয়োজকদের কাছে ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে। আমরা আশা করি, গণশিক্ষা আন্দোলন ফোরামের পক্ষ থেকে প্রতি বছর এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বারবার ধ্বনিত হতে থাকে “আসুন আমরা একজন শিক্ষিত মানুষ অন-ত একজন নিরক্ষর মানুষের দায়িত্ব নিই। তাকে সাক্ষরতা দানের মধ্য দিয়ে এই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করি’

রিপোর্ট: মোস্তাফিজুর রহমান মুক্তা

Advertisements