সম্ভাবনাময় দেশের জন্য সক্রিয় নাগরিক

 

সম্ভাবনাময় দেশের জন্য সক্রিয় নাগরিক
বাংলাদেশের তরুণদের অতীত গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস এবং বর্তমান সময়ে তরুণদের সংখ্যা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে তরুণদের মেধা, দক্ষতা, সৃজনশীলতাকে স’ানীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে সংযুক্ত এবং সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে শুরু হয় এ্যাকটিভ সিটিজেনস কর্মসূচী। এই কর্মসূচীর ৩ বছর পূর্ণ হলো, সেই সাথে সারাদেশের ১০ হাজার তরুণ নিজেদেরকে এ্যাকটিভ সিটিজেনস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। বিগত ৩ বছরে এই তরুণদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ও অবদান। সেই অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, জাতীয় ও বৈশ্বিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করার জন্য গত ০২-০৩ মার্চ ২০১২ ব্রিটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী এ্যাকটিভ সিটিজেন এচিভার্স সামিট বা সফল সক্রিয় নাগরিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই মিলনমেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল ১০ হাজার তরুণ এ্যাকটিভ সিটিজেনসদের ১৫০ জন প্রতিনিধি।

এ্যা ক টি ভ সি টি জে ন স এ চি ভা র্স সা মি ট ২ ০ ১ ২

এবার এই সম্মেলন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস-ান, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের ২২টি দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ্যাকটিভ সিটিজেন বা সক্রিয় নাগরিক কর্মসূচিটি ২০০৯ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিলের উদ্যোগে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে শুরু করা হয়েছিল। এছাড়া আফ্রিকা মহাদেশেও এর কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বিস-ৃত। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিভিন্ন দেশের এলাকাগুলোর সক্রিয়, প্রভাব সৃষ্টিকারী, নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী ও সক্ষম সক্রিয় নাগরিকদের মধ্যে একটি যোগসূত্র তৈরি করা, আন-র্জাতিক ও আন-ঃসাংস্কৃতিক সমপর্ক ও বিশ্বাসের উন্নয়ন ঘটানো এবং আন-ঃসাংস্কৃতিক ভিন্নতা সমপর্কে বোধ ও সহনশীলতা তৈরি করা। যারা সক্রিয় নাগরিক হিসেবে এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন সেইসব তরুণ-তরুণীকে নেতৃত্বের গুণাবলি, নেতৃত্ব দানের প্রয়োজনীয়তা, সামাজিক সক্রিয়তা, আন-ঃসাংস্কৃতিক বোধ ও সহনশীলতা, স্বেচ্ছাসেবায় আত্মনিয়োগ, সফল উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি বিষয়ে সচেতন করে তোলা হয় ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রথমে এই কার্যক্রম মাত্র ১৬ জনকে দিয়ে শুরু হলেও বাংলাদেশে এই কর্মসূচির আওতায় ৮০ টি এলাকায় ৩০০ এ্যাকটিভ সিটিজেন ইয়ূথ লিডারশিপ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে ১৫-২৫ বছর বয়সী ১০০০০-এরও বেশি ছেলে মেয়ের নেতৃত্বদান সমপর্কে পরিস্কার ধারণা প্রদানের জন্য। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এইসব ছেলে- মেয়ের মধ্যে একটি বড় অংশ প্রায় ৬০০ এর বেশি জায়গায় তাদের এলাকার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সামাজিক বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছে। এই কার্যক্রমগুলোতে শুধুমাত্র তরুণদেরকেই নয়, সকল প্রজন্মের মানুষকে যোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে তাদের চারপাশকে আরো উন্নত ও সুন্দর করে তোলার জন্য। গত তিন বছরে এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫০ জন তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন দেশের সম্মেলনে যোগ দেয়ার, সাংস্কৃতিক ধারণা বিনিময় করার, বিশ্ব নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন দেশের সাথে যথাযথভাগে যোগাযোগ স’াপন করার এবং অন্যান্য সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক বিভিন্নতাগুলোকে সঠিকভাবে বোঝার সুযোগ দেয়া হয়েছে। নারী-পুরুষ ভেদাভেদহীনভাবে এমন একটি সম্ভাবনার বাংলাদেশ দেখার আশা যে আমরা রাখতেই পারি এই ধরনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ও সফলদের পাতায় নাম লেখানো তরুণ-তরুণীরা সে কথাই মনে করিয়ে দেয় বারবার। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী, ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিচালক রোজমেরি আরনল্ডসহ দেশ-বিদেশের বেশ কয়েকজন বরেণ্য ব্যক্তি এতে অংশ নেন এবং এই আয়োজন সম্পর্কে মতামত দেন।

স্বাগত বক্তব্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের পক্ষ থেকে এ্যাকটিভ সিটিজেনস সহায়ক মোহাম্মদ হানিফ বলেন, আমি আজ আনন্দিত। আমরা স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে থেকে কাজ করে যাচ্ছি । আগামী দিনগুলোতে আমাদের একাত্মতা বজায় থাকবে এবং সকলকে সাথে নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো এ বিশ্বাস আছে। আমরা ইচ্ছে করলে অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারি। সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে আমরা এগিয়ে যাবই….।
উদ্বোধনী পর্বের প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেন, ইতিবাচক ও টেকশই পরিবর্তনের প্রথমে উন্নয়নের  বাধাগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং তা দূর করতে উদ্যোগ নিতে হবে। এরজন্য প্রয়োজন নিজেদের অনর্-নিহিত শক্তি অনুভব করে তা কাজে লাগানো। প্রয়োজন হবে আগের প্রজন্মের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, সরকার সামাজিক পরিচালনার একটি অংশমাত্র সরবরাহ করে। বাকি অংশ জনগণের হাতে। ঐ ভূমিকা জনগণকে পালন করতে হবে। সক্রিয় নাগরিকরাই উন্নয়ন পথের অগ্রযাত্রী । তাই উন্নয়ন কর্মকান্ডে জনগণকে সক্রিয় হতে হবে, রাজনীতিবিদদের সে সুযোগ করে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন নেতৃত্ব বিষয়ে আমাদের আরো চিন-া করতে হবে। এটি একেবারে কারিশমাটিক কিছু নয়, যে রাতারাতি অর্জিত হয়। শুধু নেতৃত্বকে অনুসরণ যথেষ্ট নয়।  সক্রিয়ভাবে কোন কাজে অংশগ্রহণ নেতৃত্ব গ্রহণের মতই। তাই নেতাদের উচিত, জনগণের জন্য কি করবেন, শুধু তা না বলে তাদের হাতেও দায়িত্ব-কর্তব্য তুলে দেওয়া।

উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম মাজুরুল হক বলেন, ভিশন ২০২১ বাস-বায়নে তরুণদের ভূমিকাই প্রধান। তাই টেকশই ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সক্রিয় তরুণ ও নাগরিক কর্মোদ্যোগ প্রয়োজন।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিচালক রোজমেরি আরনল্ড বলেন, শানি-পূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সমাজ রাষ্ট্র পরিচালনায় তরুণদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কর্মোদ্যোগ জাতীয় এমনকি আনর্-জাতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়। এ সম্মেলনের মাধ্যমে সে ধরনের কিছু দিক নির্দেশনা উঠে আসবে বলে তিনি আশা করেন।

পুরো আয়োজনটি এমনভাবে সাজানো হয় যাতে পরষ্পরের কাছে অভিজ্ঞতা বিনিময়, অংশগ্রহনমূল এবং শিক্ষণীয় হয়ে উঠে। মোট চারটি পর্বের আয়োজনের প্রথম পর্বে ছিল ’তরুণদের উন্নয়নে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের ভূমিকা শীর্ষক’ আলোচনা। প্যানেল  আলোচকদের মধ্যে মূল প্রবন্ধ উপস’াপন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ্যকসেস টু ইনফরমেশন প্রজেক্টের পলিসি এ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী। প্যানেলের অন্যরা  হলেন ডিনেট-এর নির্বাহী পরিচালক অনন্যা রায়হান, ওয়ান ডিগ্রী ইনেসিয়েটিভ এর্‌ শাবহানাজ রশীদ দিয়া । পর্বটি সঞ্চলনা করেন ব্র্যাকের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক আসিফ সালেহ । আলোচনায় উঠে আসে আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে তরুণরা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে খুব সহজে নিজেদের এবং সমাজের উন্নয়ন ঘটাতে পারে।

আলোচনার দ্বিতীয় পর্বটি ছিল ’তরুণদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তরূণদের সম্পৃক্ততা’ নিয়ে। এই প্যানেল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস’াপন করেন বিশ্ব ব্যাংকের সংসদীয় সক্ষমতা কর্মসূচীর এশিয়া আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশের দলনেতা নাইল জনস। প্যানেলে ছিলেন এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রদীপ প্রজেক্টের পরিচালক শিলা তাননীম হক, যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ডিএফআইডি যুব গ্রুপের পরামর্শক এ্যালেক্স ফেরো । এটি সঞ্চলনা করেন ব্রিটিশ যুব পরিষদের , যুক্তরাজ্যের আনর্-জাতিক বিষয়ক প্রধান জেমস এডলেসটন। এই আলোচনায় মধ্যদিয়ে স্পট হয় যে, আমরা সমাজ উন্নয়নের পাশাপাশি যদি আমাদের অংশগ্রহন নীতিনির্ধরণী পর্যায়ে ঘটাতে না পারি তাহলে প্রর্কত উন্নয়ন সম্ভব নয় এবং সে উন্নয়ন টেকসইও হবেনা।

’বিশ্ব নাগরিকত’্ব শীর্ষক আলোচনা নিয়ে ছিল প্যানেলর তৃতীয় আলোচনা  এর মূল প্রবন্ধ উপস’াপন করেন এ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির। প্যানেলে ছিলেন সল্যুসন এক্সচেঞ্জ এর স’ানীয় সহায়ক সমন্বয়কারী শাহানা সিদ্দিকী , ব্রিটিশ কাউন্সিল যুক্তরাজ্যের পরামর্শক ড্যানিয়েল স্মিথ। এটি সঞ্চলনা করেন রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক ইফতি রাশিদ । আলোচনায় এটি গ্রহনযোগ্য হয় যে, আমরা পৃথিবীর যে প্রনে-ই বসবাস করিনা কেন আমরা সকলেই এই পৃতিবীর নাগরিক। আমাদের প্রত্যেকের ছোট্ট একটি ভালো কাজ সারা পৃথিবকিেই প্রভাবিত করতে পারে, তেমনি একটি মন্দ কাজের প্রভাব হতে পারে বিশ্বময়। তাই আমি শুধু আমার নই আমাদের আর আমাদের ভাবতে পারাটাই বিশ্ব নাগরিকত্ব।

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ও গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. বদিউল আলম মজুমদার এর মূল প্রবন্ধ উপস’াপনায় চতুর্থ পর্বটি ছিল ’স’ানীয় উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা। প্যানেলের অন্য আলোচকরা হলেন যুক্তরাজ্যের শিক্ষা ও গণতান্ত্রিক বিষায়ক পরামর্শক জেসমিন দানিশ । এটি সঞ্চলনা করেন সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট কমিউকেশনের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর । এই আলোচনায় সকলে একমত হন যে, স’ানীয় উন্নয়ন হবে স’ানীয় মানুষের সম্পৃক্ততা ও অংশগ্রহনে। দান অনুদান বা দাতা গোষ্ঠি নির্ভর উন্নয়ন প্রকৃত টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। এক্ষেত্রে তরুণরায় পারে উন্নয়নের এই গতানুগতিক সংস্কৃতি বদলে দিতে।

আয়োজনের সর্বশেষ ছিল আইন প্রণয়নকারীদের সাথে এ্যাকটিভ সিটিজেনসদের কথপোকথন। এখানে অংশ নেন , জুনায়েদ আহমেদ পলক (এম,পি) ও রাশেদা বেগম হীরা (এম,পি)। এটি সঞ্চলনা করেন আশরাফ কায়সার। কথপোককনের মাধ্যমে তরুণরা আইন প্রনয়ণকারীদের নিকট বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তুলে ধরে, যেমন বর্তমান জাতীয় রাজনীতি, ছাত্র রাজনীতি, শিক্ষাব্যাবস’া ইত্যাদি বিষয়ে। সকলের অংশগ্রহনে কথোপকথন পর্বটি অত্যান- প্রাণবন- হয়ে উঠে।
এরপর শুরু হয় সামজিক উদ্যোগ সম্মননা ও সমাপনী পর্ব। এই পর্বে সভাপতি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিচালক রোজমেরি আরনল্ড। প্রধান অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন ব্রিটিশ হাই-কমিশনার এইচ.ই. রবার্ট গিবসন। অন্যদের মধ্যে উপসি’ত ছিলেন জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা রক আইকন আইয়ুব বাচ্চু ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রোগ্রাম ডেভলপমেন্ট ম্যানেজার ম্যাথিউ নলজ এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্টের উপ-পরিচালক (কর্মসূচী) নাসিমা আক্তার জলি । সম্মননা প্রদান ও সমাপনী পর্বটি পরিচালনা করেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হক।
এই সামিটে সারাদেশ থেকে আসা এ্যাকটিভ সিটিজেনসদের প্রদর্শনী উদ্যোগের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয।  সিলেট বিভাগের মৌলভী বাজার জেলার  শ্রীমঙ্গল উপজেলার এ্যাকটিভ সিটিজেনসদের  মাদক প্রতিরোধ বিষয়ক উদ্যোগটি শ্রেষ্ঠ উদ্যোগের স্বীকৃতি ও সম্মাননা পায়।  এছাড়াও ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশের পক্ষ প্রর্দশিত সামজিক উদ্যোগগুলির মধ্য থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে ৭টি উদ্যোগকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সিলেট বিভাগ থেকে এই সম্মাননা পায় মৌলভী বাজারের মাদক প্রতিরোধ, ঢাকা বিভাগ থেকে কিশোরগঞ্জের স্যানিটেশন, রাজশাহীবিভাগ থেকে চারঘাটের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ , খুলনা বিভাগ হতে কুষ্টিয়ার নিরক্ষরতা দূরীকরণ, রংপুর বিভাগ হতে রংপুরের চতরারর ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, চট্টগ্রাম বিভাগ হতে স’ানীয় সংগঠন: আহবান এবং বরিশাল ড়্গিভাগ হতে আত্ম-কর্মসংস’ান সৃষ্টি বিষয়ক সামাজিক উদ্যোগটি বিশেষ সম্মাননা ও স্বীকৃতি গ্রহণ করে।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মেহেরপুরের এ্যাকটিভ সিটিজেন  ইয়ূথ লিডার আফসানা মিমি বলেন, আমি বলব, একজন এ্যাকটিভ সিটিজেন  হিসেবে আমাদের  সফলতা আর্থিকভাবে নয় বরং আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির রুপান-র ঘটাতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের উজ্জ্বল আলোয় সারা বিশ্ব আলোকিত হয়ে উঠবে।

শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজারের এ্যাকটিভ সিটিজেন  ইয়ূথ লিডার রাশেদ খান বলেন, আমি এখানে এসে বুঝতে পারলাম আমাদের মধ্যেই রয়েছে দেশকে জাগিয়ে তোলার সাহস ও শক্তি ।  এই আয়োজনের প্রতিটি মূহুর্তই ছিল আনন্দঘন। শেখা ও জানার প্রবল আগ্রহ সমাবেশকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এই দুটো দিন আমাদের জীবনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সন্ধ্যায় এ্যাকটিভ সিটিজেনসদের অংশগ্রহণে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের এবং সকলের অংশগ্রহণে নৈশভোজের মধ্যদিয়ে দুইদিন ব্যাপী এ্যাকটিভ সিটিজেনসদের এই মিলন মেলার সমাপনী হয়। মিলন মেলা শেষে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী চোখে-মুখে উজ্জ্বল দীপ্তি আর এগিয়ে চলার আত্মবিশ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সুন্দর ও আলোকিত ভবিষৎ সৃষ্টির প্রত্যাশায় এ্যাকটিভ সিটিজেনসদের সকল উদ্যোগ আরো এগিয়ে যাক! ‘বৃত্ত ডিঙিয়ে -আরেক বৃত্তে, দূরে হহু দূরে…’-এটাই যেন আমাদের প্রত্যাশা।  উল্লেখ্য, এই মিলন মেলাকে সাফল্যমন্ডিত করে তোলার লক্ষ্যে ইয়ূথ মোবিলাইজেশন ইউনিটের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আব্দুস সবুর, অশোক বিশ্বাস, পরমা কন্যা এবং কাজী রাবেয়া এমি।

রিপোর্ট: ইয়ূথ মোবিলাইজেশন ইউনিট

Advertisements