সেচ্ছাশ্রমে নিরক্ষরমুক্ত হতে চলেছে বারখাদা ইউনিয়ন

সাংস্কৃতিক রাজধানী ও বাউল সম্রাট লালনের দেশ হিসেবে পরিচিত জেলা কুষ্টিয়া। এই জেলার সদর উপজেলা  থেকে প্রায় ২ কিঃ মিঃ পশ্চিমে অবসি’ত বারখাদা ইউনিয়ন। ২০০৯ সালে যখন এ্যাকটিভ সিটিজেনস কার্যক্রম শুরু হয় তখন বারখাদা ছিল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৪ টি কমিউনিটির একটি। ১৭-২০ জানুযারী ,২০১০ সালে ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে এ্যাকটিভ সিটিজেনস প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়, প্রশিক্ষণ শেষে অন্য সব কমিউনিটির মতো এখানেও প্রশিক্ষনার্থীরা দুটি সামাজিক উদ্যোগ গ্রহন করে তার একটি হলো নিরক্ষরতা দূরীকরণ, অন্যটি বল্যবিবাহ প্রতিরোধ। এই কমিউনিটি উদ্যোগের মতো সারা দেশে অসংখ্য উদ্যোগ রয়েছে কিন’ এই উদ্যোগ নিয়ে সফলতার কথা লেখার একটি বিশেষ কারন রয়েছে। উন্নয়ন জগতে একটি শব্দ বহুল প্রচলিত তা হচ্ছে ’স’ায়িত্ব বা টেকসই’। বারখাদার সামাজিক উদ্যোগটি সেরকম একটি উদ্যোগ যাকে  স’ায়িত্ব বা টেকসই এর অনন্য উদাহরণ বলা যেতে পারে।

চলছে গণশিক্ষা কার্যক্রম

প্রশিক্ষণ পরবর্তী সময়ে সামাজিক উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সূচনালগ্নেই এ্যাকটিভ সিটিজেনসরা সিদ্ধান- যে, তারা দুটি নয় একটি উদ্যোগকেই সফল করবার জন্য কাজ করবে এবং তা হলো নিরক্ষরতা দূরীকরণ, ফলে অপর উদ্যোগটি পরবর্তীতে আর আলোর মুখ দেখেনি। সকলের নেওয়া সিদ্ধানে- শুরু হলো কার্যক্রম, এই কার্যক্রমের সবটাই ছিল একটু ব্যাতিক্রমী। এখন মূল কাজের কথায় যাওয়া যাক। বারখাদা ইউনিয়নের মূলত ৩ টি ওয়ার্ডে এই কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। ওয়ার্ডের প্রতিটি গ্রামে জরিপ চালিয়ে বের করে এখানে মোট নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা কত, যাদের বয়স কিনা ১৫ বছরের উর্ধে। এই মানুষ গুলোকে নিরক্ষরমুক্ত হতে উৎসাহিত করার জন্য প্রতি গ্রামে প্রদর্শন করা হয় পথ নাটক। ’অধত্ব’ নামক এই নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় নিরক্ষরতার ভয়াবহতা এবং তা থেকে মুক্ত হবার প্রয়োজনীয়তা। নিরক্ষরমানুষের সংখ্যা বিবেচনায় সম্পূর্ন এলাকাটিকে নিরক্ষর মুক্তকরণ কয়েকটি কেন্দ্রে ভাগ করা হয়। প্রত্যেকটি কেন্দ্রের জন্য দুজন এ্যাকটিভ সিটিজেন যারা দায়িত্ব পালন করবে সেচ্ছাসেবক শিক্ষক হিসেবে। প্রত্যেক সেচ্ছাসেবক শিক্ষক নিরক্ষর মানুষদের অক্ষর জ্ঞান দানে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত।
তিনটি ওয়ার্ডে ৬ টি কেন্দ্র চালু হলে প্রথমে লোকজন আসতে চাইতো না আসে- আসে- যখন তারা বুঝল এটি তাদের উপকারের জন্যই যদি, তারা কেন্দ্রে না যায় তাহলে তাদেরই ক্ষতি। এভাবে একজন লাভবান হলে সে অন্যকে বলতে লাগল দেখা গেল কেন্দ্রগুলি আসে- আসে- পরিপূর্ণ হতে শুরু করেছে। নিরক্ষর মুক্তকরণে ব্যাবহারিত বিশেষ পদ্ধতির বইটি লিখেছেন অধ্যাপক আহসানুল হক।  বইটি অনুসরণ করলে একজন নিরক্ষর মানুষ ৪৫ দিনে সহজ বাংলা লিখতে, বলতে ও পড়তে পারবে। বারখাদাতেও তাই হলো প্রায় ৫০ দিনের মাথায় শুরু করা ১২০ জন নারী পুরুষের মধ্যে প্রায় ৯৫ জন এই কোর্স শেষ করলো। পড়তে শেখা এসব মানুষের নিয়ে আয়োজন হলো অভিজ্ঞতা বিনিময় সভার। যেখানে সেই মানুষ গুলো কথা বললো যারা এই কেন্দ্র থেকে পড়তে শিখেছে, এই সভায় উপসি’ত হলো এলাকার অনেক সুধীজন ও শিক্ষানুরাগীরা, এতদিনে সকল  জানল এই তরুনরা কি করছে এবং কেন করছে।

সচেতনতা মুলক পথনাটক

এভাবে ২০১০ সালের ফ্রেবুয়ারী মাসে শুরু হওয়া কেন্দ্রগুলি পার করেছে অনেক গুলি ব্যাচ, এ্যাকভি সিটিজেনসদের এই নিরক্ষরমুক্ত আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন স’ানীয় অনেক সুধীজন। তাদের সফলতা প্রকাশিত হয়েছে স’ানীয়, জাতীয় অনেক পত্রিকায়। তরুণদের এই কর্মযজ্ঞ সরাসরি দেখতে গেছেন অধ্যাপক আনিসুর রহমান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, দি হাঙ্গার প্রজেক্টের ২২ সদ্যসের গ্লোবাল টিম, চ্যানেল আই এর ডকুমেন্টরী টিম, ভি, এস ও বাংলাদেশের লারনিং ভিজিটর টিম ও ব্রিটিশ কাউন্সিল প্রতিনিধি বৃন্দ।
সফলতার এই গল্প লেখা পর্যন- সময়ে এ্যকটিভ সিটিজেনসরা জানান, তাদের এই উদ্যোগ এখোনো চলমান, যতদিন না তাদের ইউনিয়ন নি

লাইব্রেরী

রক্ষরমুক্ত হবে ততদিন এই নিরক্ষরমুক্তির এই আন্দোলন চলবে। এই আন্দোলনে যারা বিশেষ ভাবে যুক্ত যেমন , মাহমুদ হাসান- শিক্ষার্থী, সুজন ইসলাম- শিক্ষার্থী, সুমী খাতুন-শিক্ষাথী, সোহেল আহমেদ-শিক্ষার্থী,  কানাইলাল শর্মা- সমাজ সেবক, সমর কুমার- উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, আনোয়ার আলী- মেয়র কুষ্টিয়া পৌরসভা সহ অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তারা এই কাজটিকে কোন এনজিও বা দাতা গোষ্ঠির কাজ মনে করেনা তারা মনে করে এটি তাদের কাজ এবং করবার দায়িত্বও তাদেরই।

Advertisements