স্বেচ্ছাশ্রমের অনন্য উদাহরণ

এ্যাকটিভ ইয়ূথ সিটিজেনসীপ প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর খুলনার রংপুর ইউনিয়নের এ্যাকটিভ সিটিজেনরা গ্রহন করেছে একটি ব্যাতিক্রমী সোশ্যাল একশান প্রজেক্ট।  প্রশিক্ষণেএকটিভ সিটিজেনরা সিদ্ধান- গ্রহন করে যে, তারা শিশুদের স্বাহ্য ও পুষ্টি সচেতনতা নিয়ে কাজ করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্ম এলাকা হিসেবে বেছে নেয় তাদের ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। এ্যাকটিভ সিটিজেন ৪০জন ৪ টি দলে ভাগ হয়ে যায় ১০ জন করে নিয়ে গঠিত হয় ১ টি গ্রুপ। ইউনিয়নের সমস- বিদ্যালয় গুলোকে গ্রুপের মাঝে ভাগ করে দেওয়া হয়। এতে করে  প্রতেকটি গ্রপের দায়িত্ব পড়ে ৩ টি স্কুলের। গ্রুপের প্রচারাভিযানের সময় তারা বুঝতে পারে এসকল স্কুলের ছেলে মেয়েরা অত্যন- দরিদ্র পরিবারে এছাড়া তারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, স্বাথ্য পরিচর্যা ইত্যাদি বিষয়েও অভ্যস- নয়। প্রত্যেক গ্রপের প্রচারাভিযানের অভিজ্ঞতা নিয়ে যখন তারা সমন্বয় সভা করে তখন  অনিমেষ নামের একজন একটিভ সিটিজেন একটি ব্যতিক্রমী একটি কাজের করার প্রস-াব জানাই। তার প্রস-াবটি ছিল গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদেরকে বিনাম্যল্যে চুলকাটা, নখকাটা, সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করে দেয়া ইত্যাদি। অন্য

একটিভ সিটিজেনসদের চুল কাটানোর কার্যক্রম

সমস- পরিকল্পনার ব্যাপারে সকলে একমত হলেও বাচ্চাদের চুল তারা কিভাবে কাটবে? গ্রহ। অবশেষে তারা সিদ্ধান- নেয় তাদের মধ্যে কাউকে, কাউকে চুল কাটার ব্যাপারে প্রশিক্ষণ নিতে হবে কিন’ স্কুলে গিয়ে চুল কাটতে হবে বিষয়টি অস্বসি-কর। একপর্যায়ে সবুজ, রাজিব, নিসিকতি স্বেচ্ছায় এই কাজটি করতে অগ্রহ প্রকাশ করে। প্রথমে তারা স’ানীয় একটি সেলুন থেকে কয়েকদিন প্রশিক্ষণ নেয় এবং  খুর, কাচিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ ক্রয়করে।  প্রথমে অনিমেষের তার ছোট ভাইয়ের চুল কাটানোর মধ্য দিয়ে পরক্ষিামূলকভাবে কার্যক্রম  শুরু করে। এরপর ইউনিয়নের ঘুনা মাদারডাঙ্গা রেজি: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ জন বাচ্চার চুল কাটার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে সরকারি পাতারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষকদের সম্মতি নিয়ে ১১ জনের  চুল কাটা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে দেড়মাস পর ঘুনা মাদারডাঙ্গা রেজি: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আরও ৮ জনের চুল কেটে দেয়। এরপর ৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে ১০০ জন ছেলের চুল ছোট করে দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।  বাচ্চাদের চুল কাটার পাশাপাশি নখ কাটার জন্য কেনা হয়েছে ২০ টি নখ কাটার মেশিন স্কুলে, স্কুলে গিয়ে একটিভ সিটিজেনসরা  বাচ্চাদেরকে কেটে দিচ্ছে নখ। সাবান ও বালতিতে পানি নিয়ে বাচ্চ দের শেখানো হচ্ছে হাত ধোয়া। এই পুরো কাজটি হচ্ছে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে। কাজগুলি করার জন্য সমান্য যেটুকু অর্থকড়ি প্রয়োজন হচ্ছে তা তারা যোগাড় করছে নিজেদের চাঁদা, এলাকার সূধীজনদের সহায়তা, ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তার মাধ্যমে। এ্যাকটিভ সিটিজেনদের এই কার্যক্রম দেখে প্রথমে অনেকেই তাদেরকে উপহাস করতে থাকে কিন’ তাতে তারা দমে যায়নি। তবে প্রতিটি স্কুলের শিক্ষক ও বাচ্চারা তাদেরকে প্রসংসা করেছে। এখন চুল কাটানোর দলে শুধু সবুজ, রাজিব, নিসিকতিই নয়, এইদলে যুক্ত হয়েছে আরো অনেকেই। এলাকার অনেকের কাছেই তারা পাচ্ছে প্রশংসা।

Advertisements