ভূমিকম্পে করণীয়– জানুন এবং সবাইকে জানান

[লিংক]

বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঘটনা একের পর এক ঘটে গেলেও তা আমাদের তেমন একটা সচেতন করতে পারেনি। যে দূর্যোগের কোন পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব নয় তার থেকে বাচতে হলে প্রয়োজন এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। চলুন আমরা আমাদের জীবন-মরণ প্রশ্ন নিয়ে হেলাফেলা না করে একে মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত থাকি এবং সবাইকেপ্রস্তুত করে তুলি।

প্রতিরোধ (ভূমিকম্পের আগে করণীয়)

ঘরেরপ্রস্তুতিআশ্চর্য মনে হলেও সত্যি যে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির মূল কারণ বিল্ডিং ধসে পড়া নয়। বরং আসবাব, ভঙ্গুর কাঠামো অথবা তৈজসপত্রের কারণেই বেশিরভাগ ক্ষতি হয়ে থাকে। জোরাল ভূমিকম্পের সময় মেঝের আগে-পিছে ঝাকুনি সেকেন্ডে কয়েক ফুটপর্যন্ত হতে পারে যার কারণে ঘর থেকে বের হওয়া দুস্কর হয়ে পড়ে এবং ঘরেরমাঝে ছুটন্ত বস্তুর আঘাতেই আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা প্রবল থাকে। এর থেকে রক্ষা পেতে হলে –

  • শেলফ ও আলমারিতে বড় ও ভারি মালপত্র নিচের দিকে রাখুন।
  • ভঙ্গুর তৈজসপত্র যেমন বোতল, গ্লাস, কাপ, প্লেট ইত্যাদি বন্ধ ক্যাবিনেটে রাখুন।
  • দেয়ালে ঝোলানো ভারি শো-পিস যেমন ছবির ফ্রেম, আয়না ইত্যাদি বিছানা, সোফা অথবা অন্য কোন বসার স্থান থেকে দূরে রাখুন।
  • ত্রুটিযুক্ত বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং এবং গ্যাসের লাইন মেরামত করে নিন। এসব স্থান থেকে সহজে আগুন ধরতে পারে।
  • দেয়ালে বা সিলিং এ ফাটল থাকলে মেরামত করে নিন; এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত নেয়ার দরকার হতে পারে।
  • যেসব বিল্ডিং এখনো তৈরি হয়নি সেগুলো যথাযথ বিল্ডিং কোড মেনে তৈরি করুন।

ঘরে-বাইরে ভূমিকম্প হতে নিরাপদ স্থানসমূহ চিহ্নিত করুন

  • ভারি টেবিল বা মজবুত চৌকি বা খাটের নিচে।
  • ভিতরের দিকের দেয়ালের পাশে (সীমানার দিকের দেয়াল ও জানালার কাছে থাকা বিপজ্জনক)।
  • জানালা, ছবির ফ্রেম বা আয়না জাতীয় ভঙ্গুর কাঠামো এবং ঝাকুনিতে পড়ে যেতে পারে এমন ভারি আসবাব থেকে দূরে।
  • ঘরের বাইরে খোলা এলাকা – যা কোন বিল্ডিং এবং বৈদ্যুতিক লাইন থেকে দূরে।

নিজে পরিবারের সবাই সচেতন হোন

  • ভূমিকম্পের আগে, ভূমিকম্পের সময় ও এর পরে কি করণীয় সে বিষয়ে সচেতনতা।
  • ভূমিকম্প হতে নিরাপদ স্থানগুলো চিহ্নিত করার যোগ্যতা যাচাই।
  • ভূমিকম্পের সময় কি করতে হবে তার মহড়া।

শুধু নিজে নয়, অপরকেও এসব জানতে সাহায্য করুন

  • পোস্টার, বিলবোর্ডের মাধ্যমে।
  • ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এই প্রবন্ধটি শেয়ার করার মাধ্যমে।
  • স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ঘরে ঘরে অথবা স্কুল-কলেজে প্রচারের মাধ্যমে।

মোকাবেলা (ভূমিকম্পের সময় করণীয়)

ভূমিকম্পের সময় চলাফেরা কঠিন ও বিপজ্জনক। তাই যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়া প্রয়োজন। দৌড়ে বের হওয়া তখনই উচিত হবে যখন আপনি বাড়ির গেট এর কাছে থাকবেন এবং বাইরে বিল্ডিং ও বৈদ্যুতিক লাইন থেকে দূরে যাওয়া খুব অল্প সময়ের মধ্যে সম্ভব। কাজেই, বাইরে বের হওয়া সম্ভব না হলে ঘরের নিরাপদ আশ্রয় ব্যবহার করা প্রয়োজন।

 

হামাগুড়ি – আশ্রয় ও ধরে রাখার পদ্ধতি।

 

ভেতরের দিকের দেয়ালের কাছে আশ্রয় নেয়া।

বাড়ির ভিতরে থাকলে

  • মাটিতে হামাগুড়ি দিয়ে বসে পড়ুন, ভারি টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নিন এবং খাট বা টেবিলের পায়া ধরে রাখুন যাতে করে ঝাকুনিতে তা সরতে না পারে।
  • নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে না পারলে হাত দিয়ে মাথা ঢেকে ভেতরের দিকের কোন দেয়াল বা কোনায় বা কলামের গোড়ায় হামাগুড়ি দিয়ে বসে পড়ুন।
  • পতনশীল ভারি আসবাব, ছবির ফ্রেম, আয়না, জানালা থেকে দূরে থাকুন।
  • বিছানায় শোওয়া অবস্থায় থাকলে বিছানা থেকে বেশি দূরে যাবার চেষ্টা করবেননা। খাটের নিচে বা নিকটতম নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন।
  • লিফট বা এলিভেটর ব্যবহার করবেননা।
  • মনে রাখবেন, বিদ্যুত সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে যা কিনা আপনার চলাফেরাকেও ব্যাহত করতে পারে।

বাড়ির বাইরে বা গাড়িতে থাকলে

  • বিল্ডিং, বৈদ্যুতিক লাইন, ল্যাম্পপোস্ট থেকে দূরে থাকুন।
  • বড় ভূমিকম্পের পরেও কয়েক দফা মৃদু কম্পন হতে পারে। কাজেই ঝাকুনি শেষ হওয়ার পরেও কিছুক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করুন।

ভেঙ্গে পড়া বাড়িতে আটকা পড়লে

  • আগুন জ্বালাবেননা। গ্যাস লাইন লিক করে থাকলে তা আগ্নিকান্ডের সূত্রপাত করতে পারে।
  • ধীরে নড়াচড়া করুন।
  • কাপড় বা রুমাল দিয়ে নাকমুখ ডেকে নিন ও উদ্ধারের অপেক্ষায় থাকুন।

প্রতিকার (ভূমিকম্পের পরে করণীয়)

  • বড় ভূমিকম্পের পরবর্তী মৃদু কম্পনের জন্য প্রস্তুত থাকুন। এ ধরণের কম্পন মূল কম্পনের এক ঘন্টা থেকে এক মাসের মধ্যে যেকোন সময় হতে পারে।
  • শেলফ, আলমারি খোলার সময় সাবধান থাকুন। মালপত্র সহজেই পড়ে যেতে পারে।
  • ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থান থেকে দূরে থাকুন যদি না আপনার সাহায্য একান্ত প্রয়োজনীয় হয়।
  • সমুদ্র এলাকার লোকজন সুনামি বা উচু জোয়ারের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
  • আটকা পড়া বা আঘাতপ্রাপ্ত মানুষকে সাহায্য করুন।
  • গ্যাসের গন্ধ বা নির্গমণের শব্দ পেলে জানালা খুলে দিন ও দ্রুত বের হয়ে যান। যথাশীঘ্র তা মেরামত করার ব্যবস্থা নিন।
  • বিদ্যুতের স্পার্ক দেখলে মেইন সুইচ বন্ধ করে দিন, যাওয়ার পথে পানি থাকলে নিজে মেরামত না করে ইলেক্ট্রিশিয়ানের পরামর্শ নিন।

শেষ করার আগে বলতে চাই, এই তথ্য সবাইকে জানিয়ে দিন। যেকোন স্থানে শেয়ার করুন। আপনার সামান্য তথ্য শেয়ার হতে পারে অনেক মানুষের জীবন রক্ষার কারণ! ধন্যবাদ।ভালো থাকুন।

 

 

 

আর্টিকেলটি পড়া হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না:

 

Advertisements