অন্যান্য বিশেষ সংবাদ

রুদ্ধশ্বাস নাটকিয়তার পর বাল্য বিবাহটি বন্ধ হলো

২০১০ সালের শেষ দিকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের পক্ষ থেকে একটি লিফলেট ছাপানো হয় যাতে উল্লেখ ছিল এলাকায় নারী উত্ত্যক্তকরণ ও বাল্য বিবাহের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে যাতে লিফলেটে উল্লিখিত ইয়ূথ লিডারদের অবহিত করা হয়। সে অনুযায়ী লিফলেটে কয়েকজন ইয়ূথ লিডারের মোবাইল নম্বরও দেয়া হয়। লিফলেটটি উপজেলার বিভিন্ন দেয়ালে লাগানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই গত ১২ মে ২০১১ সকাল ১০টার দিকে মসূয়া ইউনিয়নের ইয়ূথ লিডার হাজেরার কাছে খবর আসে কটিয়াদী পৌরসভার ঘাগৈর গ্রামে একটি বাল্য বিবাহ হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়া যায় কিনা। এরপর উপজেলার ইয়ূথ কো-অর্ডিনেটর মোজাম্মেল হক এর নেতৃত্বে হাজেরা, হাকিকত, শফিক, ভূবন ও সোহেল মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে দেখতে পায় যে, যার বিয়ে হচ্ছে সে ঘাগৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী শারমিন,  বয়স এগারো। প্রথমে তাদেরকে মৌখিকভাবে বাঁধা দেয়া হলে কনে পক্ষ বিয়ে বন্ধ করতে রাজি হয় হয় নি, উল্টো ইয়ূথ লিডারদের শাসিয়ে দেয়। নাটকিয়তার শুরু এখান থেকেই। ইয়ূথ লিডাররা ওখান থেকে চলে আসে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নেছা রেবার কার্যালয়ে। মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, ইউএনও এস, এম আনছারুজ্জামান এর সহযোগিতায় থানা থেকে পুলিশ নিয়ে মেয়ের বাড়িতে চলে যায়। এদিকে পুলিশ আসার আগেই ইয়ূথ লিডাররা কনের বাড়িতে চলে যায়। এ সুযোগে মেয়ের অভিভাবক আসল পাত্রীকে লুকিয়ে রেখে পাশের বাড়ি থেকে ১৮ বছর হয়েছে এমন একজনকে কনে সাজিয়ে বসিয়ে রাখে। এক পর্যায়ে পুলিশের জেরার মুখে আসল ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। এরপর পাত্রী, নকল পাত্রীসহ মেয়ের মা-বাবা, মামা ও দাদাকে গাড়ীতে করে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। অবশেষে ৫০০০ টাকা জরিমানা ও মুচলেকা দিয়ে ১৮ বছর হওয়ার আগে মেয়েকে আর বিয়ে না দেওয়ার শর্তে অভিভাবকবৃন্দকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এভাবেই বাল্যবিবাহের হাত থেকে কন্যাশিশুটি মুক্তি পায়।
রিপোর্ট:মোজাম্মেল হক

কুমিল্লায় ইয়ূথদের উদ্যোগে সমবায় সমিতি গঠন

কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার উরুকচইল গ্রামের ইয়ূথ সদস্যদের উদ্যোগে ১ জুন ২০১১ উরুকচইল গ্রামে একতা সমবায় সমিতি নামে একটি সমিতি চালু করা হয়। ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী (৩০ জন ছাত্রী, ২০ জন ছাত্র ) নিয়ে সমিতিটি চালু করা হয়। সঞ্চয় সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রত্যেক সদস্য সাপ্তাহিক ২০ টাকা করে চাঁদা দেয়। প্রত্যেক সদস্যের ভর্তি ফি ৫০ টাকাসহ গত এক সপ্তাহে ৩০০০ টাকা সঞ্চয় জমা হয়। উদ্যোগটি সফল ও স্বার্থক  করতে সহায়তা করেন ইমরান, শামীম, শানতা, আরমান এবং নেতৃত্ব দেয় এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার মাসুদ করিম।
রিপোর্ট – মাসুদ করিম।

বরিশালের সামপ্রতিক কার্যক্রমের খবর

এ্যাকটিভ সিটিজেনস ৩য় পর্বের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে ১ ও ৩ জুন যথাক্রমে বরিশালের মাধবপাশা ও ঝালকাঠির কাঠালিয়া  ইউনিয়নে দুটি প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতি ও কার্যক্রম শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালা দু’টিতে স’ানীয় ছাত্র-ছাত্রীরা ছাড়াও উজ্জীবক ও সুজন প্রতিনিধি উপসি’ত ছিলেন।  ২ জুন বরিশাল শহরের ডিউক এর কার্যালয়ে আঞ্চলিক ইয়ূথ পর্যালোচনা সভায় উক্ত অঞ্চলের বরিশাল, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী জেলার ৩৮ জন স্বেচ্ছাব্রতীরা অংশগ্রহণ করে। ইয়ূথ ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে ৪ জুন বরিশালের নলছিটি ইউনিয়নে একটি প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতি ও কার্যক্রম শীর্ষক কর্মশালা ও বরিশাল শহরের বিএনডিএন গেস্ট হাউসে গণশিক্ষা ও লেখালেখি এবং তথ্যায়ন বিষয়ক দুটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালা গুলো আয়োজনে  স’ানীয় ইয়ূথ স্বেচ্ছাসেবক রাজিব, অমি, তুহিন, রাশেদ, রাকিব, পাপিয়া, রিজুল, নয়ন, শিলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও মেন্টর রবিন বৈদ্য, বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মেহের আফরোজ মিতা, উত্তম দত্ত ছাড়াও ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশ এর প্রধান সমন্বয়কারী জি,এম শোয়েব আহমেদ, মামুনুর রশীদ রাদিফ, ন্যাশনাল ইয়ূথ ফোরামের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর শাহীন মাহমুদ উপসি’ত ছিলেন।
রিপোর্ট: মামুনুর রশীদ রাদিফ

শ্রীমঙ্গলে অসামপ্রদায়িক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে ইয়ূথ লিডাররা

ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে “সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই” এই মতবাক্যকে ধারণ করে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশ শ্রীমঙ্গল ইউনিট ১৩ এপ্রিল ২০১১ বাসন-ী পূজা উদযাপন করে। শ্রীমঙ্গল উপজেলার শিববাড়ি সংলগ্ন শিববাড়ি মন্দির প্রাঙ্গনে বিপুল ভক্ত সমাগমের মধ্য দিয়ে বাসন-ী পূজা উদযাপন করা হয়। তিনদিন ব্যাপী এই পূজায় এই ইউনিটের লিডাররা মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে নিজেদের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করে।
রিপোর্ট: রাশেদ খান

নারী উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধে টাঙ্গাইলের সরকারি সা’দত কলেজে মানববন্ধন

নারী উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করার লক্ষ্যে ৬ নভেম্বর ২০১০ টাঙ্গাইলের সরকারি সা’দত কলেজে মানববন্ধন এর আয়োজন করা হয়। উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচীতে রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক, সেচ্ছাসেবী সংগঠন ও কলেজের ৫০০ ছাত্র এবং ৭০০ ছাত্রী নারী উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধে অবস’ান নেয়। নারী উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধ কার্যক্রম সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক, সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর চিঠি পাঠানো হয় এবং সবাই মিলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে সরকারি সা’দত কলেজকে নারী উত্ত্যক্তকরণমুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

রিপোর্ট: সোহাগ

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন
২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১১ যথাক্রমে পূর্ব বালিয়াডাঙ্গা আমিন উদ্দিনের বাড়ির আঙ্গিনা ও পশ্চিম ঝিকরার নকিম উদ্দিনের বাড়ির আঙ্গিনায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিকসমূহ তুলে ধরার জন্য দু’টি ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পেইন দু’টি আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন আশরাফুল, সাধনা মন্ডল, আমিন উদ্দিন, পরিমল, ময়না, নূহ, সোহেল, রাইনা, মিষ্টি, মুরাদ, রুবেল, সুমনসহ ১০৬তম এ্যাকটিভ সিটিজেনস বাদশা, রাজু, মজিদুল, ছাবিহা, রিপা। ক্যাম্পেইন দু’টিতে ১০০ জন নারী ও ৫৩ জন পুরুষ অংশগ্রহণ করে। এছাড়া মেন্টর হিসেবে মুশফিকুর, আশরাফ আলী, হেজম আলী প্রমূখ উপসি’ত ছিলেন। সভা দু’টিতে সকলে মিলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের অঙ্গীকার করা হয়।

রিপোর্ট: আশরাফুল

হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত সামাজিক উদ্যোগ মেলার “বেস্ট অব দ্যা বেস্ট” পুরষ্কার পেল শ্রীমঙ্গল এর এ্যাকটিভ সিটিজেনরা
“মাদকাশক্তি তরুন সমাজের চলার পথে প্রধান অন-রায়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শ্রীমঙ্গল এর এ্যাকটিভ সিটিজেনরা ১০ মার্চ হবিগঞ্জে অনুষ্ঠিত সামাজিক উদ্যোগ মেলায় তাদের কার্যক্রম ও সামাজিক উদ্যোগ প্রদর্শনের জন্য  বেস্ট অব দ্যা বেস্ট পুরষ্কার লাভ করে। মোট ১৩টি স্টল এই মেলায় অংশগ্রহণ করে। শ্রীমঙ্গলের এ্যাকটিভ সিটিজেনদের মধ্যে উপসি’ত ছিল রাসেদ খাঁন, রহিমা আক্তার মুনমুন, আজিজুন নাহার, জান্নাতুল ফেরদৌস, লিপি আক্তার, তামিম আহমেদ ও জি.এম সোহেল।
রিপোর্ট: রাসেদ খাঁন

যশোর সরকারি এম.এম কলেজ ইউনিটের মাসিক ও সাপ্তাহিক সভা অনুষ্ঠিত

ইয়ূথ এন্ডিং হাংঙ্গার সরকারি এম.এম কলেজ, যশোর ইউনিটের মে ২০১১-এর মাসিক সভা গত ১১ মে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বিগত মাসের কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করা হয় । সাথে মে মাসের ধারাবাহিক কার্যক্রম শীর্ষক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সভাটির আয়োজন, সমন্বয় ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনির। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপসি’ত ছিলেন এনামুল হক, আব্দুস সবুর, হাবিবুর রহমান, শাহিন আলম, জাকির হোসেন, আমিনুর রহমান, জিল্লুর রহমান, হাফিজুর রহমান, সোহেল রানা, সাইফুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, সুমি খাতুন, আইয়ুব হোসেন, মাহবুবুর রহমান, বাবলুর রহমান, জগন্নাথ ব্যানার্জী, সুব্রত ব্যানার্জী, মনজুর হোসেন ও দিপন সরকার।

গত ৮ জুন ২০১১ চলতি মাসের ২য় সাপ্তাহিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আলোচনার মাধ্যমে এবং ইউনিটের নির্দিষ্ট আবেদনপত্রে প্রায় ১৫ জন নতুন সদস্য সংগ্রহ করা হয়। তাছাড়া ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের কার্যক্রম তাদের সামনে তুলে ধরা হয়। সভাটির আহবায়ক ছিলেন পলি ঘোষ। আয়োজন, সমন্বয় ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনির। সদস্যদের মধ্যে উপসি’ত ছিলেন ইউনিটের সিনিয়র সদস্য আরিফ মাহমুদ ও কামরুল ইসলাম রিপন। অন্যান্য সদস্যের মধ্যে ছিলেন আব্দুস সবুর, হাবিবুর রহমান, শাহিন আলম, এনামুল হক, আমিনুর রহমান, হাফিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, আইয়ুব হোসেন, মাহবুবুর রহমান, বাবলুর রহমান, জগন্নাথ ব্যানার্জী, সুব্রত ব্যানার্জী ও মনজুর হোসেন।
রিপোর্ট : মোঃ মনিরুজ্জামান

ঝিনাইদহ সদর ইউনিটের ৯ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও অভিভাবক সমাবেশ

২০ মে ২০১১ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ঝিনাইদহ আঞ্চলিক কার্যালয়ে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার ঝিনাইদহ সদর ইউনিটের ৯ম বর্ষপূর্তী উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠান ও অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন ঝিনাইদহ সদর ইউনিটের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি ও সরকারি নূরুন্নাহার মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ জনাব এন. এম. শাহজালাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন শিশুকুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক ও লেখক এম. আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও উপসি’ত ছিলেন হাটগোপালপুর রাইচরণ তারিনীচরণ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ও ইউনিট উপদেষ্টা শরীফ মাহমুদুল হাসান ও কাঞ্চননগর মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বি.সি বিশ্বাস। বিকাল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার ঝিনাইদদহ সদর ইউনিটের  আব্দুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাবেক কো-অর্ডিনেটর আমিনুল ইসলাম ও বর্তমান কো-অর্ডিনেটর অমিত বিশ্বাস। এসময় ঝিনাইদহ সদর ইউনিটের গত বছরের উল্লেখযোগ্য কার্যকমের অডিও ভিজ্যুয়াল রিপোর্ট উপস’াপন করা হয়। ইয়ূথ লিডাররা সকল কাজ, কাজের ক্ষেত্র, সম্ভাবনা, সমস্যা ও উত্তরণের উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। আগত অভিভাবকরাও তরুণদের এসকল কর্মকান্ড দেখে অভিভূত হন এবং তাঁরা তাদের সন-ান ও পরিচিতদের ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার এর এসকল কাজের সাথে যুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আয়োজকরা প্রত্যাশা করেন ঝিনাইদহ সদর ইউনিটের মতো এভাবে সারাদেশের ইউনিটগুলোও এগিয়ে চলুক বর্ষপূর্তির উষালগ্নে। সবশেষে কেক কাটা ও আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
রিপোর্ট: সাজ্জাদ হোসেন রিজু

শোক সংবাদ
৫ জুন ২০১১ ঝিনাইদহের শিশুকুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী ফাতেমা খাতুন ইভা বিদ্যালয় থেকে বাসায় ফেরার পথে খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে এক মর্মানি-ক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার অকাল মৃত্যুতে তৎক্ষণাৎ বিদ্যালয়ে ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তার পিতা ইমরান হোসেন ও মাতা আলেয়া বেগম। তারা দুই বোন। সে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-শিশুকুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ ইউনিটের বিতর্ক ক্লাবের সক্রিয় সদস্য ছিল। আমরা ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশ এর সকল সদস্য তার এই অকাল মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

ঝিনাইদহে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালী, শপথগ্রহণ ও ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। আর এ ব্যাধির সবচেয়ে বড় শিকার গ্রামের মেয়েরা। তাই এই ব্যাধিকে দূর করে পাগলাকানাই ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ইউনিয়নে রুপ দিতে গত ১৫ মে ২০১১ ‘কুড়িতে বুড়ি নয়, বিশের আগে বিয়ে নয়’  এই শ্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে ১২২তম এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডারদের উদ্যোগে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালী ও শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। শপথবাক্য পাঠ করান পাগলাকানাই ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার মোছাঃ সালেহা বেগম। অন্যান্যদের মধ্যে উপসি’ত ছিলেন বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের নারীনেত্রী শেফালী খাতুন, হামিদা বেগম ও উজ্জীবক মোঃ আক্কাস আলী। এরপর এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডাররা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে বাল্যবিবাহের কুফল ও ভবিষৎ করণীয় দিক সম্পর্কে ক্যাম্পেইন করে। অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন এ্যাকটিভ সিটিজেনস সহায়ক অমিত বিশ্বাস। বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন আরিফ, লাবন্য, নাজমা, অন-রা প্রমূখ।
রিপোর্ট: অমিত বিশ্বাস

সাতক্ষীরার ইয়ূথ লিডারের শিশু সাংবাদিক সম্মেলন ২০১১ তে অংশগ্রহণ
গত ২৪ ও ২৫ মে ঢাকার বিয়াম ভবনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিশ্বের একমাত্র শিশু সাংবাদিক সম্মেলন । এম.এম.সি’র আয়োজনে এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় এসম্মে লনে সাতক্ষীরা জেলার ইয়ূথ লিডার অধীশ দাশ অংশগ্রহণ করে। সম্মেলনে বাংলাদেশের সমসাময়িক নারী শিশু ও বঞ্চিত শিশুর শিক্ষা ও বেঁচে থাকার অধিকার সম্বন্ধে বিবিধ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।  দেশের সকল জেলা থেকে আগত ৬৪০ জন শিশু সাংবাদিকদের নাচ, গান, আবৃত্তি, কৌতুক ও নাটক দিয়ে দু’দিনের আয়োজন শেষ করা হয়।
রিপোর্ট-অধীশ দাশ

দেশব্যাপী সাতক্ষীরার আম নিয়ে হৈ-চৈ
দেশব্যাপী সাতক্ষীরার আম নিয়ে হৈ-চৈ। সেই হৈ-চৈ নিয়ে পাটকেলঘাটা কলেজ মাঠে ৪ জুন অনুষ্ঠিত হলো ফল বিষয়ক আলোচনা। রাসায়নিক ব্যবহৃত ফল খেলে লিভার, কিডনী, শ্বাসরোগসহ গর্ভধারী মায়ের বেশি ক্ষতি হয়। আলোচনায় সিদ্ধান- নেওয়া হয় এরূপ সচেতনতা নিজ পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। আর এজন্য এক সাথে ১১ জন ইয়ূথ সদস্য শপথ নিল এই শ্লোগানে-‘খাবোনা আর দূষিত ফল, হারাবোনা দেহের বল’ ।
রিপোর্ট-অধীশ দাশ

ইয়ূথের প্রধান সমন্বয়কারীর লাইব্রেরী পরিদর্শন
গত ২০ মে এ্যাকটিভ সিটিজেনদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা লাইব্রেরী প্রদর্শন করেন ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশের প্রধান সম্বন্বয়কারী জি,এম,শোয়েব আাহমেদ। এ সময় লাইব্রেরীর ১৮ জন সদস্যসহ তাদের অভিভাবকবৃন্দ উপসি’ত ছিলেন। সদস্যদের কার্যক্রম সর্ম্পকে বিস-ারিত আলোচনা করেন লাইব্রেরীর প্রধান সম্বনয়কারী মিনু হালদার। এছাড়াও লাইব্রেরীর ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। বর্তমানে লাইব্রেরীতে প্রায় দেড় শতাধিক বই রয়েছে। পাঠকের সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্বি পাচ্ছে। সেই সাথে তাদের নিজেদের অর্থায়নে বইয়ের সংখ্যাও বৃদ্ধি করছে। এই লাইব্রেরীটি যেন তাদের আদর্শ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে গ্রামবাসীর কাছে। পরিদর্শন কালে আরো উপসি’ত ছিলেন ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশের ন্যশনাল কো-অর্ডিনেটর শাহীন মাহমুদ।
রিপোর্ট:সালেহ আকরাম

মালগাজী, মংলাতে ফলোআপ সভা অনুষ্ঠিত
২০ মে ২০১১ জ্ঞানবিতান লাইব্রেরী মালগাজী, মংলাতে একটি ফলোআপ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাতে ২৪ জন এ্যকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার উপসি’ত ছিলেন। সদস্যরা তাদের লাইব্রেরীর কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। উল্লেখ্য যে, এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডারদের অকৃত্রিম প্রচেষ্টার ফলে গড়ে উঠেছে “জ্ঞানবিতান লাইব্রেরী”। লাইব্রেরীর সূচনালগ্নে প্রত্যেকে একটি করে বই প্রদানের মাধ্যমে এই লাইব্রেরীর সদস্য করা হয়। প্রতি মাসে তারা দুই দিন একত্রে মিলিত হন এবং ঐ দিন তারা লাইব্রেরীর বিভিন্ন কার্যক্রম সর্ম্পকে বিস-ারিত আলোচনা করেন। এছাড়াও তারা লাইব্রেরীর বিভিন্ন বইয়ের বিষয় গুলো নিয়ে পাঠ-চক্র করেন। সভাটি সমন্বয় করেন নওরীন সুলতানা ।
রিপোর্ট : সালেহ আকরাম

নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব চত্ত্বরে জাতীয় নারী উন্নয়নীতি বাস্তবায়নের দাবীতে মানববন্ধন
“নারীর সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ ও জাতীয় নারী উন্নয়ননীতি” বাস-বায়নের দাবিতে গত ১৩ এপ্রিল ২০১১ দেশের অন্যান্য স’ানের মতো নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাব চত্ত্বরে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ মানববন্ধনটি সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক, নেত্রকোনা জেলা কমিটি, জাতীয় কন্যাশিশু এ্যাডভোকেসি ফোরাম এ সোসাইটি, বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এর সাথে যৌথভাবে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার নেত্রকোণা জেলা ইউনিট আয়োজন করে। ইয়ূথ লিডার আনিসের সহযোগিতায় এ মানববন্ধনে অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ইয়ূথ লিডার সারোয়ার, সংগীতা, শাম্মী আক্তার, সানি, আনিস, অরবিল ও অন্যরা অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে সুজন জেলা কমিটির সভাপতি ও প্রেস ক্লাব সমপাদক শ্যামলেন্দু পাল উপসি’ত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী সকলে নারীর প্রতি সকল বৈষম্য রোধে অতি দ্রুত নারী উন্নয়ন নীতি বাস-বায়নের তাগিদ প্রদান করেন।
রিপোর্ট: মোঃ আনিসুর রহমান

মা সমাবেশ

ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার নেত্রকোণা জেলা ইউনিট গত ১৮ মে ২০১১ জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি “মা সমাবেশ” এর আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েরা অংশগ্রহণ করেন। সার্বিক সহযোগীতা করেন বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা নূরজাহান ও কনক কর্মকার। এ সমাবেশ এর মুল লক্ষ্য ছিল নারীর স্বাস’্য সুরক্ষা, সন-ানদের পরিচর্যা, মায়েদের স্বাস’্য সচেতন করে তোলা। সমাবেশটি পরিচালনা করেন তপতি, ইশতিয়াক, নিবেদিতা ও আনিস। এ সফল আয়োজনের পেছনে যারা ভূমিকা রাখেন তারা হলেন সংগীতা ও রাজিব ।
রিপোর্ট: মোঃ আনিসুর রহমান

গাংনী ইয়ূথ ফোরাম গঠন

ইয়ূথ এন্ডিং  হাঙ্গার গাংনী উপজেলার কার্যক্রমকে আরও বেগবান ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে ৬ জুন ২০১১ এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গাংনীর ইয়ূথ লিডার মোঃ হেলা কে সমন্বয়ক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট গাংনী ইয়ূথ ফোরাম গঠন করা হয় । অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এর কর্মী আব্দুস সবুর ও ইয়ূথ এ্যাক্টিভিষ্ট আকতারুজ্জামান স্বপন।

রিপোর্ট: মিমি

ঝিনাইদহে পাঠাগার স্থাপন
১৬২তম এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডারদের উদ্যোগে ঝিনাইদহের চাকলাপাড়ায় একটি পাঠাগার স’াপন করা হয় । বহুবিধ প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে ইয়ূথ সদস্যরা পাঠাগারটি আরও উন্নত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ মে ২০১১ এ্যাকটিভ সিটিজেনস ফ্যাসিলিটেটর আমিনুলের পরিচালনায়  চাকলাপাড়ায় ইয়ূথ সদস্যরা পাঠাগার উন্নয়ন কমিটির সাথে এক আলোচনাসভার আয়োজন করে । আলোচনাসভায় পাঠাগারের উন্নয়নে করণীয় এবং প্রতিক’লতা নিয়ে আলোকআত করা হয় । এসময় পাঠাগার উন্নয়ন কমিটির  সভাপতিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপসি’ত ছিলেন। এটি আয়োজনে বিশেষভাবে সহযোগিতা করে  সাইদ,রত্না,ইমরান,ফিরোজ,শাহীন প্রমুখ।
রিপোর্ট: আমিনুল

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী, কচুয়াতে এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডারদের উদ্যোগে পাঠাগার ও ক্লাব স্থাপন

১ ফেব্রুয়ারি ২০১১, ২৬৪তম এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডারদের উদ্যোগে কচুয়া বাজারে নোহালী-কচুয়া উত্তোরণ গণপাঠাগার ও ক্লাব এর শুভ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে স’ানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল কাদের, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও একদল সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবক উপসি’ত ছিল। লাইব্রেরীতে মোট বইয়ের সংখ্যা ৮০টি। লাইব্রেরীটি স’ানীয় ইয়ূথ সদস্য ছাড়াও সকলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
রিপোর্ট: মোরশেদুজ্জামান লিখন

নারী উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধে র‌লী ও গণস্বাক্ষর অভিযান

রাংতায় বরিশালের ইয়ূথ লিডারদের আয়োজনে ১ নভেম্বর ২০১০ একটি নারী উত্ত্যক্তকরণ বিরোধী র‌্যালীর আয়োজন করা হয়। র‌্যালীতে ২৫০ জনেরও বেশি ছাত্র- ছাত্রী অংশগ্রহণ করে । এই র‌্যালী রাংতায় ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং শরিয়তপুরের চেয়ারম্যান এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি কথা দেন তিনি আমাদের সাথে আছেন এবং থাকবেন।

শরীয়তপুর ও বরিশালে ইয়ূথ লিডারদের আয়োজনে নারী উত্ত্যক্তকরণ বিরোধী র‌্যালী
এই র‌্যালীটিতে অংশগ্রহণ করে ২০০ জনেরও বেশী ছাত্র-ছাত্রী। নারী উত্ত্যক্তকরণ এর বিরুদ্ধে বরিশালের ইয়ূথ লিডাররা (রিজুল, অমি, রাশেদ, রাকিব, সাইফুল, পাপিয়া, শীলা, রাজিব, রনি, নিয়াজ) একটি গণস্বাক্ষরের আয়োজন করে। এতে প্রায় ৪০০০ জনেরও বেশি  স্বাক্ষর করেছে এবং বরিশালের ইয়ূথ লিডারদের অনেক প্রেরণা যুগিয়েছে।

মাদক বিরোধী গণস্বাক্ষর ও পথনাটক

তরুণ সমাজ ধ্বংসের অন্যতম কারণ হলো মাদক। মাদককে না বলো এই শ্ল্লোগানটিকে জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য বরিশালের ইয়ূথ লিডাররা (রিজুল, অমি, রাশেদ, রাকিব, সাইফুল, পাপিয়া, শীলা, রাজিব, রনি, নিয়াজ) একটি গণস্বাক্ষরের আয়োজন করে। এতে প্রায় ৩৬৮০ জনেরও বেশি স্বাক্ষর করে।
মাদককে না বলো কথাটি তরুণ সমাজের কাছে বরিশালের ইয়ূথ লিডাররা (রিজুল, অমি, রাশেদ, রাকিব, সাইফুল, পাপিয়া, শীলা, রাজিব, রনি, নিয়াজ) পথনাটকের সচেতন করে।। মাদক বিরোধী পথ নাটকটি বরিশালের বিভিন্ন বসি- এলাকায় প্রদর্শন করা হয়। বসি-র সকল মা-বাবার নিকট থেকে ভাল সাড়া পাওয়া যায়। অনেকে শপথ করেন তারা কখনো মাদকাসক্ত হবে না। মা-বাবারা ও তাদের সন-ানদের মাদকমুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ব্যক্ত করেন।

ইয়ূথদের সঞ্চালনায় মাধব পাশায় জনগণের মুখোমুখী অনুন্ঠান

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর আয়োজনে মাধব পাশায় আয়োজন করা হয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীদের জনগণের মুখোমুখী অনুষ্ঠান। ঐ অনুষ্ঠানে সার্বিক সহায়তা করে বরিশালের ইয়ূথ লিডাররা (রিজুল, অমি, রাশেদ, রাকিব, সাইফুল, পাপিয়া, শীলা, রাজিব, রনি, নিয়াজ)।

বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে পথনাটক

বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় যেখানে বাল্য বিবাহের অনেক প্রচলন আছে, সেই সব এলাকায় বরিশালের সকল ইয়ূথ লিডারদের উদ্যোগে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধমূলক পথনাটক করা হয়। নাটকটি রচনা করে ইয়ূথ লিডার রাকিব এবং পরিচালনা করে রিজুল ও রাশেদ। পথনাটকের মাধ্যমে সকলের নিকট প্রশ্ন করা হয় এবং তাদের নিকট হতে উত্তর গ্রহণের মাধ্যমে তাদেরকেই এর কুফল উপলব্ধি করানো হয়।

বরিশাল ও শরীয়তপুরে একটি বাড়ি একটি খামার
শরীয়তপুরে এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার্স প্রশিক্ষণে গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে একটি পদক্ষেপ ছিল একটি বাড়ি একটি খামার। পরে এলাকার একটি বাড়িতে এই প্রকল্প বাস-বায়ন করা হয়। ইয়ূথ লিডাররা (অমি, রিজুল, পাপিয়া, লিপি, সনিয়া,) এই প্রকল্প নিয়ে এলাকার ইয়ূথ লিডারদের মাঝে আলোচনা করে এবং তা এলাকার জনগণের মাঝে জানায়। রাজিহারে এই পদক্ষেপের অন্ত-র্ভুক্ত হচ্ছে পুকুরে মাছ চাষ।

স্বেচ্ছাশ্রমের অনন্য উদাহরণ

রিক্সা চালক থেকে কম্পিউটার চালক

মানুষ যা চায় তা অনেক সময় পায়না আবার মানুষ যা ভাবেনা তা অনেক সময় ঘটে যায়।
তেমনি একটি ঘটনা, নাম মোঃ জয়নুদ্দীন, পিতা মৃত কনু, পেশায় পড়ালেখা না জানা রিক্সা চালক, বয়স ৩০ বছর । ময়মনসিংহ জেলার ৭নং চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামে তার বসবাস । পড়া-লেখা না জানার কারণে তিনি অনেক সময় সমাজ জীবনে নানা রকম সমস্যার মুখোমুখি হন ।
তাকে নিয়েই স্বপ্ন দেখা হয় । একদিন রাত ৮টায়, সারাদিন রিক্সা চালানোর পর তাকে নিয়ে  হারিকেন জ্বালিয়ে চেষ্টা করা হয় পড়াশোনা শেখানোর জন্য এবং তার সাথে ছিল আরও ৩৫ জন । কিন’ জয়নুদ্দীন ভালভাবে কথা বলতে পারেনা, কারণ গ্রামের ভাষায় সে ‘তুতলা’। তারপরও তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা হয় পড়া-লেখা শেখানোর । রাতের পর রাত দুই থেকে আড়াই মাস অনেক পরিশ্রম ও কষ্ট করে তাকে বাংলা অক্ষর গুলো শেখানোর মধ্য দিয়ে সহজ সরল ভাষা গুলো শেখানোর চেষ্টা করা হয় । রিক্সাচালক জয়নুদ্দীনের  পড়ালেখার প্রতি প্রবল ইচ্ছা শক্তি দেখে কিছুদিন পর একটি কম্পিউটারের ব্যবস’া করে তাকে বাসায় নিয়ে কম্পিউটার শেখানোর চেষ্টা করা হয় । জয়নুদ্দীনকে  বাসায় নিয়ে কম্পিউটার শেখাতে গিয়ে অনেক গুলো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় । সব সমস্যাকে অতিক্রম করে রাতের পর রাত দেড় মাস কঠোর পরিশ্রম ও কষ্ট করে সাধনার মধ্য দিয়ে ধীরে-ধীরে জয়নুদ্দীনকে রিক্সা চালক থেকে কম্পিউটার চালকে পরিণত করা হয় । এখন সে সহজ সরল ভাষাগুলো কম্পিউটারের মাধ্যমে পড়তে ও লিখতে পারে । শুধু জয়নুদ্দীন নয়, জয়নুদ্দীন এর মতো রেজিয়া নামে  আরও এক জন তাকেও অশিক্ষিত থেকে কম্পিউটার চালকে পরিণত করা হয়েছে।
আর নিঃস্বার্থভাবে এই মহৎ কাজটি করেছেন রাঘবপুর ‘প্রতিভা ইউনিট ’এর সদস্য এবং ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজের (সমাজকর্ম) বিভাগের ছাত্র মোঃ আশরাফুল ইসলাম ।
এই কাজে তাকে অনুপ্রাণিত করেছিল ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ কাউন্সিল কর্তৃক এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার্স ট্রেনিং। তাকে এ কাজে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার -প্রতিভা ইউনিট এর সকল সদস্যরা ।
এছাড়া ‘প্রতিভা ইউনিট’ নামক সচেতনতামূলক ক্লাবের সকল সদস্যদের সাথে নিয়ে গণশিক্ষা স্কুল চালু, পাবলিক লাইব্রেরী স’াপন, গণিত উৎসব, ইংলিশ উৎসব, বিজ্ঞান নিয়ে খেলা, স্বাস’্য তথ্য, রাস-া মেরামত, ঈদ আড্ডা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধসহ অসংখ্য সমাজসেবামূলক কাজ। আশরাফুল লেখাপড়ার পাশা-পাশি ৫-৬ বছর থেকে কাজ করে আসছে সমাজের উন্নয়নে । যা দেখার জন্য ঢাকা ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক আনিসুর রহমান স্যার সেখানে গিয়ে অত্যন- খুশী হন। দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকার কর্তৃপক্ষ কাজের কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে প্রতিভা ইউনিটের কাজে সহযোগিতা করার জন্য । প্রতিভা ইউনিটে এক কপি ‘দৈনিক সংবাদ’ বিনামূল্যে ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন-  দিয়ে আসছে। প্রতিভা ইউনিটের পক্ষ থেকে আশরাফুল ইসলাম ‘দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকার কর্তৃপক্ষকে অশেষ কৃতজ্ঞতা  ও ধন্যবাদ জানাচ্ছে।
আশরাফুল ইসলাম এখন বিশ্বাস করে সরকার এবং সকলের সার্বিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে ৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশের নিরক্ষর মানুষকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করে আগামী ১ বছরের মধ্যে তাদেরকে কম্পিউটার চালকে পরিণত করা সম্ভব ।
লেখক: মোঃ আশরাফুল ইসলাম
গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সাধারণ ছাত্রের অসাধারণ কীর্তি

একটি হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া সাব্বির কখনও এসএসসি পাশ করার চিন-া করতে পারেনি। দারিদ্রতা ও অর্ার্থিক দৈন্যতার কারণে অষ্টম শ্রেণীতে তার লেখা পড়া শেষ হয়ে যাবার উপক্রম হয়।  ৮ম শ্রেণীতে থাকাকালীন সময়ে সে দোকানদারীতে মনোযোগ দেয় কিন’ মায়ের অনুপ্রেরণায় আবার তার লেখাপড়া শুরু হয়। আর্থিক দৈন্যতা এবং দারিদ্রতা তার বড় বাঁধা হয়ে দাড়ায় দুর্বল ছাত্র হলেও নিয়মিত ক্লাস করার কারণে লেখা-পড়ার প্রতি মনোযোগী হতে থাকে সাব্বির, সাব্বিরকে অনুপ্রাণিত করতো তার মামা, রতন ও সুজন। তার পাশের বাড়ির এক চাচা শাহদাত রাব্বানী লেলিন তার দেখা-শোনার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে সহায়তা করতেন। ৯ম শ্রেণীতে সাব্বির আরো দারিদ্রতার সম্মুখীন হয়, না খেয়ে যে কত দিন স্কুলে যেতে হয়েছে তার, কেবল সাব্বিরই তা জানে। ছেলে বেলা থেকে সাব্বির একাকী, তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধব নেই বললেই চলে। মানুষেরা তাকে “লাল বলদ” বলে ডাকত, কিন-ু সাব্বির তার প্রিয় শিক্ষক শুভাস চন্দ্র সাহার সান্নিধ্যে এসে লেখাপড়ার প্রতি অতি মনোযোগী হয়। কতবার যে সে লেখাপড়া ছেড়ে দিতে চেয়েছে তার হিসেব নেই। কিন-ু তার মা তাকে অনুপ্রেরণা যোগাতো, বলত “বাবা তোর লাইগা আমি আমার রক্ত বেচুম, তবু তুই লেখাপড়া কর”। খোদার অশেষ কৃপায় ২০০৫ সালে সাব্বির জঙ্গলবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়  থেকে ৩.৬৩ পয়েন্ট পেয়ে বাণিজ্য বিভাগ থেকে ছেলেদের মধ্যে প্রথম হয় এবং স্কুলে ৪র্থ স’ান অর্জন করে। ২০০৫ সালে সাব্বির দারিদ্রতার কারণে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়, পাড়ি জমায় মামার বাড়িতে। সাব্বির প্রয়োজনের তাগিদে কৃষিকাজ শুরু করে। জমি বর্গা নিয়ে ধান,পাট, টমেটো, মরিচ ইত্যাদি ফসল উৎপাদনে নিয়োজিত হয় এবং ২০০৫ সালে করিমগঞ্জ কলেজে বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হয়। কৃষিকাজের পাশাপাশি পড়াশোনার খরচ যোগাতে সে টিউশনি শুরু করে। এক পোশাক পরিধান করে সাব্বির কলেজে যেতো, কলেজের শিক্ষকরা তাকে চিনত না, কলেজে তার বন্ধু বলতে ছিল দু-একজন, যারা তার মত দারিদ্র। কিন’ সে থেমে থাকে নি, দিনে-রাতে সে পরিশ্রম করেছে, কিন’ কাউকে তার দারিদ্রতার কথা বুঝতে দেয়নি। ২০০৭ সালে করিমগঞ্জ কালেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগ থেকে ৩.৯০ পয়েন্ট পেয়ে সে উত্তীর্ণ হয়। বন্ধুরা তাকে খেলায় নিত না, সমাজে তার মূল্যায়ন ছিলনা। সারাক্ষণ সে একা থাকতো। কিন’ তার বন্ধুছিল বই আর কাজ। ধাপে-ধাপে সাব্বিরের এগিয়ে চলা। ২০০৮ সালে সাব্বির আনসার ও ভিডিপিতে প্রশিক্ষণ নেয় এবং একপর্যায়ে গাজীপুর থেকে বিডিপির মাধ্যমে ইলেকট্রিক প্রশিক্ষণ নিয়ে একজন ইলেকট্রিশিয়ান হয় এবং সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে এফও হিসেবে কাজ শুরু করে। এইচএসসি পাশের পর টাকার অভাবে সে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে সাহস পায়নি। পায়নি উচ্চ শিক্ষার সঠিক নির্দেশনা। তাই সরকারি গুরুদয়াল কলেজে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়। এত দারিদ্রতার মধ্যেও সাব্বির এসএসসি পাশের পর কারও কাছে লেখা-পড়ার খরচ যোগানোর জন্য হাত বাড়ায় নি। কারণ সাব্বির বিশ্বাস করত আত্মশক্তি মানুষকে মানুষে পরিণত করে। সবচেয়ে অবাক হওয়ার ব্যাপার ছিল সাব্বির এই বিশ্বায়নের যুগেও কোনো মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে পারত না। সে সব সময় নিজেকে এত তুচ্ছ মনে করত যে, কেউ তাকে পছন্দ করবে না। তাই তার বয়ঃসন্ধি কাল ব্যস-তার মধ্যেই কেটে যায়। সাব্বির উচ্চ শিক্ষার আলো পেতে শুরু করে তার নানার বাড়ির মানুষের নিকট থেকে। তুলশিয়া গ্রামের মাত্র ৮ জন এসএসসি পাশ, তাদের মধ্যে একজন সাব্বির। কৃষিকাজ, টিউশনি ইত্যাদি কাজে সময় ব্যয় করে সে। তার মা তাকে নিয়ে দারিদ্রতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেমে যায়, সাব্বির ও তার মা মিলেই কৃষিকাজ ও টিউশনি করে। তার বাবার অবস’া এক সময় খুুব ভাল ছিল কিন’ ১৯৯৯ সালে একটি সড়ক দূর্ঘটনায় তার বাবা আহত হন। কিন’ সাব্বির কখনো তার বাবা বা-মায়ের প্রতি অসুন-ষ্ট হয়নি।
্রামের অনেক ছাত্র-ছাত্রী তার কাছে প্রাইভেট পড়তে শুরু করে, কিন্তু ২০০৯ সালে সাব্বির দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত এ্যাকটিভ সিটিজেনস এর প্রশিক্ষণের কথা শুনতে পায়। করিমগঞ্জ পৌরসভায় সে এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে। চারদিনের এই প্রশিক্ষণ তার জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে। জয়ন- কর, তুহিন, জামিল, শফিক, রাসেল ভাইদের কথাগুলো তার হৃদয়ে দেশপ্রেম, নাগরিক ধারণা, সংস্কৃতি, ও আত্মশক্তি, সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা দেয়। সাব্বির ইংরেজিতে খুবই দুর্বল ছিল, ইংরেজির জন্য কত বার যে সে ক্লাসে অপমাণিত হয়েছে তার অন- নেই। তাই এসএসসি পাশের পর থেকে সে ইংরেজি পাড়া-লেখা শুরু করে। সে পাগলের মতো সব সময় ইংরেজীতে কথা বলতো। ঐ প্রশিক্ষণের শেষদিন সাব্বির তার অভিজ্ঞতার কথা বলার সময় ইংরেজিতে তা প্রকাশ করে। ফলে সবাই অবাক হয়ে যায়। করিমগঞ্জে একটি কোচিংয়ে সে ইংরেজি পড়াতো। সে দেশি-বিদেশি প্রায় ৩৫টি ইংরেজি বই ক্রয়করে এরং নতুন পদ্ধতিতে ইংরেজি শেখাতে শুরু করে। ২০০৯ সালে সে প্রায় ৫০ জনকে ইংরেজি পড়ায় এবং ৯৫% ছাত্র-ছাত্রী সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়। হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও সে ইংজেতিতে ভালো পড়াতো। ইংরেজি শিক্ষাদানের জন্য সে প্রায় ২৫ জন ইংরেজি শিক্ষকের সান্নিধ্য লাভ করে। তার ইংরেজি শিক্ষকদের মধ্য সুভাষ স্যার, দিপু স্যার, হাকিম স্যার, সিরাজ স্যার, আজিজ স্যার, নজরুল স্যার উল্লেখযোগ্য। ব্যক্তিগত জীবনে মানুষের সামনে কথা বলার সাহস অর্জনে জমশেদ স্যার তাকে বেশি অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। সামপ্রতিক সময়ে সে দুটি হাই স্কুলে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নিয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস’ার সঙ্গে সে কাজ করছে কিন’ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ কাউন্সিল এর একজন এ্যাকটিভ সিটিজেনস লিডার  হওয়ার পর তার জীবনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়। এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার্স ট্রেনিং নেওয়ার পর ইয়ূথ এ্যাক্টিভিস্ট শফিক এর নেতৃত্বে করিমগঞ্জ পৌরসভাকে নিরক্ষরমুক্ত করার জন্য এবং শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় আনার জন্য দুটি পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে কাজ শুরু করে এবং স্যানিটেশন নিয়ে কাজ করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করে। ফলে স’ানীয় সরকারের সকল প্রতিনিধিদের সাথে তা ভাল সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। লেখা-পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টিতে সক্রিয় হয়। যৌতুক, বাল্যবিবাহ, এইডস প্রতিরোধ, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করে। মামুন, দ্বীন মোহাম্মাদ, বোরহান এর সহযোগিতায় গণিত উৎসব, রচনা প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা বিভিন্ন বিষয়ে কর্মশালা, ক্যাম্পেইন, মানবন্ধন ইত্যাদি সম্পাদনে করিমগঞ্জের ইয়ূথ লিডাররা এখন বাংলাদেশে বড় একটি পরিচিতি লাভ করেছে। করিমগঞ্জের কাজের অভিজ্ঞতার বিনিময়ের জন্য শফিক ২০১০ সালে স্কটল্যান্ড সফর করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে সাব্বির হোসাইন ১৫তম ইয়ূথের জাতীয় সম্মেলন সদস্য নির্বাচিত হয়। সাব্বির আরও আত্মবিশ্বাসী হয়। করিমগঞ্জ সাহিত্য পরিষদে সাব্বির সদস্য পদ লাভ করে, ফলে করিমগঞ্জে সংস্কৃতিমনা বরেণ্য ব্যক্তিদের সান্নিধ্য লাভ করতে সক্ষম হয়। ধীরে-ধীরে সাব্বির দেশও দেশের মানুষকে নিয়ে ভাবতে শুরু করে। ১৯৯৭ সাল থেকে সাব্বির একটি সাইকেল ব্যবহার করতো।  এখনও সে দৈনিক প্রায় ২৫ কি.মি. সাইকেল চালায় এবং তুলশিয়া গ্রাম থেকে গুরুদয়াল কলেজে ক্লাস করতে যায়। বর্তমানে করিমগঞ্জে সাব্বির একটি পরিচিত নাম “দারিদ্রতাকে জয় করতে সামর্থ হচ্ছে সাব্বির, সে অপঃরাব খবধৎহরহম অরফ নামে একটি কেন্দ্র পরিচালনা করে যেখানে দরিদ্র ছাত্ররা বিনামূল্যে ইংরেজি শেখার সুযোগ পাচ্ছে। ক্রমেই আত্মবিশ্বাসী সাব্বির একজন সক্রিয় নাগরিক হতে থাকে। ২০১০ সালে হোটেল শেরাটনে ব্
িটিশ কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত ইধহমষধফবংয: ঞযব হবীঃ মবহবৎধঃরড়হ শীর্ষক একটি প্রোগ্রামে যোগদান করে, যেখানে প্রাধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনিসহ অনেক বরণ্য ব্যক্তিত্ব। দেশের বিভিন্ন স’ানে বিভিন্ন প্রোগ্রামে যোগদানের মাধ্যমে সাব্বির তার নিজস্ব নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়। কেউ যদি তাকে প্রশ্ন করে তুমি কি হতে চাও ? সাব্বির উত্তরে বলে “একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক ও সৎ মানুষ” তাই জীবনের প্রতিটি মুহুর্তকে সে গুরুত্ব দেয়। বর্তমানে সে ভালভাবে  ইংরেজিতে কথা বলতে পারে। তাই গ্রামের একজন অসহায় ছেলে হয়েও সে চলিত ভাষায় কথা বলার দক্ষতা অর্জন করেছে। সাহিত্য পরিষদের বিভিন্ন আসরে সাব্বির উপস’াপকের দায়িত্ব পালন করে। নাচ, গান, ধর্মীয় জ্ঞান, কৌতুক ইত্যাদিতে সে এখন দক্ষ। করিমগঞ্জ সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ও উপদেষ্টা এবং অন্যান্য সদস্যরা সাব্বিরকে জুনিয়র হানিফ সংকেত নামে ডাকে। দারিদ্রতাকে পুঁজি করে আজ সে এগিয়ে গিয়েছে বহুদুর কিন’ এই জীবনে সে কখনও কারও কাছে হাত বাড়ায়নি, প্রাইভেট টিউশনির দ্বারা সে প্রতি মাসে দশ হাজার টাকা উপার্জন করে এবং বিভিন্ন সামাজিক কাজে ও তার শিক্ষা ক্ষেত্রে  সেই অর্থ ব্যয় করে। তার এই দক্ষতা ও করিমগঞ্জের এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডারদের কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ ঈড়সসড়হবিধষঃয খড়পধষ এড়াবৎহসবহঃ ঋড়ৎঁস এ গত ১৩-১৫ মার্চ ওয়েলস এর রাজধানী কার্ডিফ সিটি হলে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ কাউন্সিল এর এ্যাকটিভ সিটিজেনস লিডার হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং ১৫-১৮ মার্চ সিএলজিএফ এর মূল সম্মেলনে যোগদান করে। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ কাউন্সিল সাব্বিরকে বাংলাদেশের সকল ইয়ূথদের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাজ্যে সিএলজিসি এ যোগদানের ব্যবস’া করে। শুরু হয় সাব্বিরের জীবনে এক নতুন অধ্যায়। এটি সাব্বিরের জীবনে প্রথম বিমান ভ্রমন কিন’ সে বিচলিত হয়নি।  দক্ষতা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে একাই ঢাকা ত্যাগ করে এবং হিথ্রো বিমানবন্দর (লন্ডন) পৌঁছে। সে সিএলজিএফ এর সিএলজিসি এবং এলজিওয়াইপিএফ এর দুটি সম্মেলনে বাংলাদেশের এ্যাকটিভ সিটিজেনদের বর্তমান অবস’া উপস’াপন করে। বিশ্বের ৫১টি দেশ থেকে ৫৪ জন ইয়ূথ ঐ সম্মেলনে যোগদগান করেছিল।  ভারত থেকে ৪ জন, পাকিস-ান থেকে ৪ জন, এভাবে আফ্রিকা ও ইরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৫২ জন তরুণ এই সম্মেলনে যোগদান করেছিল। ঐ সম্মেলনে সাব্বির ছিল একমাত্র বাংলাদেশী। সে সকল বক্তার শেষে তার বক্তব্য উপস’াপন করেছিল। তার বক্তব্যে জনসংখ্যা, দূষণ ও দারিদ্রতাকে মোকাবেলা করার জন্য বাংলাদেশের স’ানীয় সরকার ও এ্যাকটিভ সিটিজেনদের সমন্বয় ও কর্ম দক্ষতার কথা প্রকাশ পায়। তার বক্তব্য শুনে বক্তৃতার সময় বাড়ানো হয়। সাব্বির আরো আত্মবিশ্বাস পায়, তাই সে বিতর্ক ও ডায়ালগ ভিত্তিক যৌক্তিক বক্তব্য উপস’াপন করে, তার কমিউনিটির কার্যক্রমের কথা শেয়ার করে এবং সকল তরুণদেরকে জাতীয় সরকারের প্রতি নির্ভরশীল না হয়ে নিজস্ব প্রচেষ্টায় সক্রিয় নাগরিক হওয়ার আহবান জানায়। সাতদিনের এই সফরে সাব্বির যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে তা বাংলাদেশের সকল তরুণদের জন্য একটি বড় দৃষ্টান- হতে পারে।
আঞ্চলিক ইয়ূথ পর্যালোচনা সভা

গত মে-জুন ২০১১ যেসব অঞ্চলে আাঞ্চলিক ইয়ূথ পর্যালোচনা সভা সম্পন্ন হয়েছে তার সংখ্যাতাত্ত্বিক বিবরণ:

ক্রম  তারিখ স্থান অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সহায়ক
১৭ মে ২০১১ এন.আর.ডি.এস নোয়াখালী নারী-১৫ পুরুষ-২১

স্বপন সিকদার, রাদিফ,

আশিক, হানিফ, আতিক

২৫ মে ২০১১ জি.ডি.আর.সি মিলনায়তন, রাজশাহী নারী-৫ পুরুষ-৩৭ সুব্রত,অশোক, তুহিন, মাসুদ
২৬ মে ২০১১ প্রশিকা মিলনায়তন, ময়মনসিংহ নারী-১০ পুরুষ-২৯ জয়ন্ত কর, আসলাম খান, সৈয়দ নাছির উদ্দিন,  রাদিফ, এমি, পরমা, রাসেল, নাজমুল, সোহাগ, মানিক
২ জুন ২০১১ ডিউক অফিস, বরিশাল সদর নারী-৮ পুরুষ-৩১ শোয়েব, মিতা, উত্তম, রাদিফ, শাহীন, রাজিব
৮ জুন ২০১১ আই.এস.ডি ভবন,চকরিয়া, কক্সবাজার নারী-০৯ পুরুষ-১৬ দেবু, তুহিন,অশোক

ঝিনাইদহে সামাজিক উদ্যোগ মেলা উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন এর আয়োজন

২২ মার্চ ২০১১ দুপুর ১২টায় ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-ঝিনাইদহ অঞ্চলের উদ্যোগে সামাজিক উদ্যোগ মেলা-২০১১ উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ।
সাংবাদিক সম্মেলনে ইয়ূথ সদস্যরা সামাজিক উদ্যোগ মেলার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সার্বিক প্রস’তি তুলে ধরেন এবং এ্যাকটিভ সিটিজেনসদের উদ্যোগে গৃহীত সামাজিক উদ্যোগগুলির অর্জন গণমাধ্যমের মধ্য দিয়ে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের বিনীত অনুরোধ জানান। উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম.এ.আনসারী ও সাধারণ সম্পাদক এম.এ রায়হান, এনটিভি ও দৈনিক যুগান-রের স্টাফ রিপোর্টার মিজানুর রহমান, চ্যানেল আইয়ের ঝিনাইদহ প্রতিনিধি শেখ সেলিমসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধি, এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার, অভিভাবক, মেন্টর, শিক্ষক, উজ্জীবক ও বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের নারী নেত্রীরা উপসি’ত ছিলেন। শুরুতেই সামাজিক উদ্যোগ মেলা উদযাপন কমিটির আহবায়ক ফারুক হোসেন শাওন উপসি’ত সকলকে স্বাগত জানান। এসময় মেলার মূল প্রবন্ধ উপস’াপন ও সামাজিক উদ্যোগগুলির বর্ণনা করেন ইয়ূথ এ্যাক্টিভিস্ট সাজ্জাদ হোসেন রিজু এবং লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও সার্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন ইয়ূথ মোবিলাইজেশন ইউনিটের অশোক বিশ্বাস। এরপর বক্তব্য রাখেন বিকশিত নারী নেটওর্য়াকের নারী নেত্রী নূরুননাহার কুসুম , ইয়ূথ এ্যাক্টিভিস্ট আমিনুল ইসলাম, তাসনিম জাহান প্রমূখ ।
রিপোর্ট : অমিত বিশ্বাস

নারায়ণগঞ্জে ইয়ূথের কর্মশালা অনুষ্ঠিত
১৫ জুন ২০১১ নারায়ণগঞ্জের গোদরাইল শহীদ শহীদুল্লাহ সাউদ স্মৃতি সংসদে প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতি ও কার্যক্রম শীর্ষক কর্মশালা ও প্রস’তি সভা অনুষ্ঠিত হয়।  কর্মশালায় এলাকার নবম-অনার্স শ্রেণীর ৪২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। যার মধ্যে নারী ছিল ১৩ জন। কর্মশালা শেষে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার্স প্রশিক্ষণ প্রস’তি টিম গঠন করা হয় ।
১৮ জুন ২০১১ নারায়ণগঞ্জের শিশুকানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলে আরেকটি প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতি ও কার্যক্রম শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীর ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। যার মধ্যে নারী ছিল ১০ জন। উল্লেখ্য, সমপ্রতি গোদরাইল কমিউনিটিতে এ্যাকটিভ সিটিজেনস কর্মসূচীর ৩য় পর্বের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং আগামী জুলাই থেকে এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার্স ট্রেনিং শুরু হবে। কর্মশালা দুটি পরিচালনা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী জিল্লুর রহমান এবং ইয়ূথ মোবিলাইজেশন ইউনিটের অশোক বিশ্বাস ও কাজী রাবেয়া এমি।
রিপোর্ট: মাহবুব

মুন্সিগঞ্জে ইয়ূথের প্রস’তিসভা অনুষ্ঠিত

এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার্স ট্রেনিংকে ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে ১ জুন ২০১১ মুন্সিগঞ্জের রিকাবী বাজার সংলগ্ন সংগঠনে একটি প্রস’তিসভা অনুষ্ঠিত হয়।প্রস’তিসভায় ১২জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সভায় এ্যাকটিভ সিটিজেনস ৩য় পর্বের কার্যক্রমকে ফলপ্রসু করার বিভিন্ন কৌশল ও করণীয় নির্ধারণ করা হয় । সভাটি পরিচালনা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী এ.জি.এম আলমগীর ।

কক্সবাজারের চকরিয়াতে ইয়ূথের কর্মশালা
এ্যাকটিভ সিটিজেনস ৩য় পর্বের কার্যক্রমকে আরও বেগবান ও ফলপ্রসু করার লক্ষ্যে ১ জুন ২০১১ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী কলোনীজেশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতি ও কার্যক্রম শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় বিদ্যালয়ের ৩২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। কর্মশালা শেষে মোঃ আক্কাসকে কো-অর্ডিনেটর ও ফারজানাকে যুগ্ম কো-অর্ডিনেটর করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট নতুন ইউনিট গঠন করা হয়  কর্মশালাটি পরিচালনা করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী দেবব্রত ঢালী দেবু।
রিপোর্ট: তৌসিফ

চকরিয়াতে গণশিক্ষা বিষয়ক জরিপ ও সমন্বয় সভার আয়োজন
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী এলাকার এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডারদের উদ্যোগে ২৫-৩০ মে ২০১১ নিরক্ষর ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির জন্য একটি জরিপ করা হয়। ইউনিয়নের তিন শতাধিক বাড়িতে জরিপ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। চিহ্নিত নিরক্ষর ব্যক্তিদের নিয়ে গণশিক্ষা কেন্দ্র চালুর সিদ্ধান- নেওয়া হয়েছে । উল্লেখ্য, সারাদেশে ঘোষিত নিরক্ষরমুক্ত করণের টার্গেট ইউনিয়নের মধ্যে বদরখালী ইউনিয়ন একটি। এতে সহযোগিতা করেন স’ানীয় এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার্সবৃন্দ। 
রিপোর্ট: সুজন

Advertisements