শিক্ষা কার্যক্রম বিষয়ক সংবাদ

রংপুরের কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে দরিদ্র ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করছে ইয়ূথের স্বেচ্ছাসেবকরা

রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ঐতিহ্য ক্রমেই আরও বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। অক্সফোর্ড নামে খ্যাত কলেজটি শিক্ষা ও সেবামূলক কাজে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে যার বড় একটি উদাহরণ স্বেচ্ছাব্রতী সংগঠন ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশ এর স্বেচ্ছাব্রতীরা কলেজের আশে-পাশে যত দরিদ্র ছেলে-মেয়ে আছে যারা দারিদ্রতার কারণে লেখাপড়া করতে পারছে না এসব অভাবী ও দরিদ্র্য ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা-১০টা পর্যন- কলেজের মসজিদের পেছনে একটি নির্দিষ্ট বইয়ের মাধ্যমে তারা শিক্ষা দিচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক ছেলে-মেয়ে আগ্রহ সহকারে লেখা-পড়া করছে। কার্যক্রমটি সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা জানায় “হামার খুব ভাল নাগছে, হামরা সবায় লেখা-পড়া শেখমো”।
রিপোর্ট: হাসান আলী

আগৈলঝাড়াতে শিশু শিক্ষা কার্যক্রম
বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিয়ার ইউনিয়নের এ্যাকটিভ সিটিজেনস লিপি, সোনিয়া ও তাওহীদের অদম্য ইচ্ছা, পরিশ্রমের ফলে অসাধারণ অর্জন ও ইতিবাচক পরিবর্তন হয় বাজিহার ইউনিয়নের শিশু শিক্ষা উদ্যোগের মাধ্যমে । ১৯০তম এ্যাকটিভ সিটিজেনস প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অক্টোবর মাসে তারা তাদের শিক্ষা প্রদান অভিযান শুরু করে । তারা দেখলো যে, শিক্ষা থেকে শিশুরা অকালেই ঝরে পরছে তার কারণ স্কুলের গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস’া, অভিভাবকদের উদাসীনতা, শিক্ষার সহায়ক পরিবেশের অভাব। এই ভাবনার  জায়গা থেকে তারা অভিভাবকদের সাথে এ্যাডভোকেসি শুরু করল ঘরে ঘরে গিয়ে অভিভাবক এবং বাচ্চাদের পড়ালেখার জন্য উৎসাহিত করতে শুরু করলো এবং তাদের বাড়ির উঠানে একটি স্কুল স’াপন করলো খোলা আকাশের নিচে। সেখানে তারা প্রথম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণীর ছেলে-মেয়েদের পাঠদান শুরু করে। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। সাতদিনের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৫ জন ছাড়িয়ে যায়। এখানে পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদন ও মেধা বিকাশের চর্চা করা হয় যেমন গান, আবৃত্তি, অভিনয়, নাচ ইত্যাদি
রিপোর্ট: আমজাদ হোসেন রাজীব

শিশু শিক্ষা কার্যক্রম
২১ জানুয়ারি বরিশাল সদর ইউনিটের সকল ইয়ূথ লিডারদের উদ্যোগে (অমি, রাশেদ, রাকিব, রিজুল, পাপিয়া) বরিশাল স্টেডিয়ামের পেছনের একটি বসি-তে জরিপ চালানো হয়। জরিপে জানা যায়  বসি-তে মাত্র ১০ জন শিশু স্কুলে যায় এবং প্রায় ৪৩ জন শিশু অক্ষরজ্ঞানহীন। বসি-তে সকলের সাথে কথা বলে সুলতানা নামের একজন সাদা মনের মানুষের বাসায় একটি শিশু শিক্ষা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সেই স্কুলে ৩১ জন শিশু পড়ছে। ইয়ূথ লিডার পাপিয়া নিকটবর্তী এলাকায় জরিপ চালিয়ে জানতে পারে দারিদ্রের কারণে কিছু শিশু শিক্ষাগ্রহণ করতে পারছে না। পাপিয়া চক, স্ল্লেট, আদর্শলিপি বিতরণের মাধ্যমে ঐ এলাকায় শিশু শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। সহযোগিতায় ছিলেন আমজাদ  হোসেন রাজিব, আওলাদ রাকিব ও মোঃ ত্বাহা ইয়াছিন রিজুল। রাজিহারেও শিশু শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় শিশু শিক্ষার হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের উদ্যোক্তা হলেন লিপি, সনিয়া। তাদেরকে সামনের দিকে অগ্রসর হতে সহায়তা করে বরিশালের ইয়ূথ লিডার অমি, রিজুল ও পাপিয়া। লিপি তার নিজ বাসস’ানের সামনে শিশু শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে ঐ কেন্দ্রে ৩৩ জন শিশু শিক্ষাগ্রহণ করছে।
রিপোর্ট:রিজুল

দরিদ্র নারীদের শিক্ষাগ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ
কাশীপুর গ্রামের একটি এলাকায় জরিপ চালিয়ে জানা যায়, দারিদ্রের কারণে অনেক নারী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে না। তাই তানজিলা জেরিন অমির উদ্যোগে চক-স্লেট, আদর্শলিপি বিতরণের মাধ্যমে ঐ এলাকায় নারী শিক্ষার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। সহযোগিতায় ছিলেন আমজাদ হোসেন রাজিব ও মোঃ ত্বাহা ইয়াছিন রিজুল। নারী শিক্ষা কার্যক্রম এর আওতায় ১১ ফেব্রুয়ারি বরিশাল সদর ইউনিটের সকল ইয়ূথ লিডারদের উদ্যোগে একটি বসি-তে অভিযান চালানো হয়। বসি-তে নারী শিক্ষা বিষয়ক কথা বলা হয়। তারপর ওই বসি-তে ও একটি নারী শিক্ষা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সেই কেন্দ্রে ১৯ জন নারী পড়ছে।
গত মার্চে বরিশাল সদর ইউনিটের সকল ইয়ূথ লিডারদের উদ্যোগে(অমি, রাশেদ, রাকিব, রিজুল, পাপিয়া) আম বাগানের একটি বসি-তে নারী শিক্ষা বিষয়ক কিছু কথা বলা হয়। তারপর ওই বসি-তে একটি নারী শিক্ষা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রথমে ৩৫ জন পড়া শুরু করেছিল কিন’ বিভিন্ন সমস্যার কারণে বর্তমানে সেই কেন্দ্রে ১২ জন নারী পড়ছে।
রিপোর্ট:রিজুল

“গণশিক্ষা আন্দোলন” সমন্বয় সভা
গত ২ মে, ১৮ মে ও ৪ জুন ২০১১ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের হল রুমে “গণশিক্ষা আন্দোলন” সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভাগুলোতে রায়েরবাজার বেড়ীবাঁধে অবসি’ত গণশিক্ষা কেন্দ্রটি পরিচালনা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান- নেওয়া হয়। সভাগুলোতে গণশিক্ষা কেন্দ্রে  পাঠদান এর বিভিন্ন সংকট আলোচিত হয়। এছাড়াও উক্ত কেন্দ্রটিতে পাঠদানকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নানা প্রশিক্ষণ এর প্রস-াব করা হয়। কর্মশালা পরিচালনা করেন গণগবেষণা ইউনিটের মাহমুদ হাসান রাসেল ও এতে সার্বিক সহযোগিতা করেন ইয়ূথ সচিবালয়ের কর্মীরা। এছাড়া গণশিক্ষা আন্দোলন কমিটির সমন্বয়কারী অধ্যাপক অনিসুর রহমান স্যারও উপসি’ত ছিলেন।রিপোর্ট:কাজি রাবেয়া এমি

ঝিনাইদহে গণশিক্ষা বিষয়ক জরিপ
ঝিনাইদহের চাকলাপাড়ায় এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডারদের উদ্যোগে গত ১৫ মে ২০১১ নিরক্ষর ব্যক্তিদের তালিকা তৈরীর জন্য একটি জরিপ পরিচালনা করা হয়। এলাকার শতাধিক বাড়িতে জরিপ শেষে ২৬ জন নিরক্ষর ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তাদের নিয়ে গণশিক্ষা কেন্দ্র চালুর সিদ্ধান- গ্রহণ করা হয়। এটি সমন্বয় করেন এ্যাকটিভ সিটিজেনস ফ্যাসিলিটেটর আমিনুল।  এতে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন সাইদ, রত্না, ইমরান, ফিরোজ, সোহেল প্রমূখ।
রিপোর্ট: আমিনুল

ঝিনাইদহের নাড়িকেলবাড়ীয়ায় গণশিক্ষা বিষয়ক সমন্বয় সভা

১৮ মে ২০১১ এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডারদের উদ্যোগে ঝিনাইদহের নাড়িকেলবাড়ীয়া জেড,এ,মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে  গণশিক্ষা বিষয়ক সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয় । উক্ত সভায় গণশিক্ষার উপকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপসি’ত ছিলেন। এটি আয়োজনে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন সোহাগ, মিলন, নয়ন প্রমূখ।
রিপোর্ট: নয়ন

শিশু শিক্ষা সহায়তা কেন্দ্র স’াপন
৫ জুন ২০১১ কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার উরুকচইল গ্রামের ইয়ূথ সদস্যদের পরিচালনায় শুরু হয় শিশু শিক্ষা সহায়তা কেন্দ্র। আর্থিক দৈন্যতার কারণে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ১ম থেকে ৩য় শ্রেণীতে পড়ে এমন ৩০ জন দরিদ্র ও ঝরে পরা শিশুদের নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এই শিশু শিক্ষা সহায়তা কেন্দ্রটি। প্রতিদিন দুই ঘন্টা করে ক্লাশ করানো হয় বিনিময়ে শিশুদের কাছ থেকে বা তাদের অভিভাবকদের নিকট থেকে কোনো অর্থ নেয়া হয় না। ইয়ূথ সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতেই এই কার্যক্রমটি পরিচালনা করছে যেখানে শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন ইয়ূথ সদস্য ফয়সাল ও সুমা । আর এদেরকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার মাসুদ করিম।
রিপোর্ট – মাসুদ করিম।

দরিদ্র শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান
৭ জুন ২০১১ কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার উরুকচইল গ্রামের ইয়ূথ সদস্যদের উদ্যোগে গ্রামের দরিদ্র কৃষক ওসমান ফারুকের মেয়ে নার্গিসকে একতা সমবায় সমিতির তহবিল থেকে বই কেনার জন্য ১০০০ টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়। নার্গিস সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে কিন’ আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে বই কেনা সম্ভব ছিল না তাই তার পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছিল। একথা জেনে ইয়ূথ সদস্যরা একতা সমবায় সমিতির তহবিল থেকে এ সহায়তা প্রদান করে। ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার কুমিল্লা জেলা কমিটির সমন্বয়কারী আতিকুর রহমান ও এলাকার প্রায় ১০০ লোকের উপসি’তিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়। এতে মূল ভূমিকা পালন করেন এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার মাসুদ করিম।
রিপোর্ট – মাইরিন মজুমদার

 

Advertisements