সম্পাদকীয়

অনেকেই এখন দাবি করছেন যে, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শানি-পূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনই যথেষ্ট। এর জন্য সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস’া সংবিধানে অন’র্ভূক্ত রাখার প্রয়োজন নেই। তবে এ দাবি নতুন নয়। কিন’ এ দাবি কি যৌক্তিক, বিশেষত আমাদের অভিজ্ঞতার আলোকে? আমাদের গত সাড়ে চার বছরের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা থেকে এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া সম্ভব। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন- গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন অনেকগুলো দায়িত্ব পালন করে, যা না করলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশা হবে সুদূরপরাহত। আমাদের সংবিধান (অনুচ্ছেদ ১১৯) কমিশনের ওপর চারটি সুসপষ্ট দায়িত্ব অর্পন করেছে: রাষ্ট্রপতি

পদের নির্বাচন অনুষ্ঠান, সংসদ সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান, সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, এবং রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমাদের বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রস’ত করে, যা সর্বমহলে সমাদৃত হয়েছে। কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময়ের ভিত্তিতে ৩০০টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে, একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করে। এ কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সমপাদনের জন্য কমিশন অনেকগুলো আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন হয় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর (আরপিও) আমূল সংস্কার। রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে কমিশন এতে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সুপারিশ করে, যা নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করেন। প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার মাপকাঠিতে আরও কঠোরতা আনয়ন, প্রার্থীদের তথ্য প্রদানে বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি, নির্বাচনে সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা নির্ধারণ, কতগুলো শর্তসাপেক্ষে রাজনৈতিক দলের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ইত্যাদি ছিল গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের অংশ। গত সাড়ে চার বছরের অভিজ্ঞতা সমপর্কে এটি সুসপষ্ট যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন শুধু নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে না, যদিও এ ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা অত্যন- গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কমিশন একটি পক্ষ মাত্র। অন্য পক্ষগুলো হলো: প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী ইত্যাদি। এমনকি বিচারবিভাগেরও এ ব্যাপারে ভূমিকা রয়েছে। কারণ গত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি যে বিভিন্ন নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং আপিল গ্রহণকারী পক্ষ হিসেবে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রার্থিতা বাতিলের পরও, আদালতে গিয়ে অনেক বিতর্কিত প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা বহাল করতে সক্ষম
হয়েছেন, এমনকি নির্বাচনের আগের দিনেও। প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ না হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পক্ষপাতিত্ব করে, তাহলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কোনোভাবেই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভবপর নয়। আমাদের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিটি ক্ষমতাসীন দলের অধীনেই নগ্নভাবে দলীয়করণের শিকার, যা নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে একটি পর্বতপ্রমাণ বাধা হয়ে পড়েছিল। কারণ পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য তাঁদের রাজনৈতিক প্রভুদের কাছ থেকে একটি ইশারাই যথেষ্ট। অনেক সময় অতি উৎসাহের বশবর্তী হয়ে কর্মকর্তারা নিজেরাই তা করেন। প্রসঙ্গত, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক দলীয়করণের কারণেই ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে মহাজোট অংশ নেয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো ও প্রার্থীরা যদি আইন অমান্য করতে এবং বৈধ-অবৈধ সকল উপায় অবলম্বন করে নির্বাচনে জিততে বদ্ধপরিকর হয়, তাহলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান অসম্ভব। এ ছাড়াও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অর্থবহ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন কতগুলো পদ্ধতিগত সংস্কার এবং দল ও প্রার্থীদের আইন মানার এবং কমিশনের আধিপত্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা প্রদর্শনের এক নতুন সংস্কৃতি। আরও প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সবার অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

বদিউল আলম মজুমদার, গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ

ইয়ূথের স্বেচ্ছাব্রতী সামাজিক উদ্যোগ মেলা ২০১১
বিভিন্ন অঞ্চলের স্বেচ্ছাব্রতীদের সামাজিক উদ্যোগ মেলার খবর
কর্মশালা ও ইউনিট গঠনের খবর
দিবস উদযাপন সংবাদ
প্রশিক্ষণ সংবাদ
বৃক্ষরোপণ বিষয়ক সংবাদ
শিক্ষা কার্যক্রম বিষয়ক সংবাদ
সুস্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন বিষয়ক সংবাদ
বিতর্ক বিষয়ক সংবাদ
পাঠচক্রের খবর
গণিত উৎসবের খবর
কুইজ প্রতিযোগিতার সংবাদ
অন্যান্য বিশেষ সংবাদ

 

Advertisements