সাহিত্য পাতা

একটি পাঞ্জাবির গল্প
হা বী ব  ই ম ন

মাস্টার পাড়া ছাড়িয়ে মাইজদী বাজারে এসে দাঁড়ালাম আমি। তিনিও এসে দাঁড়ালেন। তাঁর সাথে প্রথম আলো বন্ধুসভা নোয়াখালীর একটি বৈঠকে দেখা হয়েছিলো এর আগে। কথা হয়নি।
টেম্পুতে উঠলাম আমরা। আমি টেম্পুর পিছনে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় দাঁড়িয়ে বাতাস খাচ্ছি। তিনি ভেতরে চন্দ্রের সাথে কথা বলছিলেন। চন্দ্র আমার অনুজপ্রতীম। সংস্কৃতিকর্মে আন-রিক সে। চন্দ্র আর তিনি একসঙ্গে আবৃত্তি সংগঠন কবিতাঙ্গন এ কাজ করতেন। টেম্পুতে একবারও তিনি আমার দিকে খেয়াল করলেন না। আমাকে পাত্তা দিলেন না। দু’জনে কিন’ নামলাম নোয়াখালী জিলা স্কুল গেইটে। সেখানে আরো কয়েকজন এসে দাঁড়িয়ে আছে। প্রথম আলো বন্ধুসভার এসিড দ্বগ্ধদের জন্য তহবিল গঠনে নোয়াখালীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমরা অভিযান চালাই।
আমরা একসাথে নোয়াখালী জিলা স্কুলে অর্থ তহবিলে নেমে গেলাম। ভেতরে ভেতরে সেদিন আমি খুব গর্বিত হয়েছি, আমার স্কুলে এসে। যখন ক্লাসে ক্লাসে ব্রিফিং দিচ্ছি, জড়তা এসে যাচ্ছিল আমার কণ্ঠে। কেউ কেউ আড়ালে এ নিয়ে হাসছিলো। তখন পিছন থেকে তিনি আমাকে সাহস দিয়ে যাচ্ছিলেন।
সময়টা মনে নেই।
সন্ধ্যে ঘনিয়ে রাত। নোয়াখালী কবিতা উৎসব আয়োজন প্রস’তি চলছিলো টাউন হলে। কথা হচ্ছিলো। হাসাহাসি হচ্ছিলো। আবার কাজও চলছে পুরোদমে। এরই মধ্যে হলের মধ্যে একজন আসলেন। আমাকে বাইরে ডাকলেন। আমি গেলাম তার সাথে বাইরে। আমার হাতে একটি প্যাকেট ধরিয়ে বললো, ‘তোমার আপু তোমার জন্য পাঠিয়েছে।’
আমি প্যাকেটটি হাতে নিলাম। ভেতরে চলে গেলাম। সবাই প্যাকেটটি হাতে নিয়ে খুলে দেখলো ভেতরে একটি পাঞ্জাবি। শুভ্র-সাদা রঙে পাঞ্জাবি গোলাপি রঙের অণু কাজ। নান্দনিক এই পাঞ্জাবিটি পরে আমি পরদিন কবিতা উৎসব উদ্‌যাপন করলাম। তার ভেতর দিয়ে আবিস্কার করলাম অসম্ভব স্নেহ আর ভালোবাসা।
পাঞ্জাবি আমার ভীষণ প্রিয় একটি পোশাক। যখন যেখানে যাই একটি পাঞ্জাবি আমি কিনি। কিংবা কেউ একটি পাঞ্জাবি উপহার দিলে খুশি হই। আমার প্রথম গল্প মায়াকানন এ পাঞ্জাবি প্রসঙ্গ নিয়ে এসেছি। পাঠকমহলে আনন্দ দিয়েছে পাঞ্জাবি।
দুটো গল্পের মধ্যে একজন মানুষের চিত্র ভাসছে চোখের সামনে। গল্প দুটোর চরিত্র কিন’ একজনই। আড়াল থাকতে চান তিনি। মাঝে মাঝে আমি তাঁকে ‘সুচিত্রা সেন’ বলি। সুচিত্রা সেনের মতোই তিনিও আপন গৃহে চলে যান একটা সময়। সবকিছু থেকে দূরে রাখেন নিজেকে।
পরিচয়ব্যাপ্তি তাঁর সাথে আমার বেশিদিন নয়। কিন’ সম্পর্কের দাবী আজন্ম। জীবনের বিষাদ, আনন্দ আর মহত্তম সময় তাঁর কাছেই আমার গচ্ছিত। অপুর দিদি দুর্গার মতো হয়তো তার কোলে-পিঠে মানুষ হইনি, তার শাসন-আদর-স্নেহ-মমতায় পরিপূর্ণ হচ্ছি। অন-রালে থেকে তিনি ছাপিয়ে দিলো আমাকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে।
আসে- আসে- তাঁর কাছে আমি কিংবা আমার কাছে তাঁর শারীরিক উপসি’তি হারিয়ে গেলো ক্রমশঃ। এমনদিন ছিলো কেউ কাউকে দেখতে পেতামনা। অসি’র থাকতাম দেখার জন্য। সেই আমরা হারিয়ে গেলাম জীবনের সাদা অথবা রঙিণ সময় থেকে। মাঝে মাঝে বলাটা ঠিক হবে না, প্রায় সময় তার সাথে আমার খুনসুটি লাগতো। এখন আর হয় না।
এ লেখার অধ্যায়টুকু আমার অপূর্ণ থেকে যাবে সবসময়। তাঁর অনিচ্ছার কারণে নামটি আার দেয়া হলো না।
জানি শুধু, বোনটি আমার, ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে চলে প্রতিদিন। ঠিক সাদা পাঞ্জাবির অণু গোলাপি।     

তথ্য বিচিত্রা
লিপি আক্তার

১. বিড়ালেরা প্রায় ১০০ প্রকার শব্দ করতে পারে, যেখানে কুকুরেরা শব্দ করতে পারে মাত্র ১০ প্রকার।
২ .ইংল্যান্ডে স্পিকার অব হাউসের কখনো কথা বলার নিয়ম নেই।
৩. মানুষ যখন হাঁচি দেয় তখন শরীরের সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়, এমনকি স্পন্দনও।
৪. হাসতে গেলে মুখের ১৭টি পেশীর নাড়াচাড়া হয়,আর,রেগে গেলে নাড়াচাড়া হয় ৪২টি।
৫. সবুজ আপেল কিংবা কলা শুকালে কিছুটা ওজন হ্রাস পায়।
৬. লাল চুলের মানুষ অন্যদের তুলনায় তাড়াতাড়ি টেকো হয়।
৭. স্বনামধন্য বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন সারা জীবনে রসায়ন, জ্যোতির্বিদ্যা,এবং যাদুবিদ্যার উপর একলক্ষ পৃষ্ঠা নোট লিখেছেন।
৮. ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুই সারাজীবনে মাত্র তিনবার পানিতে স্নান করেছিলেন,তবুও স্বেচ্ছায় নয় । তিনি দুদিন অন-র মদ ও ক্রিমের মিশ্রণে স্নান করতেন।  

আমাদের জ্বলতে হবে
আমরাই পেরেছি, আমরাই পারব গড়তে স্বপ্নীল দেশ,
আত্মশক্তি ও আত্মসম্পর্ক কাজে লাগাবো থাকবেনা কোনো ভেদাভেদ।
তুলে ফেলব দুর্নীতি, ছিনিয়ে আনব মানবাধিকার,
জ্বলছি আমরা জ্বলব, এভাবে যতদিন থাকবে এই ছাত্র সমাজ।
মিলে মিশে করব কাজ হাতে হাত রেখে,
আমরা বের হব যুদ্ধ ক্ষেত্রে, সফল হই যেন শেষে।
মনে থাকবে আত্মবল, থাকবে মায়ার বন্ধন, তাহলেই করব সঠিক কাজ এইতো মোদের পন।
স্বদেশের উপকারে নাই যার মন,
কে বলে মানুষ তারে? পশু সেই জন।
সকলের মনে জাগ্রত করব আত্ম ত্যাগের প্রতিশ্রুতি,
বিশ্বে ছড়াব যে, এটিই দি হাঙ্গার প্রজেক্টের নীতি। 

রিপা আক্তার
করিমগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ

বৃত্তের বাইরে……………………..

রসায়ন বিজ্ঞানের ৪০০ বছর

১৯৯১ সালে প্রথম মহিলা বিজ্ঞানী হিসেবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান মেরি কুরি। ২০১১ সালে তাঁর পুরষ্কার প্রাপ্তির শত বছর পূর্তি হবে। ২০১১ সালটি পালিত হবে আন-র্জাতিক রসায়ন বছর হিসেবে। আর ২০০৯ সালটি রসায়নবিদেরা পালন করেন আধুনিক রসায়নের ৪০০ বছর পূর্তি হিসেবে। ৪০০ বছর আগে ১৬০৯ সালে মারবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মত মাত্র ৬ জন ছাত্র নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় হিসেবে যাত্রা শুরু হয় রসায়ন বিজ্ঞানের। আর সে বছর রসায়ন বিজ্ঞানের প্রথম অধ্যাপক হিসেবে ইতিহাস রচনা করেন জোহানস হার্টম্যান। জোহানস হার্টম্যান ছাড়াও বিজ্ঞানবিশ্ব বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করে পন্ডিত প্যারাসেলসাস ও ভন হেসেনকেও। কারণ, প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় হিসেবে রসায়ন বিজ্ঞানের অভিযাত্রার নেপথ্যের নৈবদ্য সাজিয়েছিলেন তাঁরাই।    

নতুন গ্রহ সুপার আর্থস

আমাদের সৌরজগতের খুব কাছে পানিসমৃদ্ধ, উষ্ণ এক গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ধারণা করা হচ্ছে গ্রহটি পৃথিবীর মতো প্রাণী বসবাসের উপযুক্ত। পৃথিবী থেকে ৪০ আলোকবর্ষ দূরের এ গ্রহটি আমাদের সূর্যের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট লোহিত বর্ণের এক নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। নতুন এ গ্রহটির নাম দেয়া হয়েছে জি জে ১২১৪ বি। এটি পৃথিবী থেকে ২.৭ গুণ বড় এবং ভর সাড়ে ৬ গুণ বেশি। এ গ্রহের তিন-চতুর্থাংশ পানি ও বরফ এবং বাকি অংশ পাথুরে শিলায় গঠিত। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি পানিসমৃদ্ধ ”সুপার আর্থ”। গ্রহটি যে নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে তার উপরিভাগের তাপমাত্রা ২৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নক্ষত্র থেকে এর দূরত্ব ১৩ লাখ মাইল। এক হিসেবে দেখা গেছে, এ দূরত্বে থাকা গ্রহটির বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা হবে ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি নিয়ে এ পর্যন- মোট দু’টি গ্রহ পাওয়া গেল পৃথিবীর মত। অন্যটির সন্ধান মিলেছে গত বছরের অক্টোবরে। এর অবস’ান পৃথিবী থেকে ১৫০ আলোকবর্ষ দূরে পেগাসাস নক্ষত্রপুঞ্জে। জি জে ১২১৪ প্রতি ৩৮ ঘন্টায় একবার তার নক্ষত্রের চারপাশ ঘুরে আসে। 

সাগরতলে মন্ত্রিসভার বৈঠক

বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম সাগরতলে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৭ অক্টোবর ২০০৯। বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়তে থাকায় মালদ্বীপের জন্য যে হুমকি সৃষ্টি হয়েছে, সে ব্যাপারে সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন করে দেশটির সরকার। বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২.১ মিটার (সাত ফুট) উচ্চতায় অবসি’ত এ দ্বীপ দেশটির আগামী ১০০ বছরের মধ্যে সাগরগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে । ভারত মহাসাগরের দেশ মালদ্বীপের ছোট দ্বীপ গিরিফুশির সাগরতলে মন্ত্রিসভার এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এ বৈঠকের জন্য সাগরের ৬ মিটার (২০ ফুট ) গভীরে ঘোড়ার খুরের আকৃতিতে সাজানো হয় চেয়ার টেবিল। প্রেসিডেন্ট নাশিদের সাথে ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ওয়াহিদ ও ১১জন মন্ত্রী বৈঠকে যোগ দেন। এতে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার মূল কারণ কার্বন নির্গমন রোধে বিশ্বব্যাপী পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস-াব অনুমোদন করা হয়। সাগরতলে আধা ঘন্টা ধরে এ বৈঠক চলে। এ বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা হাতের ইশারা ও একটি সাদা বোর্ডের মাধ্যমে ভাব বিনিময় করেন। এ বোর্ডে লেখা প্রস-াবে মন্ত্রীরা পানিরোধী মার্কার দিয়ে স্বাক্ষর করেন। নজিরবিহীন এ বৈঠকের প্রস’তি হিসেবে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রীরা দু মাস ধরে প্রশিক্ষণ নেন। এ সময় প্রশিক্ষকেরা তাদের পানির নিচের অবস’ানের ব্যাপারে বিভিন্ন কৌশল শেখান ।          

১.    লেজার রশ্মি কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
২.    ফারেনহাইট ও সেলসিয়াসের স্কেলে কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় সমান তাপমাত্রা নির্দেশ করে?
৩.    ঘূর্ণিঝড় আইলা বাংলাদেশে কবে আঘাত হানে?
৪.    জাতীয় যুব দিবস কত তারিখে?
৫.    বাংলাদেশ কবে সিটিবিটি স্বাক্ষর করে?
৬.    ”ওয়াফা” কোন দেশের সংবাদ সংস’া?
৭.    ২০১০ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয় কোন দেশ?
৮.    আইসিসি স্বীকৃত প্রথম মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেট কবে কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
৯.    ”তিতাস একটি নদীর নাম” উপন্যাসটির লেখক কে?
১০. এন্টার্কটিকায় প্রথম বাংলাদেশি অভিযাত্রীর নাম কি?

বি:দ্র: কুইজের উত্তর ৩১ ডিসেম্বর ২০১০ এর মধ্যে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশ সচিবালয়ে ঠিকানা, মোবাইল নম্বর সহ প্রেরণ করতে হবে। লটারির মাধ্যমে তিনজন বিজয়ীকে যথাসময়ে ডাকযোগে পুরষ্কার পাঠিয়ে দেয়া হবে। 
বন্ধুরা এখন থেকে এই পাতাটি নিয়মিত প্রকাশিত হবে। তাই তোমাদের কাছ থেকে লেখা, নতুন ধারণা, এই পাতাটির নামকরণ এবং পাতাটিকে আরো কিভাবে সমৃদ্ধ করা যায় এই ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

Advertisements

About John Coonrod

Executive Vice President, The Hunger Project
This entry was posted in কার্যক্রম. Bookmark the permalink.