আমরা করব জয় ৭০তম সংখ্যা

সম্পাদকীয়

আমাদের সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির জন্য কোনো কার্যপরিধি নির্ধারিত করা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। তবে মনে হয় যেন সংবিধানের পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিল সংক্রান- উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নই হবে কমিটির মূল উদ্দেশ্য। আরেকটি উদ্দেশ্য হবে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল রোধে কঠোর বিধানের সুপারিশ করা।

আমরা মনে করি যে, সংবিধান একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল – এটি একটি রাষ্ট্রের ধ্রূবতারা ও ভবিষ্যতের রূপরেখা। তাই সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে ‘পীস্‌মীল্‌’ বা খণ্ডিত ও এডহক বা অপূর্বনির্ধারিত পদ্ধতিতে অগ্রসর হওয়ার বা তাড়াহুড়া করার কোন অবকাশ নেই। আমরা আরও মনে করি যে, আদালতের দু’টি রায় ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আছে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়নের ক্ষেত্রে যা কমিটিকে বিবেচনায় নিতে হবে। সুতরাং আমাদের সুপারিশ হলো – বিশেষজ্ঞ, রাজনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘সংবিধান পর্যালোচনা কমিটি’ গঠন করা এবং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনেত্ম উদ্যোগ নেওয়া – প্রতিবেশী ভারতে সংবিধানের কার্যকারিতা মূল্যায়নের লক্ষ্যে অতীতে একাধিকবার এধরনের কমিশন গঠন করা হয়েছে। বর্তমান সংসদীয় বিশেষ কমিটিকে সহায়তার লক্ষ্যেই প্রস-াবিত পর্যালোচনা কমিটি গঠিত হতে পারে।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিফলন, আমাদের মূল সংবিধানে অন-র্ভূক্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে অবশ্য ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধান থেকে বিলুপ্ত এবং সমাজতন্ত্রকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার হিসেবে সুনির্দিষ্ট করা হয়। আমাদের মূল ‘সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন কমিটি’ তার ১৯৭২ সালের রিপোর্টে বলেছে যে, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো সংবিধানের বিভিন্ন ধারায় প্রতিফলনের জন্য কমিটি আন-রিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তাই আজ – সংবিধান রচনার দীর্ঘ ৩৮ বছর পর – সময় এসেছে এ তিনটি মূলনীতি বাস-বায়নের, বিশেষত গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমাদের সংবিধান কতটুকু সফল হয়েছে তা মূল্যায়ন করার।
এছাড়াও আমরা মনে করি যে, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে অন্য যে সকল বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো: দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা পদ্ধতির প্রবর্তন, সংরক্ষিত নারী আসনগুলোতে সরাসরি নির্বাচনের লক্ষ্যে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতির ব্যবহার, প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগের সত্যিকারের পৃথকীকরণ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, দুদকসহ কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস’া অন-ত আরও এক টার্ম চালু রাখা, বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতির সাথে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি প্রবর্তন, আদিবাসী-ক্ষুদ্র জতিগোষ্ঠীসমূহকে যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান ইত্যাদি। আমরা আরও মনে করি যে, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের সাথে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণ জরুরি। এক্ষেত্রে শুধু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিলেই হবেনা, কারণ সংবিধান শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞদের জন্য নয়।

ড. বদিউল আলম মজুমদার, গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ

ইয়ূথের চতুর্দশ জাতীয় সম্মেলনের সফল সমাপ্তি
ইয়ূথ লিডারদের অনুভূতি
অতিথিদের অনুভূতি
পঞ্চদশ জাতীয় সম্মেলন কমিটি-২০১০
ন্যাশনাল ইয়ূথ ফোরাম-২০১০
তরুণরাই বাংলাদেশকে বদলাতে পারবে
এক নজরে ব্রিটিশ কাউন্সিল-বাংলাদেশ ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট- বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার্স ট্রেনিং কার্যক্রম
ইয়ূথের দ্বিতীয় জাতীয় পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত
‘প্রত্যাশা প্রতিশ্রুতি ও কার্যক্রম’ শীর্ষক কর্মশালা -এর খবরা খবর
পাঠচক্রের খবরা-খবর
ক্যাম্পেইন বা প্রচারাভিযানের খবরা-খবর
ইউনিট পুনর্গঠনের খবর
গণিত উৎসব
অন্যান্য খবরা-খবর
ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশ – প্রত্যাশা ২০১০-১১
সাহিত্য পাতা
প্রচ্ছদ কাহিনী
Advertisements