অতিথিদের অনুভূতি

মুনির হাসান
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গনিত আলিম্পিয়াড কমিটি
তরুণরাই পারে বাংলাদেশকে বদলে দিতে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, সবখানেই তরুণরা নেতৃত্ব দিয়েছে।  তোমাদের মতো তরুণরাই পারে বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে। মুসার মত তোমরাও পারবে অনেক কিছু করতে । 

ড. খায়রুল বাশার
সাবেক শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
ইযূথ এন্ডিং হাঙ্গার আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে পরিচিতি দান করেছে গণিত অতিম্পিয়াডের ছেলেমেয়েরা, ক্রিকেটের তরুণরা। অর্থাৎ তরুণরাই পারে অনেক কিছূ করতে। নিজেরা আত্মনির্ভরশীল হলেই সম্ভব একটি ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

তাজিমা হোসেন মজুমদার
সংগঠক
ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার একটি স্বপ্ন, একটি আন্দোলন । যে কোন কাজে সফল হতে হলে প্রয়োজন সততা। সততা বজায় থাকলে একদিন তার সুফল পাওয়া যাবেই। এখানে যারা এসেছে তারা প্রত্যেকেই সততার সাথে ক্ষুধা মুক্তির এই আন্দোলনে লড়াই করে যাচ্ছে। ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার একটি ব্যতিক্রমি স্বেচ্ছাব্রতী সংগঠন। তোমরা তোমাদের কাজের মধ্যে দিয়ে অন্যদেরকে অনুপ্রাণিত করছো। তোমাদের প্রতি শুভকামনা রইল,জয় তোমাদের সুনিশ্চিত।

দিলারা জামান
বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব
আমার ছানি পড়া চোখ দিয়ে আমি তোমাদের চোখে স্বপ্ন দেখি।  আমি একজন মা, আমি চাইনা আমার ছেলের হাতে রামদা উঠুক বারুদের গন্ধ ছুটুক। আমি তোমাদের মত সোনার ছেলেমেয়েদের মা হতে চাই। ধন্যবাদ দি হাঙ্গার প্রজেক্টকে । তোমরা তরুন চিরদিন তরুন থাকো। তোমাদের চোখে আমি বাঁচার স্বপ্ন দেখি।

ড. বদিউল আলম মজুমদার
তোমরা দেশ ও নিজের জন্য কাজ করবে। নিজের যদি সর্বচ্চ বিকাশ ঘটানো যায় তাহলে নিজের জন্য কাজ করা হয় । তোমরা যদি প্রত্যেকেই সফল হও তাহলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে। তোমাদের কাজগুলো দেশের কাজে লাগবে। তোমাদের এক নম্বর কাজ হলো নিজেদের বিকাশ ঘটানো, দুই নম্বর কাজ দেশ ও জাতির জন্য কিছু করা । আর এটা করতে হলে  নিজেদের কাজ গুলো আরো বিসৃ-তভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। তোমরা বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন মুলক কাজ করছো দেশ ও সমাজের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকে। তৃতীয় এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো যে, তোমরা নিজেদের নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাচ্ছো যা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।  আর নেতার পরিচয় তাঁর কথায় নয়, কাজে। ছোটকালের মহাত্মা গান্ধী আর পরবর্তীকালের গান্ধী এক ছিলেন না। কারণ তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে নিজের প্রচেষ্টায় নিজের মধ্যে রুপান-র ঘটিয়েছিলেন। আমি মনে করি গান্ধী যদি পারে, তোমরাও পারবে। যদিও  বলা যতটা সহজ করা ততটাই কঠিন।
তবে তোমরা  যদি  প্রতিশ্রতিশীল হও তাহলে সহজেই তা করা সহজ।  তোমরা যদি প্রত্যেকেই  প্রতিদিন অন-ত একটি ভাল কাজ করো । আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ একদিন বদলে যাবেই। দেশ আমাদের মা, আমরা দেশমাতার সন-ান।  অন্য কথায় সংবিধানের ভাষায় আমরা এদেশের নাগরিক এবং মালিক। দেশের দুঃসময়ে আমাদের কষ্ট হয়। দেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তোমরা ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার এর সাথে যুক্ত হয়েছো। স্বাধীনতার পর থেকে যে রাজা-প্রজা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তা তোমাদের দূর করতে হবে। তোমাদের কাজটা মুক্তিযুদ্ধের সমতুল্য। 

রাফিয়া চৌধুরী
সমাজ কর্মী
তোমরা যতটা তৃণমূল পর্যায়ে গেছো , অতদূর আমরা এখনও যেতে পারিনি। যেহেতু আমরা অনেকটাই তোমাদের মত কাজ করি তাই আমি চেষ্টা করবো তোমাদের সাথে কাজ করে যেতে।

হামিদা হোসেন
মানবাধিকার কর্মী
তোমরা এতজন কাজ করছো দেখে আমি সত্যিই খুব অনুপ্রাণিত। তোমরা নারী নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন রোধে কাজ করছো এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তোমরা ভালোভাবে এগিয়ে যাও।

ড. কামাল হোসেন
সংবিধান প্রণেতা
প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। তোমাদের কাজে তোমরা প্রমান করেছো যে তোমরা দায়িত্বশীল মালিক। তোমরা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাও। তোমাদের ঐক্যের কথাটা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। ঐক্যবদ্ধ হলে সবকিছুই সম্ভব। ষাটের দশকে ঐতিহাসিক ঐক্যের ফলেই আমরা শেষ পর্যন- স্বাধীনতা পেয়েছি।  শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সবচেয়ে ভালো উপায় তাদের জীবনের বিনিময়ে পাওয়া এ দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হওয়া যে কত বড় সৌভাগ্যের তা আমরা বুঝতে পারি। আমি সার্বক্ষণিক তোমাদের সঙ্গী হয়ে থাকব।  

ড. জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাবেক উপাচার্য , জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
ড. মজুমদার তোমাদের একত্রিত করেছে এবং তোমরা নিজেদের কাজ নিজেরা করছো। আমরা আগে ছিলাম প্রজা,এখন আমরা স্বাধীন দেশের গর্বিত নাগরিক। আমাদের একজন এভারেষ্ট জয় করেছে ,তাঁর মধ্যে এভারেষ্ট জয় করার ,বাংলাদেশের পতাকা শীর্ষে তোলার স্বপ্ন ছিল সে তাঁর স্বপ্ন পূরণ করেছে। তোমাদের যার যা স্বপ্ন আছে তা তোমরা প্রস্ফুটিত করো।

আনির চৌধুরী
বাংলাদেশের প্রায় ৪৫% মানুষ নিরক্ষর। তোমরাই ডিজিটাল বাংলাদেশের সৈনিক যার একহাজার জন এখানে উপসি’ত। সোনার বাংলা বা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম বাধা নিরক্ষরতা । তোমরা নিরক্ষরতা দূরীকরণে কাজ করে যাচ্ছো, আশা করি তোমরা সফল হবে। গণশিক্ষার জন্য তিনটি বিষয় অতীব গুরুত্বপূর্ণ তা হলো: ক) উদ্বুদ্ধকরণ খ) উপকরণ গ) রিফ্রেশার্স।

অধ্যাপক মোজাফ্‌ফর আহমদ
সভাপতি,সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক
মানুষকে সহজে লেখাপড়া শেখানোর জন্য স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ “সহজপাঠ” নামে বই লিখেছিলেন। শিক্ষা আন্দোলন নতুন কোনো বিষয় নয়। স্বাক্ষরতার জন্য প্রথমেই যা প্রয়োজন তা হলো মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করা। শিক্ষাকে ফলপ্রসূ করতে দু’টি বিষয়কে সম্পৃক্ত করতে হবে তা হলো : ১) জীবন ২) আনন্দ। তোমাদের ইতিবাচক কাজকর্ম গুলো ঠিকমতো মানুষকে পড়ানোর জন্য সহজ ভাষায় ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে হবে। আর এর সাথে যোগ করতে হবে তার জীবন। এই সৃজনশীল কাজগুলো ধরে রাখতে পারলেই ক্রমান্বয়ে সাফল্য আসবেই। গণতন্ত্র সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। এক্ষেত্রে গণতন্ত্র অলিম্পিয়াড খুব সহযোগী।

Advertisements