স্বেচ্ছা শ্রমে আলোকিত যারা

পরিবর্তনের গল্প/বদলে যাবার গল্প

আমি তখন অর্নাস ২য় বর্ষের ছাত্র  । আমি যে ছাত্রাবাসে থাকি তার নাম বিজ্ঞান ছাত্রাবাস । সবার সাথেই সুন্দর সর্ম্পক । এদের মধ্যে ইউসুফ ভাই(কো-অর্ডিনেটর, রাজশাহী সিটি ইউনিট)এবং আমির হামজা, একে ওন্যকে লিডার বলে ডাকে । এছাডা তাদের কথা বলার প্রসঙ্গ আমার মধ্যে এক ধরনের আগ্রহ সৃষ্টি করে । বেশিদিন কৌতূহল দমন করে রাখতে পারলাম না । ইউসুফ ভাইকে জিজ্ঞেস করতেই তিনি আমাকে শোনালেন  ”ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গারের ” তারূন্যের গল্প , দেশের মানুষের জন্য কিছু করার গল্প । এর বেশ কিছু দিন পর ইউসুফ ভাইয়ের হাত ধরে আমি সহ ৪ জন রাজশাহী কলেজ মাঠে একটি কর্মশালায় অংশগ্রহণ করি । এখানেই পরিচয় ঘটে সুব্রত দাদার  সাথে যিনি শুধু স্বপ্ন দেখান না , স্বপ্নটাকে বাসতবে রূপ দেয়ার অনপ্রেরণাও দেন । যাইহোক, ওয়ার্কশপ এর কিছুদিন পর আমি ৮৩তম ব্যাচে ইয়ুথ লিডার্স ট্রেনিং গ্রহণ করি । এ ট্রেনিংটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড অর্জন । আমার চিন-া-ভাবনা, চলার গতিপথ সব বদলে দিয়েছিল এই ট্রেনিংটি । সেখানে যাদের সান্নিধ্য পেয়েছিলাম তাদের উৎসাহেই এখনো পথ চলছি , চলব সমাজ বা দেশের জন্য কিছু করার ব্রত নিয়ে ।  আজও আমি বুকের মধ্যে লালন করি সেই স্বপ্নের গ্রামকে । ৪ দিনের ট্রেনিং কখন যে শেষ হলো বুঝতেই পারিনি । শেষ দিন এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যা কখনো ভোলার নয় ।
ঠিক এক মাস পর আমাদের ফলোআপ মিটিং হয় । এই মিটিং এ সিদ্ধান- হয় যে, রাজশাহীতে একটি ”যুব সংসদ” গঠন করা হবে, যেটা আর কেউ এখন পর্যন- করতে পারেনি । রাজশাহী সিটি ইউনিটের জন্য ”যুব সংসদ” গঠন ছিল একটি চ্যালেঞ্জ । সেদিন থেকেই শুরূ হয় যুব সংসদ আয়োজনের প্রস’তি । আমরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে রাজশাহী জেলার ৮ টি উপজেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজ থেকে মেধাবি ছাত্র-ছাত্রী সংগ্রহের কাজে বেরিয়ে পড়ি । আর এই কাজ করতে গিয়ে , বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষা অফিসার,ইউএনও, সহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে পরিচিত হবার এবং তাদের সংস্পর্শে যাবার সুযোগ লাভ করেছি যা আমার কাছে ছিল অত্যন- গর্বের । আমি দুটি উপজেলায় যাই অংশগ্রহণকারী সংগ্রহ করতে,এই দুটি উপজেলায় গিয়ে আমাকে কথা বলতে হয়েছে সেখানকার ইউএনও ,শিক্ষা অফিসার সহ স্কুল কলেজের শিক্ষক মহোদয়গণের সাথে । দূর্গাপুর উপজেলার শিক্ষা অফিসার আমাদের বিশেষভাবে সহযোগিতা করেছিলেন ।
কাজগুলো করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি যারা উৎসাহিত করেছেন তারা হলেন মাসুদুল করিম, ইউসুফ ভাই, উজ্জল ভাই, মামুন, মিতুল,মিমি,আরিফ ছাড়াও আরো অনেকে।
যাহোক অবশেষে এলো সেই মহেন্দ্রক্ষণ অর্থাৎ ” যুব সংসদ” অনুষ্ঠানের দিন । ১০ এপ্রিল ২০১০ রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সে অনুষ্ঠিত হল অনুষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি মেয়র জনাব এএইচএম খায়রূজ্জামান লিটন , সাংসদ জনাব ফজলে হোসেন বাদশা, সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ।
সবাই উচ্ছসিত প্রসংসা করেছেন এই যুব সংসদের । মেয়র সাহেব যখন এই আয়োজনকে সফল আয়োজন বলে অভিহিত করলেন তখন গর্বে আমার বুকটা ভরে গিয়েছিল কারণ এই আয়োজনের অংশীদার ছিলাম আমি ।
শেষ হলো যুবকদের নিয়ে গঠিত ”যুব সংসদ” যেখানে তুলে ধরা হয়েছে তরূনদের আকুতি তরূনদের চাওয়া-পাওয়া ।  গত ২৫ ফেব্রূয়ারি রাজশাহীতে আঞ্চলিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হলো ,শোয়েব ভাই যখন বললেন যে আমাদের অর্জনগুলো তুলে ধরার সুযোগ আসছে । তাই সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাইনি । নিজের অর্জনগুলো সবাইকে জানানোর  এই লোভ সংবরণ করতে পারিনি । পরিশেষে আমি একটি অংকের সমাধান করতে পেরেছি সেটা হলো “আত্মশক্তিতে বলিয়ান ব্যাক্তি কখনো দরিদ্র থাকতে পারে না” । (প্রমানিত)
বন্ধুরা তোমরা কি সমাধান করতে পেরেছো ?
মোঃ আরমান সিদ্দিকি
রাজশাহী সিটি ইউনিট

স্বাধীন ,স্বাবলম্বী ও দৃঢ়চেতা এক যুবকের নাম মোজাম্মেল

দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এর কটিয়াদী উপজেলা সমন্বয়কারী হাবিবুর রহমান বর্ণালী ও উজ্জীবক মিসেস বর্ণালীর সুযোগ্য সন-ান, তানিয়া নাছরিন বর্ণালী ও মাহাবুবুর রহমান রুবেল’র ভাই উজ্জীবক বর্ণালী পরিবারের অন্যতম সদস্য, মোজাম্মেল হক ২০০৫ সালে ইয়ূথ লিডার ট্রেনিং (ব্যাচ নং-২৮) নিয়ে ‘‘ আত্মশক্তিতে বলীয়ান ব্যক্তি দরিদ্র থাকতে পারে না ’’ মর্ম উপলব্ধি করে নিজের মাঝে বাস-বায়নের দৃঢ় অঙ্গীকারে ২০০৬ সালের ব্যাচ নং ১২০৫ এ উজ্জীবক ট্রেনিং নিয়ে সঞ্চয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার মানসে ‘‘ ছোট ছোট বালু কণা বিন্দু বিন্দু জল গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল ’’ এর মত একটু একটু করে সঞ্চয় করে তার সঞ্চয়ী প্রকল্পের মাধ্যমে গরু লালন পালন করে ৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মুনাফা  অর্জন করতে সক্ষম হয়। ২০০৬ সালে উজ্জীবক ট্রেনিং প্রাপ্ত এই যুবক, পরবর্তীতে তার প্রচেষ্টায় সহকর্মীদের সহযোগিতায় কটিয়াদী উপজেলা সদরে পাঁচবার গণিত উৎসব করে এলাকার সূধী মহলের নজর কাঁড়তে সক্ষম হয়েছে। এ উদ্যমী যুবক মোজাম্মেল মানিকখালীতে অনুষ্ঠিতব্য বিনা মূল্যে ‘‘ কম্পিউটার ট্রেনিং প্রকল্পের ’’ স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষক হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে ৪৮ যুবক/যুবতীকে স্বাবলম্বী হওয়ার হাতিয়ার হিসেবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। তার নেতৃত্বে কটিয়াদীতে তিনটি ইয়ূথ লিডার্স ট্রেনিং চারটি এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার্স ট্রেনিং ও তিনটি উজ্জীবক ট্রেনিং সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে মোজাম্মেল কটিয়াদী আত্ম প্রত্যয়ী যুবক হিসেবে সকলের কাছে সুপরিচিত। শিক্ষা সংস্কৃতির মাধ্যমে যুবক-যুবতীদের আত্মপ্রত্যয়ী করার মানসে দুইবার ‘‘ তারুণ্য ’’ নামে ম্যাগাজিন সম্পাদনা করে ছাত্র-ছাত্রী যুবক-যুবতীসহ সর্বস-রের মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। আমার ধারণা মোজাম্মেলের মত কিছু যুবক এই ভাবে আত্মনিবেদন করলে ড. বদিউল আলম মজুমদার সাহেবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার ও এ্যাকটিভ সিটিজেনরা অতি সহজে তার কাক্ষিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারবে। 
সে তার নেতৃত্বে ২০০৬-২০১০ সাল জাতীয় সম্মেলন , জাতীয় সমন্বয় সভা ঢাকা ও আঞ্চলিক সমন্বয় সভা ময়মনসিংহ, এ অংশগ্রহণ করে। বর্তমানে সে ময়মনসিংহ আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ব্যবস’াপনা বিভাগের সম্মানের মেধাবী ছাত্র। তার নেতৃত্বে এলাকায় মাদক বিরোধী র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং স’ানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ইভ টিজিং প্রতিরোধক সেল গঠন করা হয়। এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে মাদকমুক্ত যুব সমাজ গড়ে উঠবে । জাতি হবে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত, উন্নয়নের দ্বার হবে উন্মোচিত। এ কথা নির্দ্ধিধায় বলা যায়। তার কর্ম সাফল্য লাভ করুক।
লেখক: জয়নাল আবেদীন মানিক,
শিক্ষক ,কটিয়াদী আদর্শ বিদ্যানিকতেন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী’র শিমুলকান্দিতে আশার আলো ছড়াচ্ছেন- হাজেরা

লেখক: মোজাম্মেল হক, ইয়ূথ লিডার ,কটিয়াদী,কিশোরগঞ্জ

হাজেরা খাতুন। আশার আলোয় আলোকিত এক যুবতীর নাম। কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার বিশ্ববিখ্যাত অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের স্মৃতি বিজড়িত মসূয়া ইউনিয়নের শিমূলকান্দি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করে। বাবা একজন কৃষক। মা একজন গৃহিনী। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। অন্যান্য ভাই-বোনদের মধ্যে সে ছিল অন্যরকম। তার মনের মধ্যে সব সময় উপলব্ধি ছিল কখন সে তার নিজের এলাকার মানুষকে শিক্ষার দিকে ধাবিত করতে পারবে। ছোটবেলা থেকেই হাজেরার ইচ্ছা ছিল সমাজকর্মী হওয়া, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। কিন’ তার স্বপ্নে বাঁধা হয়ে দাঁড়াল বিবাহ নামক সামাজিক বন্ধন। হাজেরার একান- প্রচেষ্টায় ইয়ূথ বন্ধুদের ভালবাসা পেয়ে হাজেরা মুগ্ধ। সমাজসেবা তথা তার এলাকার ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য কিছু করা, যেন মৃত্যুর পরেও মানুষের মণি কোঠায় বেঁচে থাকবে হাজেরা-এই স্বপ্নকে লালন করে এগিয়ে যাচ্ছে সে। হাজেরার সেই আলোক ঝলকানিময় স্বপ্নযাত্রায় আশার আলোর প্রদীপ হয়ে এলো আত্মনির্ভরশীলতার আন্দোলনে নিবিষ্ট প্রতিষ্ঠান দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের এ্যাকটিভ সিটিজেনস কার্যক্রম। ২০০৬ সালের মার্চের ১৫ তারিখ অনুষ্ঠিত হয় বাবু জয়ন- কর ও লীনা’র পরিচালনায় প্রত্যাশা,প্রতিশ্রুতি ও কার্যক্রম শীর্ষক কর্মশালা এবং এর ১৫ দিন পর অনুষ্ঠিত হয় ২৮তম ইয়ূথ লিডার্স ট্রেনিং এবং কটিয়াদী প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয় ৬৬১ তম উজ্জীবক প্রশিক্ষণ। এ প্রশিক্ষণ শেষে হাজেরা উপলব্ধি করেন যে,সমাজ,দেশ ও জাতির জন্য কিছু করা দরকার। তাই সে নিজ গ্রামে একটি নৈশকালীন বিদ্যালয় গঠন করেন। যেখানে শিমূলকান্দি গ্রামের ৭০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষার আলোয় আলোকিত হচ্ছে। তার সার্বিক তত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয় ২৫৯তম এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার্স ট্রেনিং। সেখানে মসূয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পং মসূয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ও কটিয়াদী ডিগ্রী কলেজের ছাত্র/ছাত্রী অংশগ্রহণ করে। এদেরকে নিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি নামা সালুয়াদী গ্রামের জে,এস,সিতে ৪.০০ প্রাপ্ত মেধাবী ছাত্রী সুবর্ণা জাহান (রাত্রি)’র বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করা হয়। সে স’ানীয় উজ্জীবক ও ইয়ূথ বন্ধুদের সহযোগীতায় গঠন করে ইয়ূথ সমবায় সমিতি। সেখান থেকে দেওয়া হবে স’ানীয় ইয়ূথ সদস্যদের শিক্ষাবৃত্তি। তার অত্যন- আগ্রহ প্রচেষ্টায় গঠন করা হয় মসুয়া গ্রামের ইসহাক খাঁনের বাড়িতে সত্যজিৎ রায় স্মৃতি পাঠাগার। সেখানে অত্র এলাকার জ্ঞান পিপাসু ব্যক্তি ও ছাত্র/ছাত্রীগণ জ্ঞান অন্বেষণের সুযোগ পায়। বর্তমানে সে কটিয়াদী ডিগ্রী কলেজের স্নাতক ২য় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী। তার ইচ্ছা এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদেরকে নিয়ে কিছু করা। আর সে লক্ষ্যে সে এগিয়ে যাচ্ছে।

অনেকের মধ্যে একজন- কোহিনূর


লেখকঃ মোজাম্মেল হক,ইয়ূথ লিডার ,কটিয়াদী,কিশোরগঞ্জ

ঢাকা বিভাগের  ঐতিহ্যবাহী কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রাম। গ্রামের কর্মচঞ্চল একজন নারী কোহিনূর। যার সারাক্ষণই কাটে পরিবারের আয়-উন্নতি প্রচেষ্ট ও লেখাপড়ায়। নিজের জমিতে চারা রোপন করা, জমিতে নিড়ানী ও সেচ দেওয়ার কাজগুলো করতে হয় তাকেই। কারণ তার তার কোনো ভাই নেই। তিন বোনের মধ্যে সেই সবার বড়। কাজেই তার দায়িত্বও বড়। তাছাড়াও পরিবারের বাড়তি আয়ের জন্য অর্ডারে অন্যের বাড়ির সদস্যদের জন্য সেলাই মেশিনে পোশাক তৈরি করে। অন্য বোনদের লেখাপড়ার শিক্ষা উপযোগী পরিবেশ তৈরীতে সমান মনযোগী।
১৯৮৯ সালে জালালপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে তার জন্ম। পিতাঃ আঃ মজিদ, মাতা পিয়ারা বেগম। কোহিনুরের বাবার ইচ্ছা তাঁর মেয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। বর্তমানে সে কটিয়াদী ডিগ্রী কলেজের স্নাতক ২য় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী।
জীবন সংগ্রামে নিবেদিত পরিচ্ছন্ন জীবন যাপনের তাগিদে অজোপাড়া গাঁয়ের এক সংগ্রামী নারী নিত্যদিনের জীবন প্রবাহের এ চিত্র দেখে সে মনে করে যে, তার এলাকার ছাত্র/ছাত্রীদের সংগঠিত করে কিছু করা দরকার। এ লক্ষ্যে সে ২০০৬ সালে ২৮ তম ইয়ূথ লিডার্স ট্রেনিং, ডাঃ আঃ মান্নান মহিলা কলেজের ছাত্রীদের সমন্বয় করে থাকেন। পরবর্তীতে এ কাজকে আরো বেগবান করার জন্য সে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগীতায়     জালালপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের নিয়ে ‘‘এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার্স ট্রেনিং ’’ সম্পন্ন করান।
কোহিনূরের আগ্রহ ও উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে জালালপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের জনাব তোফাজ্জল হোসেনের বাড়িতে গড়ে তোলেন ‘‘ জ্ঞান বিতান ’’ নামক পাঠাগার। এখানে অত্র এলাকার জ্ঞান পিপাসুগণ জ্ঞান অন্বেষণ করেন প্রতিদিন। বর্তমানে জ্ঞান বিতান পাঠাগারটি পাঠক মন আকৃষ্ট করেছে। ছাত্র/ছাত্রীদের মেধা বিকাশে সে তার নিজ বাড়ীতে গড়ে তুলেছেন নৈশকালীন বিদ্যালয়। এখানে অত্র এলাকার ৪০ জন শিক্ষার্থী বিনামূল্যে বইসহ শিক্ষার আলো পাচ্ছেন। কোহিনূর প্রমাণ করেছেন নারীরা শুধু অসহায় ,অবলা ঘরণী নয় বরং সমাজ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে সম অংশীদার। নারীরাও সুযোগ ও যথাযথ পরিবেশ পেলে এ দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন এবং তা করে দেখাচ্ছেন কোহিনূর।

দূর্দান্ত- গতিতে এগিয়ে চলেছেন- হাকিকত

লেখকঃ মোজাম্মেল হক,ইয়ূথ লিডার ,কটিয়াদী,কিশোরগঞ্জ
নরসুন্ধা বিধৌত কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলা সদরের চড়িয়াকোনা গ্রামের আত্মপ্রত্যয়ী যুবকের নাম হাকিকত। বাবা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে কর্মরত। মা একজন গৃহিনী। সন-ানদের শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের আগ্রহ ছিল প্রবল। হাকিকতের সব ভাই বোনই শিক্ষার আলো পেয়েছে। ভাইদের মধ্যে মাছুম ফার্মেসী চালাচ্ছেন সেও একজন ইয়ূথ লিডার,বোন-দিপু গড়ে তুলেছেন দর্জি বিজ্ঞান স্কুল।
হাকিকতের শিক্ষা জীবন শুরু হয় চড়িয়াকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে ফেকামারা সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসাতে দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তাদের পারিবারিক কৃষি জমির পরিমান ৫০ বিঘা। পড়াশোনা এবং কৃষি কাজ পাশাপাশি চালাচ্ছিল হাকিকত। এক সময়ে স’ানীয় উজ্জীবক ও ইয়ূথ লিডার মোজাম্মেল হকের কাছে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের কার্যক্রম জানতে পারেন। মূলত তার আহবানেই ২০০৭ সালের মার্চে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের পরিচালনায় আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে ৬৯০ তম ব্যাচে উজ্জীবক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে কটিয়াদীতে ২৮ তম ব্যাচের ইয়ূথ লিডার্স ট্রেনিং সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণের আলোচনা শেষে বিশেষ করে ‘‘ সামাজিক দায়বদ্ধতা ’’ বিষয়টি তাকে উদ্দীপ্ত করে। এ আলোচনা তাকে নিজের পাশাপাশি সমাজ ও দেশকে নিয়ে ভাবতে শেখায়। ২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইয়ূথ সাংস্কৃতিক জোন নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। সংগঠনের মোট সদস্য সংখ্যা ৪২ জন। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ওয়ায়দুল্লাহ আকন্দ ভূবন। সে তার এলাকার যুব সমাজের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গঠন করেন ইভটিজিং প্রতিরোধ কার্যক্রম।
উজ্জ্বীবক ও স’ানীয় এ্যাকটিভ সিটিজেনদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স’ানীয় ছাত্র/ছাত্রীদের সংগঠিত করে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত চড়িয়াকোনা গ্রাম তথা কটিয়াদী পৌরসভা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন। সে স্বপ্ন পূরণে প্রতিনিয়ত অগ্রসর হচ্ছেন হাকিকত।

স্বপ্ন গাঁথা অভিযানের গল্প
আমি তখন অষ্টম শ্রেণীর  ছাত্র । প্রায় প্রত্যেক ক্লাসেই শ্রেণী ক্যাপ্টেন হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছি । এজন্য ছাত্র-ছাত্রী,শিক্ষক ও অন্যান্য সকলের সাথেই ভাল সমপর্ক রেখে চলতে হতো । তখন থেকেই আমার ভিতরে একটা চিন-া কাজ করত কিভাবে সমাজে দৃষ্টান- স’াপন করা যায়। তখন শীতের শেষের দিকে। প্রকৃতিতে বসনে-র আগমনের হাওয়া বইছে। ঠিক এমনই একটি রৌদ্রদীপ্ত দিনে আমাদের স্কুলে সদর জেলা থেকে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের দুজন ভাই এলেন। স্যারের কাছে অনুমতি নিয়ে একটি কর্মশালা করলেন। এই কর্মশালার মধ্য দিয়েই আমরা  ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার সমপর্কে জানতে পারি। এই কর্মশালার মাধ্যমেই আমার মানসিকতার পরিবর্তন হয়। আমি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বোধ অনুধাবন করি। আমরা একটি ইউনিটের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ হই। পরবর্তীতে ইয়ূথ লিডার্স ট্রেনিং গ্রহণের পর নিজের এলাকাতে কাজ শুরু করি। আমরা আমাদের স্কুলের টিমকে শক্তিশালী করে আমাদের পাশে মহিলা কলেজ ইউনিট,হরিণাকুন্ডু সদর ইউনিট গঠন,বৃক্ষরোপণ,স্যানিটেশন ও পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতার উপর কাজ শুরু করি।আমাদের এলাকাতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করি।এ সকল কাজ করতে গিয়ে আমাদের অনেক প্র তিবন্ধকের মধ্যে পড়তে হয়েছে।সমাজের এক  শ্রেণীর মানুষ এই কাজগুলো ভাল চোখে দেখত না।তারা আমাদের নামে নানা কথা বলতে লাগল। আমাদের গ্রামের মেম্বার বল্লেন,আমরা ছেলে-মেয়ে একসাথে মিশে সমাজ নষ্ট করছি,ভাল কাজের নামে ছেলে-মেয়ে একসাথে আড্ডা দেয়ার কৌশল এঁটেছি। বাল্যবিবাহের উপর কথা বলাতে আমদের এই সমস্যা আরো বেড়ে গেল। আমরা তখন এলাকাতে ইয়ূথ ভলান্টিয়ার্স ট্রেনিং আয়োজন করলাম। মেয়ের সংখ্যা ছিল খুবই নগন্য।ট্রেনিং এ সমাজের কিছু গন্যমান্য ব্যক্তিদের সমপৃক্ত করলাম। তাদেরকে আমাদের কার্যক্রম দেখালাম। তারা আমাদের কাজ ও সার্বিক অবস’া দেখে মুগ্ধ হলেন।আমাদের অনুপ্রাণিত করলেন ও সহযোগিতার
আশ্বাস দিলেন। আমাদের শ্রদ্ধাভাজন এক স্যার ছিলেন। তাঁর কথায় ছাত্র-ছাত্রীরা খুবই প্রভাবিত হতো। আমি তখন ক্লাসে অনুপসি’ত ছিলাম। স্যার আমার খোঁজনেয়ার পর জানলেন আমি সংগঠনের কাজে বাইরে আছি।স্যার তখন সবাইকে  বোঝালেন,“যারা ক্লাস বাদ দিয়ে এই সব কাজ করে বেড়াচ্ছে তারা কোন স্বার্থের পিছনে আছে। তোমাদের এই সকল কাজ করে কোনো লাভ আছে? তোমরা কি কোনো বেতন পাও? কিন’ তোমাদের দেখিয়ে এই সংগঠনের নেতারা হাজার হাজার টাকা পকেটে ভরে। তোমাদের বিভিন্ন কর্মকান্ডের ছবি তুলে তারা বিদেশে দেখিয়ে বিভিন্ন এনজিওর মত টাকা পায়।তোমরা কি সেই টাকার ভাগ পাও? পাওনা। তাহলে কেন খামখা এই কাজ কর? তোমাদের মত কোমলমতি ছাত্রদের দেখিয়ে ফায়দা লুটছে নেতারা,আর তোমরা পরিশ্রম করে মরো।এই সব ভন্ডামো ছাড়ো,লেখাপড়া করো।এখন শুধু পড়ার সময় অন্য কিছু নয়।”সেইদিন স্যারের কথার কোনো উত্তর দিতে পারিনি। কিন’ স্যারকে উত্তর দিয়েছিলাম তার কিছু দিন পরে। ঝিনাইদহতে একটা গণিত উৎসব হয়েছিল। আমি জানতাম ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের কথা বললে স্যার আসবে না। তাই গণিত অলিমিপয়াড কমিটি আয়োজন করেছে বলে স্যারকে সমপৃক্ত করলাম এবং এর রেজাল্ট কিছু দিন পরেই পেলাম।এই স্যারই তার এক গণিত ক্লাসে বললেন,ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার ভাল সংগঠন। এরা অনেক ভাল ভাল কাজ করে। এখানে যারা আছে কেউ ধুমপান করে না,ইভ টিজিং করে না। আর সবচেয়ে বড় কথা এই সংগঠনের মাধ্যমে মঞ্চে কথা বলার দক্ষতা অর্জন করা যায়। স্যার এক দিন আমাকে ডেকে বল্লেন,তোমাদের কোনো অনুষ্ঠান হলে আমাকে বলো আমি আছি।
হ াটি-হাটি পা-পা করে আজ আমি হরিণাকুন্ডু প্রিয়নাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ইউনিট,ঝিনাইদহ সদর ইউনিট হয়ে ঢাকা সিটি ইউনিটে কাজ করছি। এই সংগঠন করতে এসে আমার যেমনি কষ্টের স্মৃতি আছে আবার মধুর স্মৃতিও আছে।মধুর স্মৃতি বলতে একটা ঘটনা বলি-কিছুদিন আগে আমি ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গেলাম। একপর্যায়ে আমার ফেলে আসা হাইস্কুলে গেলাম। স্যারদের সাথে কথা বলার একপর্যায়ে এক স্যার অফিসের দোতলা ছাদের উপর ডালপালা মেলে থাকা একটি গাছ দেখিয়ে বললেন,এটি তোমাদের লাগানো। তখন ছাদের উপরের গাছের শাখার মত আমার হৃদয়েও যেন অন্য রকম একটা হাওয়া লাগল। আজ আমরা আছি কাল থাকব না,তবু ঐ গাছ যেন আমাদের হয়ে কথা
বলবে আগামী প্রজন্মকে। আমি আগে কখনো সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতাম না,এখন কিছুটা হলেও পারি। আগে খারাপ ছেলেদের সাথে মিশতাম এখন মিশি না কারণ এই সংগঠন সেই সময় দেয় না।আগে আমার পরিবারেরই সদস্য ধুমপান করত। কিন’ আমি যখন ধুমপান বিরোধী সেমিনারের আয়োজন করতাম,বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে তামাক চাষীদের বোঝাতাম। ধুমপান বিরোধী মানববন্ধন করতাম এবং পরিবারে মাঝে মাঝে এগুলো বলতাম। তখন দেখলাম আমার পরিবার থেকেও তামাক চাষ বিদায় নিয়েছে। আমি এই সংগঠন করার মাধ্যমে আমার পরিবারকেই যে ধুমপানমুক্ত করেছি তা নয় আমার এলাকাতে শিশুশ্রম বন্ধ করেছি। সেই সাথে শিক্ষার হারও বৃদ্ধি পেয়েছ। আজ এ লেখার শেষে সবার কাছে আহবান রাখতে চাই,আসুন আমরা ধুমপান করা থেকে বিরত থাকি। ধুমপানমুক্ত পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্র উপহার দিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য সত্যিই বাসযোগ্য একটি সমাজ গড়ে তুলি। যে সমাজে থাকবে না নারী নির্যাতন,শিশুশ্রম,অশিক্ষা,পুষ্টিহীনতা ও দারিদ্রের মত নিষ্ঠুর অভিশাপ।
মোঃ মিজানুর রহমান, ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার ঢাকা সিটি ইউনিট

মেন্টরের অনুভূতি

শাখারিয়া, টাংগাঈল জেলাধীন গোপালপুর উপজেলা হেমনগর ইউনিয়নের  একটি গ্রাম। ছায়া-সুশীতল অথচ  নদী ভাঙ্গন বন্যা কবলিত একটি গ্রাম,উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কি.মি পশ্চিমে যমুনা প্রবাহ চুম্বিত জনপদ। যুগে যুগে বরেণ্য ব্যক্তি বর্গের পদধুলিতে ধন্য হলেও কোথায় যেন অন্ধকার!একটা কী নেই কী নেই ভাব। যার যা করার কথা সে তা করছে না। মোট জনগোষ্ঠীর একটা অংশ এখনও  নিরক্ষতার অভিশাপে নিমগ্ন। সংগত কারনে অভাব-অনটন তাদের নিত্য সাথী। নিরাপদ পানি,স্যানিটেশন এর অভাবে এখনও এরা জর্জরিত। অপুষ্ট মা ও শিশু সমাজের বোঝা হয়ে আছে। ছাত্র সমাজ আজ বিপথগামী।সিলেবাস নির্ভর পড়ালেখার বৃত্ত তাদের বেঁধেছে আষ্টে পৃষ্টে। এরা বেড়ে উঠছে বিরুৎ জাতীয় উদ্ভিদের মত। হতে পারছে না অবলম্বনহীন বৃক্ষের মত। মহীরুহের মত। তাই এই গ্রামটির সমস্যাসমূহ কাটিয়ে উঠে একটি সুস’ জাতি গঠনের লক্ষ্যে,সুশৃংখল সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এখানকাার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মত বিনিময়ের মাধ্যমে নিজের স্বপ্নটাকে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে একটি পরিবর্তনের পরিকল্পনা করি। কারণ অতীত ইতিহাস থেকে আমরা পাই বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন গুলো ছাত্র-ছাত্রীদের অংশ গ্রহণের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে এবং এর সবগুলোই ছিল স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে। তাই বিভিন্ন দিবস পালনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণীতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সাথে নিবিড়ভাবে মত বিনিময় করি।অতঃপর দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এর বিভিন্ন কার্যক্রম দেখে,উজ্জীবক বার্তা,আমরা করব জয় ইত্যাদি প্রকাশনার মাধ্যমে আরও উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ এর জেলা সমন্বয়কারীর সহযোগিতায় বিভিন্ন শ্রেণীতে অধ্যায়রত শিক্ষার্থীদের একটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করি। সেখানে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ ও বৃটিশ কাউন্সিল সহযোগিতা করেছে। প্রশিক্ষণলব্ধ একটি সুষম সুসংগঠিত দলের মাধ্যমে আমি গ্রামটাকে কয়েকটি ব্লকে বিভক্ত করে ওদের মধ্যে দায়িত্ব বন্টন করি। অতঃপর এরা পুরো গ্রামটিতে জরিপ করে এমডিজি এর ৪ টি লক্ষ্য মাত্রাকে লক্ষ করে। এরপর তারা বিভিন্ন ব্লকে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে দারিদ্রতা,মাতৃস্বাস’্য,স্যানিটেশন,নিরক্ষরতা ইত্যাদি বিষয়ে মত বিনিময় করার মাধ্যমে সকলকে উদ্বুদ্ধ করে।জরিপকৃত তথ্য নিয়ে স’ানীয় গন্যমান্যব্যক্তিবর্গের সাথেও মত বিনিময় করে। স’ানীয় ইউ পি চেয়ারম্যান,মেম্বর সহ অনেকে শিক্ষার্থীদের এরুপ কাজকে স্বাগত জানান। ইতোমধ্যে এ্যাকটিভ সিটিজেন্স লিডারশিপ প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা একটি গণশিক্ষা স্কুল শেষ করেছে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে। বিভিন্ন পাড়ায় বা গ্রামে বাল্যবিবাহের দুষ্টচক্র থেকে মুক্তি দিয়েছে ৪ টি মেয়েকে । বৃক্ষরোপণ করেছে বসতবাড়িতে,রাস-ার দুপাশে। নিজেদের লেখাপড়ার
অবসরে এ সকল সামাজিক কাজ করার পাশাপাশি নিজেরা হচ্ছে আত্ননির্ভরশীল। সমপৃক্ত করছে অন্যান্যদের।তবুও একটা অভাব বোধ থেকে যায়। এরা নিজের জন্য কি করছে? প্রত্যন- অঞ্চলে বাস করে শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতার বিশ্বে কিভাবে নিজেকে উপস’াপ্ন করবে? সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ সাধন এর উপায় কী? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে স্বপ্ন দেখি একটি পাঠাগারের। আমার স্বপ্নটা অন্যদের  মাঝে আবার ছড়িয়ে দেই। সুধীজনের পরামর্শ নেই। শিক্ষার্থীদের সাথে মত বিনিময় করি। অতঃপর স্বপ্ন আর স্বপ্ন নয়। এবার বাস-বতার সুচনা। শাখারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহোদয়ের আন-রিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের একটা অব্যবহৃত কক্ষকে পাঠাগার হিসাবে ব্যবহারের
অনুমতি পাই। অতপর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে বিষয়টি অবহিত করি। তাঁরা সকলেই বিষয়টির প্রশংসা করেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহোদয় পাঠাগারটি পরিদর্শন করেন। পাঠাগারটিতে এখন মোট বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৩০০টি। আত্মীয়-স্বজন,বন্ধু-বান্ধব,আগ্রহী ব্যক্তিবর্গ ও পাঠাগারের সদস্যদের অনুদানে বই সংগ্রহ করা হয়েছে। পাঠাগারে দৈনিক একটি জাতীয় পত্রিকা, একটি পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকা রাখা হয়। এছাড়া আছে কারেন্ট এ্যাফেয়ার্স ও কারেন্ট ওয়ার্ল্ড নিউজ। অব্যবহৃত কক্ষের দেয়াল এখন সুসজ্জিত। ঝূলানো আছে মাসিক ও বার্ষিক পরিকল্পনা।প্রতিদিন বিকেলে সকলের জন্য উম্মুক্ত থাকে পাঠাগারটি। প্রতি শুক্রবারে বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন পাঠচক্র,সাধারণ জ্ঞান চর্চা,বিতর্ক চর্চা,সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করা হয়। এছাড়া বিনোদনমূলক কাজ ও করা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণে পাঠাগার প্রাঙ্গনটি এখন মুখরিত। এখন আর কেউ অলস সময় কাটায়না। এসকল  কার্যক্রমের স্বীকৃতি স্বরুপ ২৭ ডিসেম্বর ২০১০ দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ কাউন্সিল এর কর্মকর্তা বৃন্দ পাঠাগারটি পরিদর্শন করেন ও একটি ভিডিও চিত্র ধারণ করেন। সেই থেকে পাঠাগারটি একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন দিবসে এখান থেকে দেয়ালিকা প্রকাশিত হয়। স্বপ্নের অংকুরিত বীজ থেকে বাস-বতার মহীরুহে পরিণত করতে বাধা-বিঘ্ন থাকবেই। তাই নিন্দুকেরা বিভিন্ন সময় নিরুৎসাহিত করলেও আমরা লক্ষ্যচ্যুত হইনি। শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারলেই কিছুটা ভালো লাগে। যাদের  অকৃত্রিম ভালোবাসায় শাখারিয়া গ্রামটি হবে আলোকিত গ্রামতাদের সকলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। একটি সুস’ সমাজ,সুস’ জাতি তৈরিতে তৃণমূলের মানুষগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে সর্বপ্রথম।

আনজু আনোয়ারা ময়না
নারী নেত্রী,উজ্জীবক,শাখারিয়া,গোপালপুর,টাঙ্গাইল

সাফল্য ও অনুপ্রেরণার এক অনন্য নাম প্রতিভা ইউনিট
এ.কে. মানিক

ময়মনসিংহ জেলার সদর থানার রাঘবপুর গ্রামের একটি অতি পরিচিত সংগঠনের নাম ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার- প্রতিভা ইউনিট। সমাজের সকল মানুষের কাছে একটা আস’াভাজন,ব্যতিক্রমধর্মী সংগঠনের নাম প্রতিভা ইউনিট। যার সদস্যরা নিজেদের বিকাশের পাশাপাশি সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। আজ তাই এটি হয়ে উঠেছে অনেকের কাছে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান-।
শুরুর কথাঃ
আমি ২০০৩ সাল থেকে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ এর সাথে যুক্ত। প্রথমে কাজ শুরু হয় স্কুল ইউনিট থেকে। এরপর বড় পরিসরে কাছ শুরু হয় দূরবর্তী গৌরীপুর ইউনিট এর সাথে। তাই প্রথম থেকে নিজ এলাকায় এ কাজ শুরু করার চিন-া মাথায় ঘুরতে থাকে। এ চিন-া থেকে ২০০৬ সালে একদিন বিকাল বেলা স’ানীয় ১৫-১৬ জন সমমনা ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে বসে আমার স্বপ্ন আর প্রতাশ্যার কথা তুলে ধরি। ফলে তাদের মধ্যেও একটি সুন্দর গ্রাম গড়ে তোলার প্রত্যাশা তৈরি হয়। সিদ্ধান- হয় একটি যৌথ প্রয়াস গড়ে তোলার, নামকরণ করা হয় ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার প্রতিভা ইউনিট। এরপর থেকে আর থেমে থাকতে হয় নি। প্রতিনিয়ত নানরকম সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে বিকশিত হচ্ছে এ ইউনিট। বর্তমানে প্রায় ৭০ জন সদস্য এ ইউনিটের সাথে কাজ করছে।
প্রতিভা গণশিক্ষা স্কুলঃ
সদস্যরা কাজ শুরু করতে গিয়ে প্রথম যে বিষয়টি খেয়াল করলো এলাকার অধিকাংশ মানুষ নিরক্ষর। তাই তারা স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে এ কাজটি করার চিন-া করল। একই সময় গণশিক্ষা সমন্বয় কমিটির সাথে যুক্ত হয়ে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ গণশিক্ষা আন্দোলনের কাজ শুরু করার সিদ্ধান-  নিয়েছিল। ফলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যোগাযোগের মাধ্যমে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ  এর উদ্যোগে বাংলাদেশের প্রথম গণশিক্ষা কেন্দ্র স’াপিত হয় “প্রতিভা গণশিক্ষা ” স্কুল নামে। যেহেতু এটি আমাদের সংগঠনের প্রথম ধাপ ছিল তাই  এ বিষয়ে পদ্ধতিগতভাবে আমাদের খুব বেশি জানা-শোনা ছিল না। তাই আমরা কঠোর পরিশ্রম করার ফলেও ১০০% সফল হতে পারি নি। যা হোক গণশিক্ষা বিষয়ে আমাদের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে অন্যরাও একটি উপযোগী পদ্ধতি ও বই নির্বাচন করেছে। পরবর্তী সময় আমাদের ইউনিটের অধীন আরো ৪ টি গণশিক্ষা ব্যাচের ব্যবস’ার মাধ্যমে প্রায় ১০০ জন মানুষকে স্বাক্ষর সম্পন্ন করে তুলেছি। শুধু তাই নয় আমাদের কার্যক্রম দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আমার ইউনিয়নে  আরও ১০টি কেন্দ্র চালু হয়েছে।
প্রতিভা গণগ্রন্থাগারঃ
আমাদের এলাকায় কোনো রকম গ্রন’াগারের সুযোগ ছিল না। ফলে বই পাওয়ার সুযোগ কম থাকার কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠেনি। ফলে এদের মেধার বিকাশও বাধাগ্রস- হয়। তাই আমরা উদ্যোগী হলাম একটি গ্রন’াগার স’াপনের। ফলে প্রত্যেক সদস্যরা নিজেরা দুইটি করে বই দিয়ে এর যাত্রা শুরু করেন। স’ানীয় একটি ক্লাব ঘর আমরা অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করতে শুরু করলাম। আমাদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সাহায্য এর হাত বাড়িয়ে দিল এলাকাবাসী। তাদের আর্থিক সহায়তায় আমরা তৈরি করলাম একটি বড় আলমারি, ১০টি প্লাস্টিক চেয়ার ও একটি টেবিল। বর্তমানে আমাদের লাইব্রেরীতে প্রায় ৩০০ বই রয়েছে। এছাড়া গণশিক্ষা কেন্দ্র সফল করার স্বীকৃতি হিসেবে আমাদের কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের সুপারিশ আমরা পেতে শুরু করি দৈনিক সংবাদ পত্রিকার সৌজন্য কপি। ফলে এখন এটি একটি গণশিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
প্রতিভা ইংলিশ ক্লাবঃ
ছাত্র-ছাত্রীদের ইংরেজিতে দক্ষ করে গড়ে তোলার প্রয়াসে আমরা যাত্রা শুরু করি প্রতিভা ইংলিশ ক্লাবের। এর মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে আমাদের ইংরেজি শিখার আসর বসে এবং মাঝে মাঝে চলে ইংরেজি বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। এর মধ্যে আরেকটা ধারণা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করি। প্রতিভা ইউনিটের মাধ্যমে আমরা গণিত উৎসবের আয়োজন করেছিলাম। সেখান থেকে চিন-া শুরু করলাম। তাহলে ইংলিশ ফেস্টিভাল কেন করতে পারবো না। এর ফলে ২০০৯ সালে প্রতিভা ইউনিটের আয়োজনে সারা দেশের প্রথম ইংলিশ ফ্যাস্টিভাল আয়োজন করি। যেখানে প্রায় ৫০০ ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে। ছাত্র-ছাত্রীদের ইংরেজী ভীতি দূর করার সুযোগ তৈরী করে দেয়।
কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রঃ
তথ্যায়নের এই যুগে আমরা সদস্যদের কম্পিউটার শেখার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকি। কিন’ গ্রামে কম্পিউটারের সুযোগ না থাকার কারণে কিংবা শহরের এত টাকা খরচ করে কম্পিউটার শেখা সম্ভব হয়ে উঠছিল না। এই প্রেক্ষিতে গত নভেম্বর ২০১০ এ ইউনিটের সদস্য আশরাফুল নিজে একটি কম্পিউটার কেনার উদ্যোগ নেয় । ইউনিটের আরো ১০ জন সদস্য তাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। ফলে আশরাফুলের এ কম্পিউটার কেনার মাধ্যমে শুরু হয় কম্পিউটারে হাতে খড়ি। এই কাজ এখন ইউনিটের প্রায় ৩০ জন সদস্য করতে পারে। আগামী দিনে আমরা স্বপ্ন দেখছি এলাকায়  ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে  তথ্যের সুযোগ নিশ্চিত করার ।
সদস্যদের অর্জনঃ
ইউনিটের সকল সদস্য সমাজ সেবার সাখে সাথে নিজেদের প্রতিনিয়ত বিকাশ করে যাচ্ছে। এই বিকাশের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে স্কটল্যান্ড সফর এ ১৫ সদস্য দলে আমি ও রেজা হাসান ত্বকি অংশগ্রহণের সুযোগ পাই। যেটা স’ানীয় এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ইউনিটের আরেক সদস্য আনোয়ার হোসেন বাবুল হ্যাচারী ব্যবসার সাথে যুক্ত। তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ২০০৯ সালে সে জাতীয় যুব পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। যা প্রধানমন্ত্রী তার হাতে তুলে দিয়েছেন। ইউনিট সদস্য রাশিদ আহম্মেদের সম্পাদনায় স’ানীয় একটি স্কুল থেকে “পরিচয়” নামে একটি সাহিত্য ম্যাগাজিন দুই মাস অন-র অন-র বের হচ্ছে। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা মেধা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে। ইউনিটের আরেক সদস্য মাসুম নাট্য চর্চার সাথে যুক্ত। যে স’ানীয় একটি নাট্য চর্চা সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে মঞ্চে এবং টেলিভিশনে অভিনয় করে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। এছাড়া সকল সদস্য বিভিন্ন দিক থেকে বিকশিত হচ্ছে। সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্তরা হচ্ছে  খোকন, পারভেজ, মঞ্জুরুল , খায়রুল , বাবুল , কাজল , আনোয়ার, আনোয়ার-২, আনোয়ারুল, এরশাদ, মতিউর , রুমান, রুবেল ।

অন্যান্য কার্যক্রমঃ
ইউনিটের সদস্যরা নিজেদের দক্ষতাবৃদ্ধি ও সমাজের সেবায় প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে । তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পাঠচক্র, কুইজ, রচনা প্রতিযোগিতা, গণিত অলিম্পিয়াড়, গণিত টুর্ণামেন্ট প্রভৃতি কার্যক্রম নিয়মিত চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া ইস্যুভিত্তিক বিভিন্ন ক্যাম্পেইন, স্বাস’্য বার্তা, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন দিবস পালন, টিকা দান কর্মসূচী পালন ইত্যাদি। সদস্যদের আয়োজনে অন্যতম একটি ব্যতিক্রমি প্রোগ্রাম হচ্ছে ঈদ-আনন্দ আড্ডা। প্রতি বছর রমজানের ঈদের দিন বিকেল বেলায় এ অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। বর্তমানে এটি ৪ বছর অতিক্রম করে ৫ম বছরে পদার্পণ করেছে। এই অনুষ্ঠান পুরো এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সংগঠনের সদস্যদের কাজ দেখতে ও তাদের অনুপ্রাণিত করতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জাতীয় ও আন-র্জাতিক ব্যক্তিবর্গের আগমন ঘটেছে। এর মধ্যে অন্যতম বিশিষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আনিসুর রহমান। তিনি এই ইউনিটের গণশিক্ষা কার্যক্রম দেখে খুবই প্রশংসা করেছেন। এছাড়া আগমন ঘটেছে বিট্রিশ কাউন্সিল ইংল্যান্ড অফিসের এ্যালা। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. বদিউল আলম মজুমদার, সেনেগালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাডেলিন , গ্লোবাল অফিসের কর্মকর্তা সুপ্রিয়া, ইউএনডিপি কর্মকর্তা নাইমুজ্জামান মুক্তা , মাজেদুল ইসলাম, তহুরুল হাসান টুটুল, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের নাজমুল হকসহ বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ।

এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ুথ লির্ডাসদের নিয়ে কিছু কথা

শুরুতেই ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ এর  এ্যাকটিভ সিটিজেন ইয়ুথ লিডার্স পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই আন-রিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে এই এলাকার শাকচর কমিউনিটি চর রমনী ইউনিয়নের সামাজিক সমস্যাগুলো বেশ উপলব্ধি করার মতো। এই অঞ্চলের একটি অবহেলিত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন কমিউনিটি শাকচর। এই কমিউনিটি প্রচুর সম্পদের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সামাজিক সমস্যাগুলো প্রকট। আর এই লক্ষনীয় সমস্যাগুলোর মধ্যে নিরক্ষরতা, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা,  স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার, আর্সেনিক দূরীকরন,স্বাস’্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম,ইভটিজিংসহ নানা সমস্যা বিদ্ধমান। এই সব সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব বেশ লক্ষণীয়। এসব সমস্যা উপলব্ধি থাকা সত্ত্বেও সমাধানের কোনো উপায় খুজে পাইনি তখনও; কিন’ যখন “ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গাঁর বাংলাদেশ” এই পরিবারের সদস্য হলাম এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে  বুঝতে পারলাম সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজন ছাত্রদের সম্মন্বিত উদ্যোগ, ঠিক তখনি সুযোগ হলো এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার্স প্রশিক্ষণের। কমিউনিটিতে ৪টি এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লির্ডাস ট্রেনিং এর সুযোগ পেলাম। যার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করি। আর এই সোশ্যাল এ্যাকশন প্ল্যান এর মাধ্যমে চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সম্মিলিত ভাবে কার্যক্রম শুরু করি। তারই ধারাবাহিকতায় গণশিক্ষা কর্মসূচী সফল করতে সক্ষম হই। শাকচরের ৬নং ওয়ার্ড বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করি এবং শিক্ষার প্রতি মনোনিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি গণউদ্যোগ পাঠাগার ও বিতর্ক ক্লাব, ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, আই.টি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করতে সফল হই। এই সাথে আত্ম সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে এ্যাকটিভ সিটিজেন ইয়ূথ লিডার্সরা। অতীত অবস’া পেরিয়ে শাকচর কমিউনিটি চর রমনী এখন স্বপ্নের গ্রামে রূপান-রিত হতে শুরু করছে। “ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গাঁর বাংলাদেশ” এ্যাকটিভ সিটিজেনদের এই কার্যক্রম সোনার বাংলাদেশ গড়ার সারা দেশে বিস-ার লাভ করুক এই প্রত্যাশায় শেষ করছি।
মোহাম্মদ হানিফ, এ্যাকটিভ সিটিজেন ফ্যাসিলেটটর, ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ

ইয়থের আদর্শ ও অনুপ্রেরনার একটি নাম সোহাগ

সূর্য্য আমি
ঐ দিগনে- হারাবো
অস-মিত হবো
তবু ধরণীর তরে চিহ্ন রেখে যাবো
আমি তখন হাই স্কুলের ছাত্র। বিটিভিতে আকবর দ্যা গ্রেট নামে একটি সিরিয়াল প্রচার করা হতো। এর শুরুতে একটি রোমাঞ্চকর ভাবধারার মধ্যে ভেসে আসত এই  লোমহর্ষক বাণীটি। আমি তখন থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছি এবং ভেবেছি আমাকে এই দেশ ও মাতৃকার জন্য কিছূ একটা করতে হবে যেন আমার জীবনের তেজদ্দীপ্ত সূর্য্যটা নিসে-জ হয়ে অস- যাওয়ার পরও পৃথিবীর বুকে কিছু স্মৃতি-চিহ্ন রেখে যায়। চিন-ার মাঝেই কিছুটা সময় অতিক্রান- হলো। হঠাৎ আমি একদিন ইয়ূথ ভলান্টিয়ার নামক একটি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করলাম আর এর মধ্য দিয়ে যেন আমার নিসপ্রাণ স্বপ্ন প্রাণ ফিরে পেল। আমার স্বপ্নই যেন আমাকে পথ দেখাতে লাগলো। আমার জন্ম নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানার চাচকৈড় নামক একটি ছোট্ট গ্রামে। আমার অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে এখানেই একটি পাঠাগার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করলাম এবং একসময় তা বাস-বায়িত হলো। কিন’ পাঠাগারের ভাড়া ও অন্যান্য ব্যয় বহন করা আমাদেও জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়ালো। কিছুদিন পরেই পাঠাগারটি বন্ধ হয়ে গেল। পাঠাগারের ৬১১ টি বই আমার বাড়িতে রয়ে গেল। এর মধ্যেই উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য টাঙ্গাইলে পাড়ি জমাতে হলো। আসে- আসে- ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারে আমার অবস’ান শক্ত হতে লাগলো। ইয়ূথ লিডার, এক্টিভিস্ট,ফ্যাসিলিটেটর প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুবাদে আমি এ্যাকটিভ সিটিজেনস ইয়ূথ লিডার্স প্রশিক্ষণে সঞায়ক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেলাম। প্রশিক্ষণ শেষে সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে আমার নিজ কমিউনিটি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া গ্রামে মেধাবিকাশ কেন্দ্র নামে একটি পাঠাগার স’াপনের উদ্যোগ গ্রহণ করি। পাঠাগারটি স’াপনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ছাত্র-ছাত্রীদের মেধার সর্বোচ্চ বিকাশের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সৃজনশীল করে গড়ে তোলা ও নিজেদের দক্ষতা বিকাশের জন্য পাঠচক্র,কুইজ,বিতর্ক,মুক্ত আলোচনা,রাস-া সংস্কার,কুসংস্কার দূরীকরণে প্রচারাভিযান ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। স’ানীয় মেন্টর আঞ্জু আনোয়ারা ময়না আপার আন-রিক সহযোগিতায় তাঁর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত কক্ষ সংস্কারের মাধ্যমে এবং স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সদস্য পদের অগ্রাধিকারের শর্তে প্রতিষ্ঠা পেল পাঠাগারটি।“একটি বই দান করুন,অনেক বই পড়ার সুযোগ গ্রহণ করুন” এই শ্লোগানের মাধ্যমে। এ্যাকটিভ সিটিজেনরা প্রত্যেক বাড়ি,শিক্ষক,অভিভাবকদে কাছ থেকে সংগ্রহ করলো  প্রায় ৩৫০টি বই। পাঠাগারের প্রত্যেক সদস্যের মাসিক চাঁদা দিয়ে পত্রিকা ও নতুন বই কেনা হয়। আমি প্রতিনিয়ত ইয়ূথ সদস্যদের অনুপ্রাণিত,সংগঠিত ও সহযোগিতা করছি যেন তারা পাঠাগারটির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ, যোগ্য ও আত্মপ্রত্যয়ী হিসেবে গড়ে উঠে কর্মযুদ্ধে সফল হয় এবং এর মাধ্যমে তারা শাখারিয়া গ্রামের প্রত্যেক প্রজন্মের আদর্শ হিসেবে বেঁচে থাকে আর আমার স্মৃতিচিহ্নটুকু থেকে যাবে শাখারিয়ার মেধাবিকাশ কেন্দ্র নামক পাঠাগারের প্রত্যেকটি বইয়ের পাতায় পাতায়।
সোহাগ, ইয়ূথ এক্টিভিস্ট,টাঙ্গাইল

আত্মপ্রত্যয়ী যুবক শাজাহান

জীবন মানে কি? এ নিয়ে অনেকের মনে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনার উদ্রেক হয়। এ জীবনে আমার দ্বারা কি হবে.আমি কি করতে পারব এরকম হাজারো প্রশ্ন নিয়ে হতাশায় কাটতো আমার দিনগুলো। একদিন জনি নামে এক ভাই আমাকে উজ্জীবক প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য বলেন। আমি প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় দিন থেকে অংশগ্রহণ করি। ঐদিন ছিল আত্মশক্তির একটি সেশন। প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর মনে হলো এজীবনে হতাশার কিছু নেই। আমার আত্মশক্তি আছে আমার দ্বারাও অনেক কিছু করা সম্ভব। প্রশিক্ষণের ব্যানারের হেডলাইনের লেখাটি আমাকে আমাকে আলোর পথ দেখাতে লাগলো। লাইনটি ছিল “আত্মশক্তিতে বলীয়ান ব্যক্তি কখনও দরিদ্র থাকতে পারে না”। এরপর থেকে আমার আত্মশক্তি বেড়ে গেল এবং আমি নেত্রকোনায় ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের কার্যক্রম শুরু করলাম।  ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের দ্বাদশ সম্মেলনে আমি অংশগ্রহণ করি। সারা দেশের প্রায় হাজার খানেক ছেলে-মেয়ের সাথে আমার সাক্ষাত হয়। সম্মেলন শেষে নেত্রকোনা সরকারি কলেজ ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট এ্যান্ড  টেকনিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদেও সমন্বয়ে ৩৪তম ইয়ূথ লিডার্স ট্রেনিংয়ের আয়োজন ও অংশগ্রহণ করি। এরপর ৪৮,৭০ ও ৯০তম ইয়ূথ লিডার্স ট্রেনিংয়ের আঢোজক ও ট্রেনিং পরিচালনায় অংশগ্রহণ করি। তারপর থেকে নেত্রকোনায় প্রতি মাসে মাসিক মিটিং,বিভিন্ন দিবস পালন,গণিত উৎসব,পাঠচক্র,গণশিক্ষা,এ্যাকটিভ সিটিজেনসদের কার্যক্রম,স্যানিটেশন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা সহ আরও বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করি। আমার মনে হয় এর মাধ্যমে শুধু আমার নিজের পরিবর্তন হয়নি সাথে অনেক ছেলে-মেয়ে সহ অনেক অভিভাবকেরও আত্মশক্তির উন্নয়ন ঘটেছে। এভাবে আমি আমার ভবিষ্যত উজ্জল জীবনের আলোর সন্ধান পেলাম যার কারণে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এর কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকব।
লেখক মোঃ শাহজাহান কবির
ইয়ূথ এক্টিভিস্ট, নেত্রকোনা সদর

 

 

Advertisements