গণিত উৎসবের খবর

মধুপুর

9‘গণিত নিয়ে খেলা কর, বিশ্বটাকে জয় কর’ শ্লোগানকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের গণিত ভীতি দূর করার লক্ষ্যে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশ এর সহায়তায় টাঙ্গাইলের মধুপুর কলেজ ইউনিটের আয়োজনে গত ৮ এপ্রিল একটি গণিত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রাইমারী, জুনিয়র, সেকেন্ডোরী ও হায়ার সেকেন্ডারী ক্যাটাগরীতে ৮৬২ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন। ৪টি ক্যাটাগরীতে ২৪ জন শিক্ষার্থী ও ৪টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রাইমারী গ্রুপে পঞ্চম শ্রেণীর মিশকাতুল জান্নাত, জুনিয়র গ্রুপে সপ্তম শ্রেণীর মাহবুবুল আলম সিফাত, সেকেন্ডারী গ্রুপে দশম শ্রেণীর তাওহীদ হাসান এবং হায়ার সেকেন্ডারী গ্রুপে একাদশ শ্রেণীর আরিফ মাহমুদ চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ড. মোঃ আবুল হাসান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান জনাব মীর ফরহাদুল আলম মনি ও উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা জনাব বেঞ্জামিন রিয়াজী।

রংপুর
আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে গত ৮ এপ্রিল রংপুর জেলার কাউনিয়া থানার ধর্ম্মেশ্বর মহেষা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জমজমাট গণিত উৎসব। উৎসবে ৩ নং কুর্শা ইউনিয়নের মোট ১৫টি প্রতিষ্ঠানের ১২০০ ছাত্র-ছাত্রী ৩টি বিভাগে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম্মেশ্বর মহেষা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব জিতেন্দ্রনাথ সরকার, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জনাব আবুল কাশেম, বড়ুয়াহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আওলাদ হোসেন, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির প্রশিক্ষক ও শঠিবাড়ী ডিগ্রী কলেজের গণিতের প্রভাষক জনাব তারিক প্রধান সুমন ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট কর্মী শামীমা রহমান। পরীক্ষার পরে ইয়ূথ এক্টিভিস্ট হাসানুর রহমান হাসানের পরিচালনায় বন্ধুত্ব পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। শহিদুল ইসলাম সাজুর উপস্থাপনায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উৎসবের সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন ইয়ূথ এক্টিভিস্ট আল ইমরান ও মেহের নাজমুন ইসলাম তিশা। পুরো আয়োজনকে সফল করতে বিশেষভাবে ভূমিকা রেখেছেন রেজা, আরিফ, মুসা, ইকবাল, আসাদ, পূর্ণ, রব্বানী, মোশারফ, রুবেল, মনজুম এবং আরো অনেকে।

জামালপুর

10এ.কে. মেমোরিয়াল কলেজ ইউনিটের আয়োজনে গত ১০ এপ্রিল জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভায় প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হলো গণিত উৎসব। ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯০০ ছাত্র-ছাত্রী এতে অংশগ্রহণ করে। উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ.কে. মেমোরিয়াল কলেজ এর সাবেক অধ্যক্ষ জনাব নারায়ণ চন্দ্র সাহা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারী আশেক মাহমুদ কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক জনাব মঞ্জুরুল ইসলাম, দেওয়ানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জনাব অজিত কুমার ধর, সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম ও সোনালী ব্যাংক সানন্দবাড়ী বাজার শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ নুরুজ্জামান। সকাল পৌনে ৯টায় জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। গণিত উৎসবের আহ্বায়ক, এ.কে. মেমোরিয়াল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, আমি গণিতে খুব দুর্বল ছিলাম, আমাদের সময়ে যদি এ রকম ব্যবস্থা থাকত তাহলে হয়ত আমি আজ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা পাইলট হতে পারতাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, প্রতি বছরই এ রকম আয়োজন আমরা করতে চাই। পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্য থেকে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে প্রাথমিক বিভাগের নুর মোহাম্মদ সিফাত ই রাজ্জাক বলেন, আমি গণিত ভয় পেতাম, এখন মনে হচ্ছে আমিও পারব। গণিত উৎসবটি সফল করতে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি ছিল তারা হলেন আয়োজক ইউনিটের কোঅর্ডিনেটর আঃ মান্নান, মোঃ ইউসুফ, মাসুদ ও ইয়ূথ লিডার নূর আলম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মোঃ সোহাগ ও ইয়ূথ এক্টিভিস্ট মোঃ শফিকুল ইসলাম।

নেত্রকোনা
২৬ জুন নেত্রকোনা জেলার ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার নেত্রকোনা সদর ইউনিটের আয়োজনে একটি গণিত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ১১২০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ৩টি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে উৎসবের কার্যক্রম শুরু হয়। পরীক্ষার পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জনাব প্রাণেশ রঞ্জন রায় পরিমল। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ তুহিন আক্তার, মাধ্যমিক শিক্ষা পরিদর্শক, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট কর্মী দিলীপ কুমার সরকার, সুশান্ত কুমার সরকার ও তহুরুল হাসান টুটুল। আলোচনা পর্বটি উপস্থাপনা করেন জেলা রোভার সম্পাদক জনাব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী। মাধ্যমিক শিক্ষা পরিদর্শক তার বক্তব্যে বলেন, এই গণিত উৎসবের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের গণিতের ভীতি দূর হবে এবং তারা সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর করতে পারবে। আমি মনে করি এধরনের উৎসব প্রতি বছরে দুইবার হওয়া দরকার। জনাব প্রাণেশ রঞ্জন রায় পরিমল তার বক্তব্যে বলেন, নেত্রকোনা জেলায় এই প্রথমবারের মত গণিত উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়াতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। গণিত উৎসব সম্পর্কে আমার বেশি ধারণা ছিল না। আজ মনে হচ্ছে প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীকে উৎসবে অংশগ্রহণ করানো প্রত্যেকটি শিক্ষক ও অভিভাবকের দায়িত্ব। এতে করে শিক্ষার্থীরা গণিতকে ভয় না করে ভালবাসবে। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে স্থানীয় শিল্পীরা দেশাত্ববোধক গান, জারি, রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করেন। পরে পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

সিরাজগঞ্জ

111সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলায় মাগুরাবিনোদ ইউনিয়নের দোবিলা ইসলামপুর ডিগ্রী কলেজ মাঠে গত ২৭ জুন প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ৩টি বিভাগে অনুষ্ঠিত হলো গণিত উৎসব। স্বেচ্ছাব্রতী সংগঠন ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার ও স্থানীয় উজ্জীবকদের আয়োজনে এ উৎসবে তৃণমূলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। মাগুরাবিনোদ ইউনিয়নের দোবিলা ইসলামপুর ডিগ্রী কলেজ মাঠে আয়োজিত উৎসব অঙ্গনটি হয়েছিল তৃণমূলের শিক্ষার্থীদের প্রাণের মিলন মেলা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডি এম আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসের মনসুর। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দোবিলা ইসলামপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মোশারফ হোসেন, ইয়ূথ লিডার মাহমুদুল হাসান তুহিন, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট কর্মী জাকারুল ইসলাম ও সুব্রত কুমার পাল। গণিত উৎসব বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ওয়াহিদ মুরাদের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদ।

সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। উদ্বোধনের পরই শুরু হয় তিনটি ক্যাটাগরিতে পরীক্ষা। উৎসবের প্রথম পর্বে ৫০ মিনিটের পরীক্ষাটি বেশ উপভোগ্য ছিল। সাধারণ পাঠ্যসূচির বাইরে প্রশ্ন থাকায় বিষয়গুলো প্রথমে জটিল মনে হলেও পরে মজা পায় অংশগ্রহণকারীরা। পরীক্ষা শেষে একদিকে চলছিল উত্তরপত্র নিরীক্ষণের কাজ আর অন্যদিক ছিল প্রতিযোগিদের নিয়ে বন্ধুত্ব পর্ব। এ পর্বে প্রতিযোগিদের সাথে আলোচনা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসের মনসুর এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডি এম আতিকুর রহমান।

উৎসবের সমাপনী পর্বে মিথ্যা বলা, মাদক নেয়া আর মুখস্ত বলা থেকে বিরত থাকতে আর প্রতিদিন একটি করে ভাল কাজ করার অঙ্গিকার করেন উৎসবে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা। মেধার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে প্রাণের এ উৎসবে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের সাথে যোগ হয় উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলীও। পরে তিনটি ক্যাটাগরিতে ১৮ জনকে এবং শ্রেষ্ঠ ৩টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

এপ্রিল-জুন মাস পর্যন্ত আরো যেসব স্থানে গণিত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে:

কৃমিক নং অনুষ্ঠিত হবার তারিখ স্থানের নাম অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা (ছাত্র-ছাত্রী) আয়োজক
১. ২০ জুন, ২০০৯ লোহাগড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয, লোহাগড়া, নড়াইল প্রায় ১৭৫০ জন লোহাগড়া উপজেলার সকল ইউনিট


রিপোর্ট: সোহাগ, আল ইমরান, মোঃ শফিকুল ইসলাম, মোঃ শাহজাহান করিব ও সুব্রত কুমার পাল।

আমরা করব জয়-৬৭

Advertisements

One comment

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে।