সামাজিক দায়বদ্ধতা

– সামিউল ইসলাম সজীব

জানুয়ারির ৪ তারিখ, সকালের ঠান্ডায় হাত জমে আসছে। উহ! আজ আবার পরীক্ষা। লেকচার শিটটা বার বার উল্টাতে থাকি। বাস কাউন্টারে দাঁড়িয়ে পড়ছি আর বার বার ঘড়ি দেখছি। কখন বাস আসবে? একে তো শীত তার ওপর কুয়াশার এমন অবস্থা ১০-১২ হাত দূরেও কিছু দেখা যায় না। এমন সময় দু’টি শিশু আমার সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। দু’জনরই গায়ে হাফ হাতা পাতলা জামা। ওরা আমার দিকে তাকালো, আমি নিজের দিকে তাকালাম। হাত মোজা, জ্যাকেট, কান টুপি শীতবস্ত্রে বোঝাই। তারপরেও হাত জমে আসছে, পা কাঁপছে। নিজেকে সুবিধাবাদী বলে মনে হলো। ইচ্ছে করছিল ছুটে গিয়ে ওদের জন্য কাপড় আনতে। পর মুহূর্তেই নিজেকে ফিরিয়ে আনি। আমাকে পরীক্ষায় ভালো করতে হবে। পরক্ষণেই ভুলে যাই শীতে কাতর মুখ দু’টির কথা। আমি আবার পড়া শুরু করি। হায়! আমি নাকি আগামীর কর্ণধার।

গরমের সময়, আসাদগেট থেকে একটি এসি বাসে উঠলাম। বাসের বা পাশে জানালার ধারে বসে আছি, উদ্দেশ্য গুলশান যাবো। বাসটি বিজয় স্মরণীর সিগনালে এসে থামলো। এমন সময় দেখতে পেলাম একটি শিশু নোংরা রাস্তা থেকে ভুট্টার খৈ তুলে খাচ্ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে একটা ছাগল আর কিছু কাক চলে এলো। সবাই মিলে একসাথে খেতে লাগলো। ছোট্ট শিশুটির সে কি আপ্রাণ চেষ্টা নিজেরটা আদায় করে নেয়ার! আমি এর আগে কখনোই ছাগলকে খৈ খেতে দেখিনি। আমি হয়ত ভুলেই গিয়েছিলাম শিশুটি একটি মানুষ। তাতেই বা আমার কি? আমাকে তো কখনো ছাগল কিংবা কাকের সাথে পাল্লা দিয়ে খাবার খেতে হয় নি। এই শিশুটি যদি ভবিষ্যতে সন্ত্রাসী হয় তবে আমার কি কিছূ বলার থাকতে পারে?

আমার পরিচিত একজন সাংবাদিক আমাকে অনুরোধ করেন তার পত্রিকার শিশুদের পাতায় ‘শিশু শ্রম’ বিষয়ে কিছু লেখার জন্য। কিন্ত আমি লেখার জন্য কলম ধরতে পারলাম না। চোখের পাতায় ভেসে ওঠে সেই সব শিশুদের মুখ, যাদেরকে সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে দেখেছি আমার বাসা থেকে শুরু করে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও নানা শ্রম সাধ্য কাজে। সামাজিক দায়বদ্ধতার দিক থেকে অন্য ভাবে বলা যায়, আজ সময় এসেছে আত্মজিজ্ঞাসা করার। সচেতন মানুষ হিসেবে সমাজের প্রতি আমার কি দায়িত্ব? সে দায়িত্বের কতটুকু আমি পালন করেছি? যতটুকু করেছি তা যথেষ্ট কি না?


আমরা করব জয়-৬৬

Advertisements

One comment

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে।