আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

পাটকেলঘাটা হারুণ-অর-রশিদ কলেজ ইউনিটের আয়োজনে ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ উদযাপিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে ছিল প্রভাতফেরি, শহীদ মিনারে ফুল দেয়া, আলোচনা সভা, উপস্থিত বক্তৃতা, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। এতে অংশগ্রহণ করে ৪৫ জন ছাত্রী ও ৫৫ জন ছাত্র। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ শেখ ওয়াজিহুর রহমান, অধ্যাপক শাহ্ ফকির আহমেদ, সুব্রত দাশ, আতিয়ার রহমান ও উৎপল মন্ডল। কার্যক্রমটি সফলভাবে বায়স্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন অধীশ দাশ, রফিকুল ইসলাম. আবির হাসান, কিশোর ঘোষ, রমা কর ও তাপস নন্দী। এই উপলক্ষে ‘কুমিরা প্রগতি সংঘ’ আয়োজন করে আলোচনা সভা ও একুশের গান।

21

শোক আর গৌরবগাঁথায় প্রতি বছর বাঙ্গালী জাতি গভীর শ্রদ্ধাভরে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণ করে। কটিয়াদী উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ এদিন ফুলে ফুলে ঢেকে দিয়েছিল শহীদের স্মৃতি বিজড়িত শহীদ মিনার। বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করা হয়েছে বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার কটিয়াদী উপজেলা ইউনিটের পক্ষ থেকে দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে স্থানীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে একুশের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর সকাল ৭টায় প্রভাতফেরি অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে কটিয়াদী আদর্শ বিদ্যানিকেতন মাঠে আয়োজন করা হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন হাঙ্গার প্রজেক্ট ভিটিআর ও স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক জনাব হাবিবুর রহমান। সমাপনী বক্তৃতায় তিনি বলেন, আজকের শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যত, তাদের সামনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস তথা বাঙ্গালীর সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন যুব সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ। আজকের অনুষ্ঠান আয়োজন এ কাজেরই বহিঃপ্রকাশ। অনুষ্ঠানটি সফল করতে যাদের অবদান অনস্বীকার্য তারা হলেন মোজাম্মেল, তানিয়া, জান্নাতা, হাকিকত, তাছলিমা, ছনিয়া ও দোলনা।

‘একুশ আমার গর্ব, একুশ আমার অহংকার’ শ্লোগানকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বর্ণমালা ইউনিট নানা রকম কার্যক্রম আয়োজন করে। ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে প্রায় দুই শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে প্রভাতফেরি শুরু হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জনাব প্রাণেশ পন্ডিত ও বিদ্যুৎ কুমার নন্দী। শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণে অংশ নেয় বর্ণমালা আদর্শ কিন্ডার গার্টেন, সিংজানী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দপাড়া মুক্ত স্কাউট গ্রুপ, চন্দপাড়া ও বর্ণমালা গণশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষার্থী ও ইয়ূথ সদস্যরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বর্ণমালা গণশিক্ষা স্কুলের সভাপতি দীনেশ চৌধুরী। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সিংজানী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব শফিকুল আলম, নারায়ণ নন্দী, হুমায়ূন কবীর, আঃ রাশিদ, নূর মোহাম্মদ, জন্মজয় দাশ, আঃ বারেক, বিউটি রানী কর, রুপ বানী স্বর্ণালী ও আঃ খালেক। অনুষ্ঠানমালায় আরো ছিল প্রাইমারী ও জুনিয়র শাখায় দেশাত্ববোধক গান ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিত বক্তৃতা, গণশিক্ষার আসর, অতিথিদের আসর ও দর্শকদের খেলা। মোট ৯টি ইভেন্টে ২৭টি পুরস্কার ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল গণশিক্ষার শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি প্রতিযোগিতা। এটি এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং অন্যান্য বয়স্ক লোকেরাও লেখাপড়া শিখতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। পরিশেষে সভাপতির ভাষণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ঝিনাইদহ সদর ইউনিটের উদ্যোগে প্রতি বছরের মত এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মহান ভাষা সৈনিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনে স্বেচ্ছাব্রতী ইয়ূথ সদস্যরা সকাল সাড়ে ৬টায় ইউনিট কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করে। এরপর বুকে কালো ব্যাজ লাগিয়ে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নেয় তখন সকলের কন্ঠেই উচ্চারিত হতে থাকে ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…..’। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এরপর বিকাল সাড়ে ৩টায় দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ এ আঞ্চলিক কার্যালয়ে অমর একুশ স্মরণে ‘একুশ আমার প্রেরণা’ শীর্ষক পাঠচক্র, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট কর্মী জনাব খোরশেদ আলম, আদর্শ পাঠশালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জনাব শাহিনা আফরোজ, আর.টি. ডিগ্রী কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক জনাব শরীফ মাহমুদুল হাসান, ন্যাশনাল ইয়ূথ ফোরাম সদস্য অশোক বিশ্বাস, ইয়ূথ লিডার মিষ্টি, আমিনুল, স্বর্ণা, মিজান, মিশু ও অমিত। পুরো আয়োজনে সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করেন ইউনিট কোঅর্ডিনেটর ফারুক হোসেন শাওন। সন্ধ্যায় পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাব্রতী ইয়ূথ সদস্যদের ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।

22
আঞ্চলিক কার্যালয়ে অমর একুশ স্মরণে ‘একুশ আমার প্রেরণা’ শীর্ষক পাঠচক্র, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ, আলৌচনা সভা ও শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভঅয় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট কর্মী জনাব খোরশেদ আলম, আদর্শ পাঠশালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জনাব শাহিনা আফরোজ, আর.টি ডিগ্রী কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক জনাব শরীফ মাহমুদুল হাসান, ন্যাশনাল ইয়ূথ ফোরাম সদস্য অশোক বিশ্বাস, ইয়ূথ লিডার মিষ্টি, আমিনুল, স্বর্না, মিজান, মিশু ও অমিত। পুরো আয়োজনে সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করেন ইউনিট কোঅর্ডিনেটর ফারুক হোসেন শাওন। সন্ধ্যায় পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত বইমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাব্রতী ইয়ূথ সদস্যদের ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহের চরপুলিয়ামারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কুইজ, চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি ও সঙ্গীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন স্কুলের প্রায় ৭০ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে। পরে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, একুশের চেতনা বিকাশে এরকম আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। স্থানীয় ইয়ূথ সদস্যদের সহায়তায় উক্ত আয়োজনে মূল ভূমিকা পালন করেন ইয়ূথ লিডার জনি।

23
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় গত ২১ ফেব্রুয়ারী খুলনা বি.এল কলেজ ইউনিটের উদ্যোগে পালিত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রভাতফেরি ও শহীদ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ। দিবসের প্রথম প্রহরে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয় প্রভাতফেরি। এতে নেতৃত্ব দেন সরকারী বি.এল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আহম্মেদ রেজা এবং বিভিন্ন বিভাগে ২০ জন শিক্ষক। প্রভাতফেরি শেষে বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ইউনিট উপদেষ্টা শংকর কুমার মল্লিকসহ ইউনিট সদস্যরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় ১ মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়। এতে বিশেষভাবে ভুমিকা রাখেন মুক্তার, আলাদিন, শফিক, রূপা, বদরু, সাঈদ, মাসুম প্রমূখ।

রিপোর্ট: অধীশ দাশ, মোজাম্মেল হক, মোঃ আঃ রাশিদ, অশোক বিশ্বাস, এ.কে. মানিক ও শাহীন মাহমুদ।

আমরা করব জয়-৬৬

Advertisements

One comment

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে।