আন্তর্জাতিক নারী দিবস

‘সম-অংশীদারিত্ব ও সম-সুযোগ নিশ্চিত করব, সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো’- শ্লোগানকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গত ৮ মার্চ, ২০০৯ ঢাকা সিটি ইউনিটের উদ্যোগে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কুতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এতে অতিথি হিসেরে উপস্থিত ছিলেন নাছিমা আক্তার জলি ও তাজিমা হোসেন মজুমদার। অতিথিরা নারী দিবসের গুরুত্ব, সমাজে নারীর ভূমিকা ও নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করেন। বেগম বদরুন্নেসা কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও শেরে বাংলা কৃষি কলেজ ইউনিটের প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। আয়োজনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন রনি, লিপি, মাহী, রফিক ও সজীব।

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিঝিকান্দা ডিগ্রী কলেজ মাঠে রজনীগন্ধা ইউনিটের আয়োজনে পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিবসের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সহকারী অধ্যাপক এ.এস.এম. আতাহারুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোঃ শহিদুল ইসলাম, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মোঃ আসাদুল্লাহ, শরীর চর্চা বিভাগের শিক্ষক মোঃ শহীদুল্লাহ তালুকদার ও ইয়ূথ লিডার মোঃ শফিউল্লাহ বকুল। আয়োজনটি সফল করতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন ইয়ূথ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, মোতালেব, ফারুকুল ইসলাম, মোঃ আলী হুসেন, রবিউল ইসলাম, হানিফ মিয়া, রহিমা খাতুন, আসমা আক্তার, শফিকুল ইসলামসহ আরো অনেকে।
24
সরকারী এডওয়ার্ড কলেজ ইউনিটের আয়োজনে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে পালিত হলো আন্তর্জাতিক নারী দিবস। শোভাযাত্রাটি পরিচালনা করেন ইউনিট কোঅর্ডিনেটর মোঃ মাহমুদুল হাসান তুহিন ও সার্বিক সহায়তা করেন ইয়ূথ এক্টিভিস্ট আবদুল্লাহ আল মামুন। আয়োজনে সহযোগিতা করে জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ।

ময়মনসিংহ শহরে জয়নুল আবেদীন পার্কের ‘বৈশাখী মঞ্চে’ আনন্দমোহন কলেজ ইউনিটের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে ৪৫ জন ইয়ূথ সদস্য উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে ২১ জন নারী ও ২৪ জন পুরুষ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস.এম. মুখলেছুর রহমান, নারী নেত্রী আঞ্জুমান আরা লুবনা, পুলিশ সার্জন ওমর ফারুক দৌলা ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন এ.কে. মানিক। শুরুতেই ঢাকার পিলখানায় ২৫ ফেব্রুয়ারি নিহতদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর আনন্দমোহন কলেজ ইউনিটের কোঅর্ডিনেটর সব্যসাচী সরকারের শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কার্যক্রমের সূচনা হয়। নারী দিবস সম্পর্কিত প্রবন্ধ পাঠ করেন তাছলিমা জাহান তন্বী। এরপর প্রবন্ধ ও প্রতিপাদ্য বিষয়ের আলোকে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পায় সেগুলো হলো- সমাজে প্রতিটি স্তরে নারীরা বৈষম্যের শিকার, নারী অধিকার বলতে নারীদের বিষয় মনে করার প্রবনতা, পলিসিতে নারী অধিকারের কথা বলা হলেও প্রায়োগিক দিকে শূন্যতা ও দৈন্যতা, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার বেড়াজাল, ধর্মীয় মূল্যবোধকে নারী অধিকার হরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার, দূর্নীতিগ্রস্থ রাষ্ট্রব্যবস্থা, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় পারিবারিক বাধা, জেন্ডার বৈষম্য সৃষ্টিতে সংবিধানের পরোক্ষ ভূমিকা, নারীকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে দেখার মানসিকতা, নারীদের মধ্যে আত্মশক্তি ও আত্মনির্ভরশীলতার অভাব, নারীদের পিছিয়ে থাকা বা অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়ার মানসিকতা পোষণ ইত্যাদি। মুক্ত আলোচনার পর কবিতা পাঠ করে শোনান ইয়ূথ সদস্য চৈতি, অদিতি ও সব্যসাচী। স্বরচিত একটি প্রবন্ধ পাঠ করেন লাকী। এরপর ত্বকীর পরিচালনায় একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেয়া হয়। সব শেষে ‘নারী-পুরুষের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন অলক সরকার, পিয়াস ভট্টাচার্য, হাসিবুল ইসলাম হাসান। রিপোর্টিং করেন তাছলিমা জাহান তন্বী এবং সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন সব্যসাচী সরকার।
25
ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশ এর নেত্রকোনা সরকারী কলেজ ইউনিটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা। ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডসহ প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে শহরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে কলেজ প্রাঙ্গনে এসেই শেষ হয়। তারপর শুরু হয় আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব রূহিদাস দেবনাথ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব মোছাঃ জাহানারা বেগম ও অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক জনাব মোঃ রেজাউল করিম। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, পুরুষরা এখনো নারীদেরকে অবহেলার চোখে দেখে, তারা মনে করে নারীরা শুধুই ভোগের সামগ্রী। পুরুষদের এই মনোভাব দূর করতে হবে তবেই দেশ ও জাতির উন্নতি ঘটবে। জনাব জাহানারা বেগম বলেন, আমরা নারীরা এখনো অবহেলিত এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার। সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে নারী-পুরুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আব্দুর রাশিদ। আয়োজনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন মোঃ শাহজাহান কবির, সহযোগিতা করেন রফিকা সুলতানা, রোকসানা, টপি আক্তার, নাজমুল ও রফিক।

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে উৎসবমুখর পরিবেশে হাজী আরশাদ আলী কলেজ ইউনিটের উদ্যোগে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপিত হয়। চার শতাধিত অংশগ্রহণকারীর অংশগ্রহণে দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত নানা কর্মসূচির মধ্যে ছিল শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বড়দের জন্য রচনা, উপস্থিত বক্তৃতা ও কুইজ প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী। সকালে জাতীয় সঙ্গীত ও দেশের গানের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ভালকী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে লামিয়া সুলতানা রিমি, তাহমিনা খাতুন এবং সুমাইয়া আফরিন লিজা। হাজী আরশাদ আলী কলেজ ও শাখারীদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘নারীর অগ্রগতিতে শিক্ষার গুরুত্ব’ বিষয়ক একটি রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজয়ী হন তারেক আল মামুন, রানা আলী ও দিল। তারপর অনুষ্ঠিত নারীর বাস্তব চিত্র ও সময়ের প্রেক্ষাপটে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন দিপা, রাজন ও টিপু সুলতান। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকে গান, কবিতা, কৌতুক ও গল্প পরিবেশন। প্রতিযোগিতা শেষে কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব মোঃ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উক্ত কলেজের অধ্যক্ষ জনাব এ.কে.এম. মোতালেব হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভালকী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রভাষক জনাব ফারজানা আক্তার, শাখারীদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক নিরোদ বরণ বিশ্বাস। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউনিট কোঅর্ডিনেটর মোঃ জসিম উদ্দিন। আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন ইয়ূথ এক্টিভিস্ট অশোক বিশ্বাস, আয়োজনে বিশেষ ভাবে সহযোগিতা করেন আমিনুল, মিষ্টি, মিশু, অমিত ও মানিক।

ঝিনাইদহ সদর ইউনিটের আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়। শোভাযাত্রা, পাঠচক্র ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি পালিত হয়।

রিপোর্ট: লিপি আক্তার, শফিউল্লাহ, মোঃ মাহমুদুল হাসান, তাছলিমা জাহান তন্বী, মোঃ শাহজাহান করিব, অশোক বিশ্বাস।

আমরা করব জয়-৬৬

Advertisements

One comment

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে।