জাতীয় সম্মেলনকে নিয়ে কিছু অনুভূতি

আমি প্রথমে ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ইয়ূথ বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সংগঠনের অনেক নতুন মাত্রা যেমন অর্জিত হয়েছে, তেমনি নতুন ভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনিশ্চয়তা ও ইদুল আজহার মাত্র কয়েক দিন পর অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি নানা প্রতিকূলতার মাঝেও সফলভাবে শেষ হওয়ায় আল্লাহ্ এর দরবারে আমি শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। অন্যান্য বারের তুলনায় এবারের সম্মেলন ছিল ব্যতিক্রম। বিশেষ করে, আমরা চেষ্টা করেছিলাম অল্প সময়ের মধ্যে কিভাবে বেশী কাজ করা যায়। এবারের সম্মেলন শুরু হয়েছিল সন্ধ্যায়। উদ্বোধন করেন দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব মুহম্মদ জাফর ইকবাল। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও দেড় দিনের অনুষ্ঠানমালা ছিল অনেক প্রাণবন্ত, ইয়ূথ বন্ধুদের বিভিন্ন উপস্থাপনা ছিল চোখে পড়ার মত। অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাথে নতুন করে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়। গণশিক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা ও কুইজ প্রতিযোগিতাসহ আরো ছিল মনোমুগ্ধকর বিনোদন।

এই সম্মেলনকে সফল করার জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলন কমিটি গত বছরের প্রথম থেকেই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে কাজ শুরু করেছিল। যার ফলশ্রুতিতে এ সম্মেলন সত্যিকার অর্থে সার্থক ও সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই সফলতার পেছনে সম্মেলন কমিটির সদস্য ও সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ইয়ূথ যোদ্ধা যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে তাদের জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। চতুর্দশ জাতীয় সম্মেলন কমিটিকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে যুদ্ধ জয়ের বাসনা নিয়ে আত্মত্যাগ করেছিল এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ, তাদের সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব আমাদের সকলের। সহযোদ্ধা ইয়ূথ বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য শুভকামনায়………

মোঃ হেদায়েত হোসেন
আহ্বায়ক, ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলন কমিটি।

জীবনে এমন দু’একটি দিন আছে যার স্মৃতি হৃদয়পটে চিরভাস্বর হয়ে থাকে। আমার জীবনে তেমনি এক স্মরণীয় ও আনন্দময় দিন ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলন। এ সম্মেলন আমার জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, চতুর্দশ জাতীয় সম্মেলনের যুগ্ম-আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছি আমি। এ দায়িত্ব পেয়ে আমি গর্বিত ও আনন্দিত। তাই আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই জাতীয় সম্মেলন কমিটির নির্বাচকদের, আমার রাজশাহী সিটি ইউনিট ও সকল ইয়ূথ বন্ধুদের যারা আমাকে প্রত্যেক পদক্ষেপে অনুপ্রাণিত করেছে সামনে এগিয়ে যেতে।

এটিই আমার দেখা প্রথম সম্মেলন। তাই সম্মেলনের প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে দারুণ ভাবে নাড়া দিয়েছে এবং আমার দৃষ্টিভঙ্গির আরো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করেছে। এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়েই আমি অনুভব করি ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার ও এর সদস্যরা অন্য সকল সংগঠনের চেয়ে চিন্তা, চেতনা, কর্ম, আদর্শ ও আচরণে ভিন্ন। সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সম্মেলনকে নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে। বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, কুইজ প্রতিযোগিতা, গণিত অলিম্পিয়াড নিয়ে আলোচনা, গণশিক্ষা, ধূমপানের কুফল নিয়ে মুক্ত আলোচনা ও বিগত দিনের অভিজ্ঞতা বিনিময় প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো আমার চিন্তাকে বিস্তৃত করেছে। আমরা সকলে মিলে এক বছরের একটি পরিকল্পনা করেছি। আমি আশা করি আমার ইয়ূথ বন্ধুরা পরিকল্পনা মত তাদের নিজ নিজ এলাকায় কাজ শুরু করে দিয়েছে।

সম্মেলনে আরো একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। এক সাথে এত বিশিষ্ট অতিথি একই অনুষ্ঠানে আমার কাছে এ যেন স্বপ্নের মত। অতিথিদের বক্তব্য আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে, দ্বিতীয় প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এই অনুপ্রেরণা ক্ষুধামুক্ত আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমি কাজে লাগাতে চাই। বাংলাদেশকে সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

সুবেহ সাদিক বন্না
যুগ্ম আহ্বায়ক, চতুর্দশ জাতীয় সম্মেলন কমিটি।

প্রিয় সহযাত্রীবৃন্দ, চতুর্দশ জাতীয় সম্মেলন কমিটির পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

জাতীয় সম্মেলন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হতে পেরে আমি গর্বিত। ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে সমাজ গঠনমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশ দেশের একটি বৃহৎ ও নামকরা স্বেচ্ছাব্রতী সামাজিক সংগঠনে পরিণত হয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে সংগঠনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত একদল তরুণ সংগঠকের সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে। তাঁদের প্রতি আমার  শ্রদ্ধা নিবেদন করি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলনে ২০০৯ সালের জন্য যে প্রত্যাশা ও পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনে আমি আমার অবস্থান থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবার অঙ্গিকার পুনরায় ব্যক্ত করছি।

প্রত্যাশা করি আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য সুন্দর ভবিষ্যত রচনা করতে পারব।

সকলের জন্য শুভকামনা-

লিপি আক্তার
যুগ্ম আহবায়ক, চতুর্দশ জাতীয় সম্মেলন কমিটি

আমরা করব জয়-৬৬

Advertisements

One comment

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে।