গণিত উৎসবের খবর

সিলেট

16‘গণিত নিয়ে খেলা কর, বিশ্বটাকে জয কর’ শ্লোগানকে সামনে রেখে ৬ ডিসেম্বর, ২০০৮ ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার সিলেট এম.সি. কলেজ ইউনিটের উদ্যোগে দি এইডেড হাইস্কুলে একটি গণিত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সকাল নয়টায় জাতীয় সঙ্গীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। তারপর সোয়া ৯টা থেকে ১০টা পাঁচ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে মিলনায়তনে সমবেত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে শুরু হয় পরিচয় পর্ব। উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথিরা গণিত নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রধান অতিথি ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস তার বক্তব্যে বলেন, মানুষের প্রয়োজনেই গণিত সৃষ্টি হয়েছে, গণিত মুখস্থ করা যায় না, বুঝতে হবে।

এম.সি. কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনিছুল ইসলাম বলেন, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় সবচেয়ে বেশি অবদান গণিতের, তাই নিয়মিত এর চর্চা করতে হবে। নিয়মিত এরকম গণিত উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে গণিত ভীতি দূর করতে হবে। তিনি প্রতি তিন মাস অন্তর গণিত উৎসব আয়োজনের আহ্বান জানান। সিলেট সরকারী কলেজের সহকারী অধ্যাপক দারোকেশ চন্দ্র নাথ বলেন, গণিত ভীতি দূর করতে অভিভাবকদের সচেতনতা বেশী প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রসময় মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও গণিত উৎসবের আহ্বায়ক জনাব শাহেদ আহমদ এবং পরিচালনা করেন ইয়ূথ লিডার রিপটন পুরাকায়স্থ। আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বের শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয় এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উৎসবটি আয়োজনের পিছনে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম জড়িয়ে আছে তারা হলেন বিমল, রিপটন, সাধন, হালিম, জামাল, সবুজ, সামছুল ও ফয়ছল। বিশেষ ভাবে সহযোগিতা করেছেন মিহির, সঞ্জিত, দীপঙ্কর, রিপন, পূর্ণেন্দু, রাজা, হীরা, বিমল দে, আলীম, রাজীব, সফিক ভাই, রঞ্জিত দা, শাহেদ স্যার, শরিফুল স্যার, স্বপন স্যার, নাসির ভাই ও সাগর দা।

রাজশাহী

17 ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ ৩টি গ্রুপে প্রায় ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার মোহনপুর সরকারী হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হলো গণিত উৎসব। স্বেচ্ছাব্রতী ছাত্র সংগঠন ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের পার্থিব ইউনিট এ উৎসবের আয়োজন করে। তৃণমূল পর্যায়ে গণিত উৎসবের যাত্রা ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের মাধ্যমেই। মোহনপুর হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত উৎসব অঙ্গনটি হয়ে ছিল তৃণমূলের শিক্ষার্থীদের প্রাণের মিলন মেলা। উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা জনাব মইন উল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বচিত মোহনপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব শামিমুল ইসলাম মুন। আরো উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এর গণিতের অধ্যাপক জনাব কমলেশ চন্দ্র রায়, রিসার্স ফেলো জনাব আবুল কালাম আজাদ, কেশরহাট ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জনাব গিয়াস উদ্দিন ও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট কর্মী সুব্রত কুমার পাল। সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়, চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত। ৩টি ক্যাটাগরীতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে একদিকে চলছিল উত্তরপত্র নিরীক্ষণের কাজ অন্যদিকে ছিল প্রতিযোগীদের নিয়ে বন্ধুত্ব পর্ব। এ পর্বে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন রুয়েট এর অধ্যাপক জনাব কমলেশ চন্দ্র রায়। উৎসবের সমাপনী পর্বে মিথ্যা বলা, মাদক নেয়া আর মুখস্থ করা থেকে বিরত থাকতে হাতে হাত রেখে শপথ করে শিক্ষার্থীরা। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জামিল, মাহবুব, রনি, হাফিজ, মশিউর, জুয়েল, তিন্নি, লতা, রাজীব, শাহাদৎ ও মাসুম।

গাইবান্ধা

18গত ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ তারিখে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার ক্রোড়গাছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো একটি গণিত উৎসব। শাপলা ইউনিটের আয়োজনে ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০০ জন ছাত্র-ছাত্রীর উৎসবে অংশগ্রহণ করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হরিরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলাম মুক্তা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ শাহজাহান আলী প্রধান সাজু, মোঃ সামছুল মাষ্টার, মোঃ মিজানুর রহমান মিজান ও আফসার প্রধান। অতিথিরা তাদের বক্তব্যে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের এই আয়োজনকে সাধুবাদ জানান। গ্রামের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এরকম প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায় না বললেই চলে। সেখানে এরকম প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষা ও মেধাবিকাশের আয়োজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা এধরনের আয়োজনকে সহযোগিতা করার জন্য অশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মেহেরপুর
২০ ফেব্রুয়ারি মেহেরপুর জেলা ইউনিটের আয়োজনে মেহেরপুর সরকারী বালক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে একটি গণিত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জনাব মোঃ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহি অফিসার জনাব মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, ডাঃ আবু তাহের সিদ্দিকী, সুজন সম্পাদক শামীম জাহাঙ্গীর সেন্টু ও মেহেরপুর সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী গণিত শিক্ষক জনাব মোঃ আব্দুল হামিদ। জাতীয় সঙ্গীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে ৩টি গ্রুপে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে পরিচিতি ও বন্ধুত্বপর্ব পরিচালনা করেন ইয়ূথ এক্টিভিস্ট অশোক বিশ্বাস। প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মোঃ আব্দুল হামিদ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অতিথিদের বক্তব্যের পর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন উৎসবের আহ্বায়ক, মেহেরপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী গণিত শিক্ষক জনাব মোঃ আলিমুজ্জামান রিপন। বিজয়ীদের পুরস্কার ও সনদপত্র ২৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দেয়া হয়।

যশোর
৭ মার্চ সুন্দলী এস.টি. স্কুল এন্ড কলেজ ইউনিটের আয়োজনে যশোর জেলার অভয়নগর থানার সুন্দলী এস.টি. স্কুল এন্ড কলেজে একটি গণিত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬১০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ আরিফ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব বিকাশ চন্দ্র মল্লিক, ফুলেরগাতী হরিশপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক জনাব চিরঞ্জীব পাঁড়ে, সুন্দলী এস.টি. স্কুল এন্ড কলেজের গণিতের প্রভাষক জনাব সমীর মল্লিক, তাড়পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক জনাব স্বপন কুমার মল্লিক ও সুন্দলী এস.টি. স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক জনাব বীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। সুন্দলী ইউনিয়নে এটিই প্রথম গণিত উৎসব। ইউনিয়নের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মিলনমেলা অতীতে কখনো ঘটে নি। উপস্থিত সকলে আয়োজক টিম ও ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। আগামীতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যহত রাখার আহ্বান জানান। উৎসবটি আয়োজনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন ইয়ূথ এক্টিভিস্ট শাহীন মাহমুদ ও অশোক বিশ্বাস।

কিশোরগঞ্জ
করিমগঞ্জ সদর ইউনিটের আয়োজনে ২০ মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার ভাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি গণিত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০০ ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মোঃ জনাব আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জনাব আজিজুল ইসলাম দুলাল। আরো উপস্থিত ছিলেন জনাব আঃ গণি, জনাব ছাইদুর রহমান খোকন, দিপু মাষ্টার, মহিউদ্দিন ও আওলাদ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। তারপর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা নুরুল আমিন। উৎসবের আহ্বায়ক দেওয়ান মোঃ এনায়েতুল ইসলাম ও সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। পরীক্ষা শেষে ফলাফল তৈরির সময়ে মঞ্চে ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হতে থাকে। ফলাফল ঘোষণার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধান অতিথি বলেন, আমি জীবনে বহু অনুষ্ঠানে গিয়েছি কিন্তু এরকম ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান কোনদিন দেখিনি। ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে দেখে আমি খুব আনন্দিত হয়েছি। শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য এ রকম উৎসবের গুরুত্ব অনেক। পরবর্তীতে এ রকম আয়োজনে আমি সার্বিক সহযোগিতা করবো। বিশেষ অতিথি জনাব মোঃ আজিজুল ইসলাম দুলাল বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের সদস্যদের এ ধরনের প্রয়াসকে আমি সাধুবাদ জানাই। পরে প্রধান অতিথি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

রিপোর্ট: রিপটন পুরাকায়স্থ, এম.এস. সুলতান, অশোক বিশ্বাস, দেওয়ান মোঃ এনায়েতুল ইসলাম, জামিল আকতার, সুব্রত কুমার পাল।

আমরা করব জয়-৬৬

Advertisements

One comment

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে।