চতরায় ভিন্নস্বাদের ইয়ূথ লিডার্স ট্রেনিং

গত ২৫শে অক্টোবর আমি আর টুটুল ভাই রংপুরের চতরা বিজ্ঞান কারিগরী কলেজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। বৃষ্টি হচ্ছিলো সেই সাথে শীতও পড়েছে। শীতের কাপড় না নিয়ে যাওয়ায় তাই পস্তাতে হচ্ছিলো। পৌছেঁই দেখি অধ্যক্ষ রব স্যার ও সদস্যরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। প্রাথমিক পরিচয় পর্বের শেষে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হলো কলেজ হোস্টেলে। পরদিন ঘুম থেকে উঠেই দেখি ইয়ূথ সদস্যরা কলেজ ক্যাম্পাসের নার্সারী ও সবজি ক্ষেতে কাজ শুরু করেছে। আমি তো অবাক ট্রেনিং এর প্রস্তুতি না নিয়ে তারা এই কাজ করছে! পরে রব স্যার জানালেন ওরা ইউনিটের সদস্য আর ট্রেনিং এর জন্যই তারা এই ৪ দিন কলেজে অবস্থান করবে। আর সংগঠনে সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার ফলে তাদের চেতনায় যে পরিবর্তন ঘটেছে তার ফলে তারা সকলেই স্বেচ্ছায় পড়ার অবসরে কলেজের নার্সারী ও সবজিক্ষেতে কাজ করে। সবজি ক্ষেত থেকে উৎপন্ন সবজি কলেজ হোস্টেলের ছাত্ররা খায়। হোস্টেলের রুম কম থাকায় ছাত্ররা কলেজের অফিস রুমের ফ্লোরে ঘুমায়, আবার অনেকে হাওয়া খানায়ও ঘুমায়। ওহ, হাওয়াখানার কথাতো বলাই হয় নি! হাওয়াখানা হলো হাওয়া খাওয়ার জন্য তৈরি এক উঁচু মঞ্চ, পূর্ব ইউনিটের সদস্যরা এটি তৈরি করেছে। এখানে খাওয়া তৈরি হয়েছেও মজা করে। খরচ বাঁচানোর জন্য এবং অংশগ্রহণকারীদের সার্বিক অংশগ্রহণের জন্য ২য় বর্ষের ছাত্ররা রান্না থেকে শুরু করে সব কাজ করে। বৈরী আবহাওয়া থেকে শুরু করে সব প্রতিকূলতা পার করে আমরা সবাই রোজ প্রশিক্ষণ রুমে একত্রিত হই। ট্রেনিং এ আমরা সবাই একটি পরিবারের মতো হয়ে ছিলাম। ৩য় দিনে বিকেলে আমরা সবাই নীলদরিয়াতে বেড়াতে যাই। সব শেষ দিনে সার্টিফিকেট বিতরণের মাধ্যমে এই ট্রেনিং এর সমাপ্তি ঘটে। আমাদের এই ট্রেনিং এ প্রশিক্ষণ সহায়ক হিসেবে ছিলেন টুটুল ভাই, জামিল, রাতুল, হাসান, রিপন। আর ট্রেনিং এর ২য় দিনে সবার সাথে দেখা করতে হাজির হয়েছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রাজেশ দে। সব মিলিয়ে দারুণ এক ট্রেনিং এর অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে এলাম আমরা।

মোঃ জামিল আক্তার, ঢাকা

স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফল সারাজীবনের জন্যে নির্ধারণ করে দেয় একজন মানুষ মেধার দিক থেকে কোন মাপের এবং সারাজীবন সে সেই মেধার কী পরিমাণ দাম পাবে। অর্থাৎ জীবনে কতটা অর্থোপাজর্ন সে করবে। কাজেই, পরীক্ষার ফল মানে টাকা, ভালো ফল মানে বেশি টাকা। কাজেই পরীক্ষায় অবৈধভাবে নকল করে কেউ যদি পরীক্ষার ফল ভালো করে তাহলে আসলে সে করলো টা কী? আসলে সে তো সারাজীবনের জন্যে একটা মোটা পরিমাণ টাকাই চুরি করল। এই অর্থে নকল আসলে চুরি। অর্থ আত্মসাৎ। কাজেই পরীক্ষার হলে অবাধে নকল চলতে দেওয়া; আর একটা অন্যায়, দুর্নীতিপরায়ণ, অবৈধ আর হতাশাগ্রস্থ সমাজের জন্ম দেওয়া এ্ই কথা – যে সমাজ যোগ্য ও অবদানক্ষম মানুষের নৈরাশ্যপূর্ণ দীর্ঘশ্বাসে, ক্ষোভে, হতাশায় এবং আত্মধ্বংসে অপচিত। এইজন্য উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সব দেশের পরীক্ষাব্যবস্থাকে যথাসম্ভব ত্রুটিহীন আর দুর্নীতিমুক্ত করে তুলতে হয়।”

(আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ-এর নিষ্ফলা মাঠের কৃষক অবলম্বনে) – সংগ্রহে: অশোক বিশ্বাস
আমরা করব জয়-৬৫

Advertisements

One comment

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে।