স্বেচ্ছাব্রতীদের এয়োদশ মিলনমেলা

dsc06320

মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের একটি স্বতন্ত্র পতাকা দিয়েছে। কিন্তু একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আমরা আমাদের স্বাধীনতাকে আজও অর্থবহ করে তুলতে পারিনি। আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক সমাজের উপযোগী করে সমাজ বিনির্মাণের সৈনিক করতে পারিনি। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত, বাংলাদেশের প্রতিটি সামাজিক পরিবর্তনে এদেশের ছাত্র-ছাত্রীদের ভূমিকা অপরিসীম। ছাত্র-ছাত্রীদের অতীত গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার পুনরাবৃত্তিতে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশ ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করে। সূচনা পর্ব থেকেই তার কার্যক্রমের মাধ্যমে সারাদেশে অন্যতম একটি স্বেচ্ছাব্রতী ছাত্র সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার মনে করে ক্ষুধামুক্ত, আত্মনির্ভলশীল সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে ছাত্র-ছাত্রীদের আত্মবিকাশ প্রয়োজন। প্রয়োজন এ ক্ষুধামুক্তির আন্দোলনে তাদের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ও অবদান। দেশব্যাপী সামাজিক দায়বদ্ধতার মানসিকতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার এর ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের বিকশিত করার মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।
dsc06359
ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার এর জন্মলগ্ন থেকে প্রতিবছর একটি করে জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে সারা বছরের কার্যক্রমের বিশ্লেষণ ও পরবর্ত বছরের জন্য প্রত্যাশা নির্ধারণ করা হয়। এ সম্মেলন হল সারা দেশের সকল ইউনিটের শত শত সদস্যের মিলনমেলা। জাতীয় সম্মেলনের ইতিহাস ঘাঁটতে গেলে দেখা যায় এর প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়টি অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্ল্যানিং একাডেমি মিলনায়তনে যথাক্রমে ১৯৯৬, ১৯৯৭ এবং ১৯৯৮ সালে। এরপর চতুর্থ জাতীয় সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় এলজিইডি মিলনায়তন, ঢাকায় ১৯৯৯ সালে, পঞ্চমটি অনুষ্ঠিত হয় সমাজকল্যাণ মিলনায়তন, আগারগাঁও-এ ২০০০ সালে। ষষ্ঠ ও সপ্তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাভারে ব্র্যাকের ট্রেনিং সেন্টারে যথাক্রমে ২০০১ ও ২০০২ সালে। সময়ের ধারাবাহিকতায় অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সম্মেলন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র মিলনায়তন, সাভারে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ বছরও এয়োদশ জাতীয় সম্মেলন গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র মিলনায়তনেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলনে ২০০৮ সালের কার্যক্রম বিশ্লেষণ, বিতর্ক, কুইজ, উপস্থিত বক্তৃতা এবং ২০০৯-১০ সালের জন্য প্রত্যাশা নির্ধারণ করা হবে। এ প্রত্যাশার আলোকে সুনির্দিষ্ট কর্ম-পরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হবে। একদল সম্মানিত ব্যক্তির সাথে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশ এর সম্পর্ক জোরদার হবে।
copy-of-dsc06391
গুণগত ও পরিমাণগত পর্যায়ে সাংগঠনিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বিগত কয়েক বছর ধরে সম্মেলনের সার্বিক ্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছাত্র-ছাত্রীরাই পালন করে আসছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলন কমিটি এ বছরের সম্মেলন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করবে। এ বছর সম্মেলন কমিটির আহ্বায়ক খুলনা বি এল কলেজের হেদায়েত হোসেন এবং যুগ্ম আহবায়ক নোয়াখালীর স্বপ্না ও ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজের অলক সরকার। সম্মেলনে সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একদল মেধাবী, স্বেচ্ছাব্রতী ছাত্র সংগঠক অংশগ্রহণ করে থাকে। এছাড়াও দেশের স্বনামধন্য শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রাজনীতিক, গবেষকসহ সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকেন। আমরা বিশ্বাস করতে চাই- ত্রয়োদশ জাতীয় সম্মেলন সকলের জন্য আরো আনন্দঘন, উৎসবমুখর এবং তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে- যা প্রকৃতঅর্থেই ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্তির গণজাগরণের প্রচেষ্টাকে অর্থবহ ও গতিশীল করবে।

দ্বাদশ সম্মেলনের স্মৃতিময় কয়েকটি মুহূর্ত

dsc063381 dsc066541
dsc066651 dsc064971

আমরা করব জয়-৬৫


Advertisements

About John Coonrod

Executive Vice President, The Hunger Project
This entry was posted in অন্যান্য, কার্যক্রম and tagged . Bookmark the permalink.

One Response to স্বেচ্ছাব্রতীদের এয়োদশ মিলনমেলা

  1. পিংব্যাকঃ আমরা করব জয় - ৬৫তম সংখ্যা

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে।