শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভা

গত ২৬ জুলাই ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার করিমগঞ্জের আয়োজনে দেহুন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ে “শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন – জনাব আনীর চৌধুরী, ড. মঞ্জুরুল হক, সালেহউদ্দীন চৌধুরী, জয়ন্ত কর, সাদেক আহমেদ স্বপন, এনায়েত ও লিমন। সভায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সহকারি শিক্ষকবৃন্দ, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় অভিভাবকবৃন্দ এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। এতে দেহুন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব ইতিহাস, গৌরবোজ্জ্বল ফলাফল এবং বর্তমানে বিদ্যালয়ের সমস্যা, চাহিদা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের অসমঞ্জস্যতাসহ মানহীন শিক্ষার কারণ ও শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীরা তাদের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে জানায়, “বিদ্যালয়ে শিক্ষকের অভাব রয়েছে। এছাড়া অনেক শিক্ষক ক্লাসে মোবাইল ব্যবহার করেন। ফলে পাঠদানে অসুবিধা হয়। একইসাথে ক্লাসে একটি বিষয়ে পুরোপুরি ধারণা দেবার পরিবর্তে শিক্ষকরা প্রাইভেট পড়তেই বেশি উৎসাহ প্রদান করে থাকেন।”

প্রধান শিক্ষক জনাব এম.এ. ওয়াহাব বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি স্বীকার করে নিয়ে বলেন, “বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ শিক্ষক নেই। যারা আছেন তাদের অনেকেই গুণগত দিক থেকে দুর্বল, যার ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান সুবিধাজনক নয়। বিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও করা সম্ভব হয় না। ফলে শিক্ষার্থীদের মেধা বা প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর ক্ষেত্রে একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।”

শিক্ষকদের পক্ষে বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারি শিক্ষক জনাব ওসমান গনি বলেন, “বিদ্যালয়ে শিক্ষকের প্রচুর অভাব। শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও নিয়মিত এবং সময়মত বিদ্যালয়ে আসেন না, ঠিকমত তদারকি করেন না, ফলে অন্যান্য শিক্ষকরা ফাঁকি দেবার সুযোগ পায়। যার ফলে দিন দিন অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়াও আরো একটি বড় সমস্যা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাথে প্রধান শিক্ষকের সম্পর্ক ভালো নয়।”

অভিভাবকদের মতামতে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা উঠে আসে। এ সকল সমস্যার মধ্যে শ্রেণী কক্ষের অভাব, হিসাবে অসচ্ছতা, গুণগত শিক্ষকের অভাব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা না করা; শিক্ষাদানের যথাযথ কৌশল অবলম্বন না করা, অভিভাবকদের যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন না করা, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্যাদি প্রদান না করা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

ম্যানেজিং কমিটির পক্ষে সভাপতি গিয়াসউদ্দীন বলেন, “বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যথেষ্ট শিক্ষিত ও বিদ্বান ব্যক্তি কিন্তু যথেষ্ট কর্মঠ নন। তিনি দায়িত্বে অবহেলা করেন। নিয়মিত স্কুলে আসেন না, নিয়মিত তদারকি করেন না। কিছুটা একক সিদ্ধান্তমুখি। নিজে যা ভাবেন সেটাই করতে চান, এখানে অন্য কারও মতামতকে তিনি গুরুত্ব দেন না। আশা করি পরবর্তী সময়ে তিনি এ সকল বিষয়সমূহকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নেবেন।”

অতিথিদের মধ্যে জনাব আনীর চৌধুরী বলেন, “বিদ্যালয়ে যেহেতু অনেক সমস্যা তাই কৌশলে এর সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। এখানে ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের জাগরণ ইউনিট নামে একটি ইউনিট আছে। এছাড়াও এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে পড়া শিক্ষার্থীদের দিয়ে শিক্ষকের সমস্যা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতেও দূর করা যেতে পারে। তিনি প্রধান শিক্ষককে উদ্দেশ্য করে বলেন, তার দায়িত্ব অবশ্যই সঠিকভাবে পালন করতে হবে। এছাড়া শিক্ষকদের পাঠদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদেরকে পাঠদানে স্পেশালিস্ট এবং আরো মনোযোগী হতে হবে। একইসাথে ম্যানেজিং কমিটিকে চিন্তাশীল সঠিক ব্যবস্থাপক হতে হবে। বাকী সমস্যা সরকার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর যৌথ প্রচেষ্টায় সমাধানের চেষ্টা করা যেতে পারে।”

অতিথি জনাব সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আজকের এই মত-বিনিময় সভা কোন নালিশের সালিশ সভা নয়। তাই মনের ক্ষোভ দূর করে বিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে সবাইকে। যাতে অত্র বিদ্যালয়ের পুরানো ঐতিহ্যকে অক্ষুন্ন রাখা যায়।”

উপরিউক্ত মতবিনিময় সভার সমাপনী ঘোষণা করতে গিয়ে সভার সভাপতি করিমগঞ্জ উপজেলার নির্বাহি অফিসার বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করতে হবে। শিক্ষকদের সঠিকভাবে মানসম্মতভাবে পাঠদান করাতে হবে। প্রধান শিক্ষককে আজকের অভিযোগ অনুযায়ী শুধরে যেতে হবে। ম্যানেজিং কমিটিকে হতে হবে গুড ম্যানেজার। একইসাথে তাদেরকে কলুষমুক্ত ও স্বচ্ছ হয়ে উঠতে হবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বিদ্যালয়ের সকল কাজে তদারকি করতে হবে এবং জবাবদিহিতা আদায় করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিদ্যালয় সম্পর্কে যে কোন অভিযোগ যে কেউ আমাকে ফোনে অথবা সরাসরি জানাতে পারেন। আমি তার যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এছাড়া তিনি বিদ্যালয়ের স্বার্থে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।”

আলোচনা শেষে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি আগামী পাঁচ মাসের জন্য বিদ্যালয়ের উন্নয়নকল্পে পরিকল্পনা তৈরি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

আমরা করব জয়-৬৪

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s