ময়মনসিংহে গুণীজন সম্মাননা ও মেধা বিকাশ পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ

participent-copy

সামাজিক গণজাগরণের একটি ্ত হলো এতে সমাজের সকল স্তরের সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে সম্পৃক্ত করা ৷ সারাদেশব্যাপী ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গারের সদস্য ও উজ্জীবকবৃন্দ ক্ষুধামুক্তির লক্ষ্যে যে গণজাগরণের নেতৃত্ব দিচ্ছে তাতে প্রতিনিয়তই সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ সম্পৃক্ত হচ্ছে ৷ ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার ময়মনসিংহ সদর ইউনিট এ প্রক্রিয়ায় নতুন একটি মাত্রা সংযুক্ত করেছে ৷

মাত্রাটি হলো ময়মনসিংহের তিন জন গুণী ব্যক্তিকে স্বীকৃতি জানাতে আয়োজন করেছে ‘গুণীজন সম্বর্ধনা’ অনুষ্ঠান ৷ সাহিত্য ও সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং সাংবাদিকতায় ময়মনসিংহে বিশেষ অবদান রেখেছেন এমন তিনজন ব্যক্তিকে গুণীজন হিসেবে নির্বাচন করা হয় ৷ গুণীজনরা হলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার বিশ্বাস (সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে), বিশিষ্ট শিক্ষক জনাব আমীর আহমেদ চৌধুরী রতন (শিক্ষায়) এবং জনাব জিল্লুর রহমান খান (সাংবাদিকতায়) ৷ গুণীজন নির্বাচন উপলক্ষে গঠন করা হয় একটি বিশেষ কমিটি ৷ গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠিত হয় ২৮ জানুয়ারি ২০০৫ বিকাল ২ টা থেকে ময়মনসিংহের খামারবাড়ি মিলনায়তনে ৷

3-copy

গুণীজন সম্মাননায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ও বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী অধ্যাপক সুমিতা হোম রায়, অধ্যাপক মোঃ আবু তাহের, ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশের ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর মানিক মাহমুদ ও দশম জাতীয় সম্মেলন কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল আলীম শাহ্ ৷

অধ্যাপক সুমিতা হোম রায় তাঁর বক্তব্যে বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের নিজস্ব তহবিল থেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ ধরনের সম্মাননা প্রদান একটি বিরল ঘটনা ৷ আমি নিশ্চিত, এ সম্মাননা যাঁরা পেলেন, অন্য যে কোন সম্মাননার চেয়ে এতে তাঁরা বেশি সম্মানিত বোধ করবেন ৷ কারণ এটি নি:স্বার্থ ও হৃদয় থেকে সম্মান প্রদান ৷ আমার বিশ্বাস, এর ফলে তাদের অবদানের গতি আরো গতিশীল হবে ৷ আবু তাহের বলেন, ময়মনসিংহ ইউনিটের এ কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে ৷ তিনি উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমরা ইয়ূথ এন্ডিং হাঙ্গার-বাংলাদেশের সদস্যদের কাছে অনেক কিছু শিখতে পারো ৷ মানিক মাহমুদ শিক্ষার্থী প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার কথা বলেন ৷ এরপর অতিথিবৃন্দ গুণীজনদের হাতে সম্মমনা ক্রেস্ট তুলে দেন ৷

একই অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয় মেধা বিকাশ পরীক্ষা ২০০৪ এর পুরস্কার বিতরণ ৷ এবার ছিল বিজয়ী ও অভিভাবকদের উপচে পড়া ভীড় ৷ সকাল ১১ টা থেকেই শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা আসতে শুরু করে ৷ এছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-কলেজ এবং পত্রিকা থেকে আসেন শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ ৷

পুরস্কার বিতরণীর আগে বিজয়ীরা উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ৷ তাদের স্বত:স্ফূর্ত উপস্থাপনা সকলকে মুগ্ধ করে ৷ অনেকেই বিশ্বাসই করতে পারে নি যে এই বয়সী শিশুরা উপস্থিত বক্তৃতা করতে পারবে ৷ কিন্তু তাদের ধারণা পাল্টে দেয় ৷ একই সাথে যারা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় নি, তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস দৃঢ় হয় ৷

এরপর শুরু হয় পুরস্কার বিতরণের পালা ৷ এবছর প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী মোট পঞ্চাশ জন প্রতিযোগীকে পুরস্কার প্রদান করা হয় ৷ পুরস্কার পাবার পর বিজয়ীদের মধ্য থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করে নবম শ্রেণীর ছাত্রী সুমী পাল, চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী হৈমন্তী কামরুন সঞ্চারী, ইসরার ইসরাইল মনীষা ৷ তারা ভবিষ্যতেও এ প্রতিযোগিতা অব্যাহত রাখতে আয়োজকদের প্রতি অনুরোধ জানায় ৷

এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দশম জাতীয় সম্মেলন কমিটির আহ্বায়ক সিলেট জালালাবাদ ইউনিট সদস্য আব্দুল আলীম শাহ্, জাতীয় সম্মেলন কমিটির সদস্য সত্যজিত্‍ ঘোষ সংগঠনের কাজে অবদানের জন্য এবং ময়মনসিংহ ইউনিটের সহ:কোঅর্ডিনেটর মিতা সাহাকে এস এস সি পরীক্ষায় কৃতিত্বের জন্যও শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয় ৷ অনুষ্ঠানের সকল ব্যয় আয়োজক ইউনিট বহন করে ৷ পুরো অনুষ্ঠানের সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে মেধা বিকাশ পরীক্ষা পরিচালনা বোর্ডের সচিব ইয়ূথ একটিভিষ্ট সুব্রত কুমার পাল ৷

আমরা করব জয়-৪৫

Advertisements

About John Coonrod

Executive Vice President, The Hunger Project
This entry was posted in অন্যান্য, কার্যক্রম and tagged . Bookmark the permalink.

One Response to ময়মনসিংহে গুণীজন সম্মাননা ও মেধা বিকাশ পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ

  1. পিংব্যাকঃ আমরা করব জয়-৪৫

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে।