আমার মায়ের অবস্থা ততটা ভাল নয় – রফিকুল ইসলাম সরকার

special-issue-4428
বন্ধুগণ, আমি কথা না বলে একটা গল্প বলি ৷ জার্মানীতে একটি মেলাতে যায় মা ও একটি ছোট্ট ছেলে ৷ সেখানে গিয়ে ছেলেটি হারিয়ে যায় ৷ মাকে খুঁজছে ছেলে, আর মা খূঁজছে ছেলেকে ৷ লোকে ছেলেকে বললো, তুমি পুলিশ স্টেশনে যাও ৷ ছেলেটি সেখানে গেল ৷ সেখানে ছেলেকে বিভিন্ন মহিলার ছবি দেখিয়ে বলা হচ্ছে, তোমার মা কি এ রকম? ছেলেটি বলছে, না ৷

এরপর সবচেয়ে সুন্দর একটি মহিলার ছবি দেখিয়ে বলা হলো, তোমার মা কি এরকম? ছেলেটি বললো আমার মা এর চেয়েও সুন্দর ৷ এরপর বিশ্ব সুন্দরীর ছবি দেখানো হলো ৷ সে বললো এরচেয়েও সুন্দর আমার মা ৷ এরপর দেখা গেল ছেলেটির মা দৌড়ে আসছে ছেলেটিকে নিতে ৷ তার মার একটি চোখ নেই, গাল দাবা ৷ ছেলেটি মার দিকে তাকিয়ে আছে ৷ সে দৌড়ে গিয়ে মার কোলে উঠল এবং তাকে জড়িয়ে ধরে সবাইকে বলছে, আমার মায়ের দিকে তাকাও, এতো সুন্দর মা কি কোথাও আছে? মার মুখে চুমু খেয়ে সে চিত্‍কার করে বলে, এমন সুন্দর মা কি তোমরা কখনো দেখেছো?

আমার দেশও আমার মা ৷ আমার দেশের মতো সুন্দর দেশ কোথাও নাই ৷ বর্তমানে আমার মায়ের অবস্থা ততটা ভাল নয় ৷ ড. আতিউর রহমান ও হাসান আজিজুল হক একই কথা বলে গেলেন ৷ তাঁরা মানুষের অফুরন্ত সম্ভাবনার কথা বলেছেন ৷ তাঁরা নিজেকে জয় ও অন্যকে যুক্ত করে অসম্ভবকে সম্ভব করার কথা বলেছেন ৷ সমাজে হতাশা না ছড়িয়ে প্রত্যাশার আলোকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবার কথা বলেছেন ৷ আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁদেরকে জানি ৷ সমাজের অসঙ্গতিসমূহ তাঁদেরকে পীড়া দেয় ৷ তোমাদের মতো কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটুক তাই তাঁরা চান ৷ এজন্য তাঁরা সুপ্ত শক্তিকে জাগিয়ে তোলার সবকিছু করার চেষ্টা করেছেন ৷ কবি কাজী নজরুল বলেছেন:
“মিলি পরমাণু পর্বত হয়, সিন্ধু বিন্দু মিলে / মানুষ শুধু্ই মিলিবে না কিরে, মিলনের এ নিখিলে, / জগতে ছড়ানো বিপুল শক্তি কুড়াইয়া তিলে তিলে /আমরা গড়িব নতুন পৃথিবী সমবেত মহিমায়” ৷

এই সমবেত শক্তিই আমাদের প্রয়োজন ৷ আমরা ধ্বংস হচ্ছি, কারণ আমরা একত্রিত নই, সংঘবদ্ধ নই ৷ তবে অধৈর্য্য হলে চলবে না ৷ মানুষ একত্রিত হতে শুরু করেছে ৷ তবে এজন্য আমাদের আরো কিছুদিন হয়তো অপেক্ষা করতে হবে এবং সচেতনভাবে মানুষকে জাগিয়ে তোলার কাজটি করতে হবে ৷ মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে এবং সমবেত প্রত্যাশার ভিত্তিতে পরস্পর পরস্পরকে জড়িয়ে ধরবে ৷ সমাজে অগ্রগতি ও পরিবর্তনের ঢেউ লাগা শুরু হয়েছে ৷ যারা শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত এই ঢেউ তাদের দৃষ্টিগোর নাও হতে পারে ৷ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ সত্যটি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন:
“বাহির পানে তাকায় না যে কেউ / দেখে না যে বান ডেকেছে, / জোয়ার জলে উঠছে প্রবল ঢেউ” ৷

যারা চোখ কান বন্ধ রেখে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে, জনগণের কথা বলে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করছে, তারা এই ঢেউয়ের তোড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে ৷

আমরা করব জয়-৪৪

Advertisements

One comment

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে।