অংশগ্রহণমূলক কর্ম-গবেষণা হলো সাঁতার কাটার মতো – মনোয়ারুল ইসলাম

special-issue-4418

সবাইকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ৷ আমার বয়স হয়েছে, অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে আজ জীবনের এ পর্যায়ে এসেছি ৷ আমার আবার তোমাদের বয়সে ফিরে যেতে খুব ইচ্ছে করে ৷ ইচ্ছা হয় এজন্য যে, আমাদের সময় যে সমাজটা ছিল সে সমাজটাকে আমি তাকালে দেখি নানা দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়ছে ৷ এ সমাজটাকে যদি নতুনভাবে গড়ার কাজ করতে পারতাম!  এখন যে সুযোগটা তোমাদের সামনে রয়েছে!

আমি আজকে অনেক আনন্দ এবং উত্‍সাহ বোধ করছি ৷ আমাদের ছাত্র সমাজের অনেকে আজকে নতুনভাবে মানুষকে সংগঠিত করার জন্য কাজ করছে ৷ আমার সংগঠন রিসার্চ ইনিসিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব) দারিদ্র্য কিভাবে ঘোচানো যায় এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে ৷ বাংলাদেশের মতো অনেক উন্নয়নশীল দেশে দরিদ্র একটা বিরাট সমস্যা ৷ তো দরিদ্র কিভাবে মোচন করা যায়, এর কর্মকৌশল কি, পদ্ধতি কি হবে, এটা কোথায় কিভাবে শুরু হবে, কারা করবে, কাদের নিয়ে করতে হবে, এরকম অনেক প্রশ্ন থাকে ৷

যেমন, গ্রামীণ বাংকের একটা পদ্ধতি আছে ৷ তোমাদের সংগঠনের একটা পদ্ধতি আছে ৷ আমাদের সংগঠন একটি নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে ৷ এই গবেষণা এখনো চলমান সুতরাং এ গবেষণা সম্পর্কে এখনো শেষ কথা বলার সময় আসে নি ৷ তবে এই গবেষণার মূল কথাটি আমার আগেই তোমাদের কিছু সহকর্মী বন্ধু খুব সুন্দরভাবে বিশ্লেষণ করেছে ৷ আমি বলি এটা অনেকটা সাঁতার কাটার মতো ৷ কারণ সাঁতারে না নামা পর্যন্ত তুমি বুঝতে পারবে না কিভাবে সাঁতার কাটতে হয় ৷ তাই সেখানে ঝুঁকি আছে আবার সফল হলে আনন্দও আছে ৷ এটাই হলো অংশগ্রহণমূলক কর্ম-গবেষণা ৷

তোমরা একটা কথা বলেছো যে, আত্মশক্তিতে বলীয়ান ব্যক্তি কখনো দরিদ্র থাকতে পারে না ৷ আসল কথা হলো এটাই৷ ডাক্তারও বলেন, আমাদের মস্তিস্কে যে শক্তি আছে আমরা তার প্রায় ৯০ ভাগই ব্যবহার করি না ৷ যারা যথেষ্ট মাথা খাটানোর কাজ করেন তারাও শতকরা ১০-১৫ভাগ ব্যবহার করেন না ৷ একইভাবে আমাদের শরীরের ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য ৷ সমস্ত বিষয়টিই নির্ভর করে আমি কিভাবে কাজটাকে গ্রহণ করছি, আমার মানসিকতা কোন পর্যায়ে প্রস্তুত আছে ৷

আমরা কাজ করতে গিয়ে দেখেছি দরিদ্র সম্পর্কে মানুষের মধ্যে কতকগুলো সাধারণ ধারণা প্রচলিত রয়েছে ৷ আমাদের সমাজের দরিদ্রদের মধ্যে যারা দরিদ্র তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি খুব কম ৷ সবাই তাদের শোষন করতে চায় ৷ সুতরাং তাদের কাছে কেউ গেলেই প্রথমে মনে করে, উনি আবার কি উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছেন ৷ আমাদেরকে কিভাবে ব্যবহার করবেন, এমন একটা অবিশ্বাস থাকে ৷ ফলে তোমাকে অনেক যাচাই বাছাই করে তারা তোমাকে গ্রহণ করবে ৷

আবার এই সাধারণ মানুষগুলো নিজেদের সমস্যার কথা বলতে কিছুটা লজ্জা পায় ৷ কাজেই তোমাকে এমন আন্তরিকতার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে যে, তারা খোলামেলা আলোচনা করতে সাহস পায় ৷ তখন তোমার ভূমিকা হবে উজ্জীবকের অর্থাত্‍ তার সাথে থাকা, সে যেন নিজেকে তুলে ধরতে পারে সেজন্য সহযোগিতা করা ৷ একজন ছাত্র হিসেবে এই উজ্জীবক হওয়ার তালিকায় তোমরা আছ প্রথম সারিতে ৷ রিইব এর পক্ষ থেকেও আমরা তোমাদের সহযোগিতা করতে চাই ৷ আমি তোমাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই ৷

আমরা করব জয়-৪৪

Advertisements

One comment

  1. […] <!– /* Font Definitions */ @font-face {font-family:Vrinda; panose-1:1 1 6 0 1 1 1 1 1 1; mso-font-charset:0; mso-generic-font-family:auto; mso-font-pitch:variable; mso-font-signature:65539 0 0 0 1 0;} @font-face {font-family:SolaimanLipi; panose-1:2 0 5 0 2 0 0 2 0 4; mso-font-charset:0; mso-generic-font-family:auto; mso-font-pitch:variable; mso-font-signature:-2147385341 0 0 0 1 0;} /* Style Definitions */ p.MsoNormal, li.MsoNormal, div.MsoNormal {mso-style-parent:””; margin:0in; margin-bottom:.0001pt; mso-pagination:widow-orphan; font-size:12.0pt; font-family:”Times New Roman”; mso-fareast-font-family:”Times New Roman”; mso-bidi-font-family:Vrinda;} @page Section1 {size:8.5in 11.0in; margin:1.0in 1.25in 1.0in 1.25in; mso-header-margin:.5in; mso-footer-margin:.5in; mso-paper-source:0;} div.Section1 {page:Section1;} –> অংশগ্রহণমূলক কর্ম-গবেষণা হলো সাঁতার

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে।